গরুবালি পৌঁছে মালিকদের প্রথম programme ছিল চিন্তাফু টপ এ ট্রেক করে আবার গরুবালিতে ফেরা। মালিকেরা সবাই ঠিক করলো যে যার রুকস্যাক ঘরে রেখে খালি পিঠে চিন্তাফু যাবে। তবে আমার মালিককে সেই যেacclimatization এর ভূতে ধরেছে তা এখনো ছাড়েনি। সে ঠিক করলো আমাকে পিঠে নিয়েই সে উঠবে। এর মধ্যে ঘটেছে আরেক কান্ড ভিক্টর তার মোবাইল ফোন যে মালিকের কাছে রাখতে দিয়েছে তা সে বেমালুম ভুলে গেছে। যথারীতি জয়শ্রী কে জিজ্ঞেস করলো তার ফোন কোথায়? জয়শ্রী ও দেখলো সত্যিই তো তার কাছে তো ফোন নেই। জয়শ্রী চারিদিকে খুঁজতে লাগলো ফোন। এদিকে ভিক্টর একধার থেকে ওকে দোষ দিয়ে যাচ্ছে ওর ফোন হারাবার জন্য। আরো যা তা সব বলে যাচ্ছে। জয়শ্রী এবার কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে মালিক সেখানে এসে দেখে এই কান্ড চলছে। সব শুনে পকেট থেকে ফোন বার করে ভিক্টরের হাতে দিয়ে বলে,
- এই
তো, তুই তো আমায় রাখতে দিলি।
এটা দেখামাত্র জয়শ্রীর চোখ আগুনের মতো জ্বলে উঠলো। ভিক্টরের চুলের মুঠি ধরে এলোপাথাড়ি ঘুসি চালাতে আরম্ভ করে। ভিক্টর কোনও মতে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে, তাতেও রক্ষে নেই। জয়শ্রী একটা ঢিল তোলে ছুঁড়ে মারার জন্য কিন্তু অতি উত্তেজনা বশতঃ সেটা ছুঁড়তে গিয়ে পাথরটা পেছনে পড়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে রাগ শান্ত হয়। বাকি সব কটা ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখছিল আর জয়শ্রীকে সাবাসি দিচ্ছিল। ভিক্টর পরে সবার কাছে ফিরে আসার পর বলে -
- সালা
হারামি গুলো।
আমি মালিকের পিঠে চড়ে রওনা দিলাম চিন্তাফুর উদ্দেশ্যে। যাবার আগে গোলুকে বললাম,
-কমলিকে
একটু দেখে রাখিস, তোর বোনের মতো হয়।
ও একবার বিস্ময়কর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে কি যেন একটা বলতে চাইল কিন্তু মুখে বললো,
- আচ্ছা
ঠিক আছে।
গরুবালি থেকে চিন্তাফু 4 কিমি ওঠা। প্রথম দিকটাতে অল্প ঘাসের রাস্তা আছে তারপর পাথুরে রাস্তা।
মালিক তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সবার আগে যাত্রা শুরু করলো কিন্তু 15 মিনিটের মধ্যেই সবার পেছনে চলে এলো এবং যত সময় এগোলো বাকিদের থেকে দূরত্বও বাড়তে লাগলো। মালিকের সাথে পেছনে পার্থদা আর শরদিন্দু হাটছিল। কিছুদূর যাবার পর মালিকের চোখে মুখে দেখলাম একটা অস্বস্তির ভাব। একটু এগিয়ে আমাকে পিঠ থেকে নামিয়ে আমার ভেতর থেকে toilet paper এর roll বার করে পাশে একটা ঝোপের মধ্যে গিয়ে ঢুকলো। বুঝলাম গতকালের ছাং ধোকা দেয়নি, শুধু সারা দিতে একটু দেরি করেছে মাত্র। মালিক আমাকে পিঠে নিয়ে সবার শেষে চিন্তাফু টপে পৌঁছে দেখলো সবাই অপেক্ষা করছে। ওখানে পৌঁছে বুঝলাম যায়গাটার নামের সার্থকতা। এখানে এলে সত্যিই সব চিন্তা ফুঃ হয়ে উড়ে যাবে, এত সুন্দর view. এখান থেকে Mt. Everest স্পষ্ট দেখা যায়। ফেরার সময় আবার মালিকের উল্টো case. তখন তাকে পায় কে? নামার সময় সে তরতর করে সবার আগে নামে। আমি মালিককে বলেছি তোমার উন্নতি ধীর গতিতে হলেও পতনের প্রবনতা খুব দ্রুত।
মালিক তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সবার আগে যাত্রা শুরু করলো কিন্তু 15 মিনিটের মধ্যেই সবার পেছনে চলে এলো এবং যত সময় এগোলো বাকিদের থেকে দূরত্বও বাড়তে লাগলো। মালিকের সাথে পেছনে পার্থদা আর শরদিন্দু হাটছিল। কিছুদূর যাবার পর মালিকের চোখে মুখে দেখলাম একটা অস্বস্তির ভাব। একটু এগিয়ে আমাকে পিঠ থেকে নামিয়ে আমার ভেতর থেকে toilet paper এর roll বার করে পাশে একটা ঝোপের মধ্যে গিয়ে ঢুকলো। বুঝলাম গতকালের ছাং ধোকা দেয়নি, শুধু সারা দিতে একটু দেরি করেছে মাত্র। মালিক আমাকে পিঠে নিয়ে সবার শেষে চিন্তাফু টপে পৌঁছে দেখলো সবাই অপেক্ষা করছে। ওখানে পৌঁছে বুঝলাম যায়গাটার নামের সার্থকতা। এখানে এলে সত্যিই সব চিন্তা ফুঃ হয়ে উড়ে যাবে, এত সুন্দর view. এখান থেকে Mt. Everest স্পষ্ট দেখা যায়। ফেরার সময় আবার মালিকের উল্টো case. তখন তাকে পায় কে? নামার সময় সে তরতর করে সবার আগে নামে। আমি মালিককে বলেছি তোমার উন্নতি ধীর গতিতে হলেও পতনের প্রবনতা খুব দ্রুত।
ফিরে এসে আমি গোলুকে জিজ্ঞেস করলাম,
-কমলি
কোথায়?
-গোলু
:
ঘরে বসে আছে।
-আমি
:
স্যাম কোথায়?
-গোলু
:
ওই যে বারান্দায় হোৎকার সাথে।
- কেমন
লাগলো সান্তাফু টপ?
- আমি
:
সান্তাফু নয় চিন্তাফু। ভালোই লাগলো।
- স্যাম
: Thats Great!
ও হ্যাঁ শোনো, তোমার friend ঘরে একা একা বসে আছে কারও সাথে ঠিক ঠাক কথাও বলছেনা। দেখো একবার কি হয়েছে।
এই বলে হোৎকাকে আবার কি সব বোঝাতে লাগলো।
আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম আমি স্যমকে যেমনটা ভেবেছিলাম ও বোধহয় তেমনটা নয়।
এদিকে তখন মালিকদের দুপুরের খাবারের বন্দোবস্ত চলছে। মালিকেরা ফিরে এসে সামনের একটা উঠোন মতো যায়গায় খোশগল্প শুরু করলো। এতক্ষনে জয়শ্রীর রাগ এবং অভিমান অনেকটাই কমে এসেছে, তবে একেবারে নির্মূল হয়নি। আমিও আর সুযোগ পাইনি কমলির সাথে আলাদা করে কথা বলার।
মালিকদের দুপুরের খাবারে সেদিন ছিল ভাত, ডাল, পাপড়, ডিমের ঝোল আর পাপড়। এই গরুবালি যায়গাটা খুব ছিমছাম আর সুন্দর এটা নেপালের অন্তর্গত খুব ছোট একটা গ্রাম। খুব বেশী পরিবার এখানে থাকেনা। সান্দাকফু যাবার জন্য এই route টা যেহেতু খুব বেশী পরিচিত নয় তাই এখানে বাইরের লোক খুব একটা সচরাচর আসে না। তবে Mt. Evarest দেখার শখ হলে non trekker রাও এখানে আসতেই পারে। সেক্ষেত্রে 4 কিমি উঠে চিন্তাফু টপে পৌঁছাতেই হবে নইলে Everest এর দেখা মিলবে না। তবে Mt. Everest দর্শনের জন্য এটুকু তো করা যেতেই পারে। এখানে লোক জনের সমাগম কম হলেও তাতে এখানকার লোকেদের আতিথেয়তায় কোনও ভাটা পড়েনি। এখান থেকেই মালিকদের trekk এর local guide সান্তাজী মালিকদের সাথে join করে। সে এই route এ বহুবার trekk করিয়েছে। তাই এখানকার অলি গলি রাস্তাঘাট তার নখদর্পনে।
দুপুরে খাবার পর মালিকেরা ঘরে ঢুকে যে যার বিছানায় বসে আবার খোশগল্পে মত্ত হলো। মালিকদের ঘরটা ছিল একটা বড় ঘর যেখানে 5 টা বিছানা রাখা। মালিকদের জন্য আরও একটা ঘরের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু সবাই একসাথে থাকবে বলে তারা এই ঘরেই সবাই থাকবে বলে ঠিক করে। সবার জন্য আলাদা আলাদা বিছানার ব্যবস্থা করা ছিল কিন্তু একসাথে থাকতে হলে এবার একটা বিছানা দুজন কে share করতে হবে। এদের মাঝে মাঝে সুখে থাকতে ভুতে কেন কিলায় বুঝতে পারিনা বাবা! একটা খাটে মৈনাক, একটাতে ভিক্টর আর জয়শ্রী, একটাতে মালিক আর গোলাম, একটাতে সৌমিক আর দীপ আর একটাতে অনির্বাণ। আর আমরা যে যার মালিকের পায়ের কাছে ছিলাম।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হলো, এর মাঝে এক রাউন্ড চা পকোড়া হয়ে গেছে। আমরা সবাই তখন ঘরের মধ্যেই ছিলাম আর নীচে kitchen এ বসেছিল পার্থদা, শরদিন্দু আর সান্তাজী। এমন সময় নীচ থেকে ডাক এল মালিকেরা সব kitchen গেল আগুনের ধারে। ঠান্ডা তখন বেশ ভালোই ছিল। আমাদের নীচেই যেহেতু kitchen টা ছিল তাই সেখানকার সব কথাই শোনা যাচ্ছিল। মালিকরা নীচে গিয়ে দেখে পার্থদা, শরদিন্দু আর সান্তাজী Roxy খুলে বসেছে। Roxy হলো ওখানকার পাহাড়ি whiskey. সৌমিক আর অনির্বাণ সেখানে ভাগ বসাতে বসে গেল। মালিক আর মৈনাক বললো সে তোংবা খাবে যেটা গতকাল রাতে বলেছিলাম। বাকিরা বললো কিছু খাবে না। তবে মালিক পরে বলেছিল তার তোংবার অর্ধেকের বেশী ভিক্টরই সাবার করে।
জয়শ্রী বসেছিল উনুনের কাছে আগুনের ধারে। কিছুক্ষন পর শুনতে পাই ওখানে শরদিন্দু র আওয়াজ। মানে ও নিজের যায়গা ছেড়ে জয়শ্রীর কাছে গেছে। গিয়ে বলছে,
- তুই
কষ্ট পাস না সব ঠিক হয়ে যাবে?
- জয়শ্রী
:
কি ঠিক হবে?
- শরদিন্দু
:
ওই যে ভিক্টর যা করলো আজ।
- জয়শ্রী
:
ও কিছু না, এসব হয়েই থাকে।
- শরদিন্দু
:
না তুই কাঁদছিস।
- জয়শ্রী
: (
অবাক হয়ে) কোথায় কাঁদছি আমি?
- শরদিন্দু
:
না আমি দেখতে পাচ্ছি তুই কাঁদছিস।
- জয়শ্রী
:
মহা মুস্কিল তো।
সৌমিক এতক্ষন বোধহয় এটা লক্ষ্য করছিল, আর Roxy ও তার খাদ্যগুণের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছিল। সে শরদিন্দু কে উদ্দেশ্য করে বললো,
- আজ
থেকে না তোমাকে আমি একটা নতুন নাম দিলাম
- শরদিন্দু
:
কি?
- সৌমিক
:
বুদ্ধি
- শরদিন্দু
: (
একটু হেসে) কেন?
- সৌমিক
:
কারন তোমার খুব বুদ্ধি।
সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। শরদিন্দুও এবার একেবারে চুপ হয়ে গেল। ওখানে যে যার মতো
অল্প বিস্তর ধুনকি তে মশগুল ছিল। কিছুক্ষন পর শুরু হলো গানের আসর। প্রসঙ্গত বলে রাখি মালিক আর জয়শ্রী দুজনেই খুব ভালো গান গায়। মালিকতো আবার গান লেখে এবং সুর ও করে। কাউকে নিজে মুখে জানাতে লজ্জা পায়, আমাকেও বলেছিল না বলতে কাউকে, আপনাদের জানিয়ে রাখলাম আর কাউকে বলবেন না। যাইহোক একের পর এক ফরমায়েসী গানের request আসতে লাগলো আর মালিকেরা একের পর এক গান গাইতে পাগলো। মৈনাক কোথা থেকে একটা গিটারও যোগার করে ফেলেছিল। সব মিলে জমে উঠেছিল গরুবালি Musical Night.
অল্প বিস্তর ধুনকি তে মশগুল ছিল। কিছুক্ষন পর শুরু হলো গানের আসর। প্রসঙ্গত বলে রাখি মালিক আর জয়শ্রী দুজনেই খুব ভালো গান গায়। মালিকতো আবার গান লেখে এবং সুর ও করে। কাউকে নিজে মুখে জানাতে লজ্জা পায়, আমাকেও বলেছিল না বলতে কাউকে, আপনাদের জানিয়ে রাখলাম আর কাউকে বলবেন না। যাইহোক একের পর এক ফরমায়েসী গানের request আসতে লাগলো আর মালিকেরা একের পর এক গান গাইতে পাগলো। মৈনাক কোথা থেকে একটা গিটারও যোগার করে ফেলেছিল। সব মিলে জমে উঠেছিল গরুবালি Musical Night.
কিছুক্ষন পর মালিক আর ভিক্টরের খেয়াল হয় যেহেতু প্রচন্ড ঠান্ডা তাই gloves এর খুব দরকার। ওপরের ঘরটাতে যেহেতু আলোর ব্যাবস্থা নেই তাই মালিক কে বলে ওর আর মালিকের রুকস্যাকটা নীচে নিয়ে আসতে। ভিক্টরের gloves টা রাখা ছিল জয়শ্রীর ব্যাগে। ইতিমধ্যে সৌমিকেরও একই খেয়াল হয়। অগত্যা মালিকের ওপর দায়িত্ব পড়ে আমাকে কমলি কে আর স্যাম কে নীচে নিয়ে যাবার। যে যার gloves বের করে নেবার পর আমাকে আর কমলি কে বারান্দায় এনে রাখে।
মালিক চলে যাবার সাথে সাথে, কমলির প্রথম প্রশ্ন
-কি
হয়েছে তোর?
- আমি
:
কোথায় কিছু না তো।
- কমলি
:
কাল থেকে কথা বলছিস না কেন ঠিক করে?
- আমি
:
তাতে তোর কিছু যায় আসে?
- কমলি
:
দেখ আমি জানিনা তোর মনে কি চলছে, বা তুই আমার থেকে কি expect করছিস। আমি শুধু একটা কথাই বলবো তোর সাথে কথা বললে আমার ভালো লাগে। আর কথা না বলে এরকম গাম্বাটের মতো থাকলে আমার খুব বিরক্ত লাগে। যদি কিছু বলার থাকে তো আজ বলে ফেল এরপর বলতে চাইলে আমি হয়তো নাও শুনতে পারি।
আমি এটার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। আসলে জীবনে কখনোই কোনও কিছুর জন্য আমি প্রস্তুত থাকিনা, যখন যেটা যেভাবে আমার কাছে আসে তখন সেটা সেভাবেই গ্রহন করে নেই। একে introvert বলে? নাকি escapist বলে? নাকি lack of confidence বলে, তা
একমাত্র ব্যগেশ্বরই জানেন! কিন্তু এক্ষেত্রে এইsituation তো আমার নিজেরই তৈরি করা তাই এর মোকাবিলা আমাকেই করতে হবে। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলতে যাব এমন সময় সৌমিক তার ব্যাগ এনে আমাদের পাশে রেখে দিয়ে গেল।
- স্যাম
: Hey guys whats up?







No comments