default | grid-3 | grid-2

Post per Page

এক রুকস্যাকের আত্মকথা (পর্ব ৩)

মেঘে ঢাকা তারা


আমি আর কমলি আবার আলাদা হয়ে গেলাম। infact আমি কমলি আর স্যাম তিনজনে এখন তিন ঘরে। আমি একদিকে কমলির কথা ভাবছি আরেক দিকে ভাবছি স্যাম কমলির কথা ভাবছে কিনা, আবার ভাবছি কমলি কার কথা ভাবছে? আমার না স্যামের?... সে ছিল এক রাত কমলির কথা চিন্তা করে সারা রাত কিছুতেই ঘুম আসছিল না, আর এই এক রাত যেন আর শেষ হতেই চাইছেনা। আসলে আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখেছি মুহূর্ত যত বিভীষিকাময় হয় তাকে অতিক্রম করতে তত বেশী সময় লাগে।

মালিক তখনও slipping bag এর ভেতর থরথর করে কাঁপছে। জোরে জোরে শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। ওদিকে অনির্বাণ এপাশ ওপাশ করে জাচ্ছে। বাইরে তখনও জোরে হাওয়া বইছে। আর আমি ভেতরে অপেক্ষায় বসে আছি কখন ভোর হয়। সেদিন মনে হচ্ছিল ভাগ্যিস ঈশ্বর আমাদের এই দৈহিক ইন্দ্রিয়গত অনুভূতিগুলি দেয়নি! তাই এই কষ্টগুলো আমাদের সহ্য করতে হচ্ছে না। কিন্তু মালিক বলতো কষ্ট কি শুধু শরীরের হয় রে পাগলা? মানসিক কষ্ট এর চাইতেও ভয়ংকর। শারিরীক কষ্টের তো তবু নিরাময় আছে পরেরটির কোনও নিরাময় নেই শুধু সময়ের ওপর ছেড়ে দিতে হয়। মালিক আরও একটা কথা বলেছিল, লেখার শুরুতে এত জ্ঞান দিলে লোকে পালাবে। তাই এই জ্ঞানমার্গে আর বেশীদূর এগোলাম না।

মানসিক কষ্ট যে কতটা ভয়ংকর হয় তা সেদিন প্রথমবার মাইমাজুয়ার রাতে ফিতায় ফিতায় টের পেয়েছিলাম (আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাইনা) এদিক সেদিক আবোল তাবোল চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে সারা রাত ধরে। আর এদিকে ঘরের মধ্যে চলছে নাক ডাকার আওয়াজ। সেকি সাংঘাতিক আওয়াজ!!! সবের মধ্যেই ভোরের দিকে একটু তন্দ্রা মতো এসছিল। কিছুক্ষন পর কোথা থেকে যেন তারস্বরে ভেসে এল,


"মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে যে নাচে

তাতা থৈথৈ, তাতা থৈথৈ, তাতা থৈথৈ।"

ঘুম টুম পুরো চটকে গেল। দেখি অনির্বাণ সাথে করে একটা Bluetooth Speaker নিয়ে এসেছে আর তাতে এই সাত সকালে রবীন্দ্রসংগীত চালিয়েছে।

কিছু কিছু মানুষ আছেন যাদের সংস্কৃতিমনষ্কতা ঘরের বাইরে কোথাও ঘুরতে এলে দ্বিগুন হারে উথলে ওঠে। মালিক এটাকে বলে সাংস্কৃতিক আদিখ্যেতা। আর বাঙালীদের মধ্যেই এই লক্ষ্মণ সর্বপেক্ষা প্রবল ভাবে দেখা যায়। মালিক দেখলাম কম্বল থেকে একবার মুখ বার করে দেখলো, তারপর আবার কম্বলের ভেতর সেঁধিয়ে গেলো। ঘরের তৃতীয় ব্যক্তিটির কোনও হেলদোল ছিল না। সে তখনও ত্রিমাত্রিক ছন্দে G Sharp স্কেলে নাক ডেকে চলেছে। এই আওয়াজে (ভাগ্যিস আমি রুকস্যাক, মানুষ হলে রবীন্দ্রনাথের গান কে আওয়াজ বলার জন্য এতক্ষনে শমন জারি হয়ে যেত) হোৎকা আর গোলুরও ঘুম ভেঙে দিয়েছিল। ওরাও দেখলাম মিটিমিটি চোখে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে। আগেই বলেছিলাম আমাদের পাশের ঘরেই কমলি আর ওর মালিকেরা ছিল। আমি মনে মনে যা আশংকা করছিলাম, বাস্তবে ঠিক তাই হলো।

কিছুক্ষন পর দরজায় লাথি। অনির্বাণ যথারীতি গিয়ে দরজাটা খুললো। ভিক্টর দাড়িয়ে আছে, চোখ থেকে তখনও ঘুমের ভাব কাটেনি। দরজা খুলতেই,

-ভিক্টর : সালা চিত্তের নৃত্য যদি এখনই বন্ধ না করো, তোমার পেছনে তাতা থৈ থৈ করবো বলে দিলাম।

বলে ওখান থেকে চলে গেল। আমি ভাবলাম একবার কমলির কথা জিজ্ঞেস করি। কিন্তু ওই মূর্তি দেখে আর সাহস করলাম না। মালিক এতক্ষনে উঠে পড়েছে।

-অনির্বাণ : ( স্বাগোতক্তির স্বরে বললো) সালা Uncultured লোকজন।

বলে এসে speaker এর volume টা আরও বাড়িয়ে দিল। তারপর মালিকের দিকে তাকিয়ে দুজনে একটা হাসি দিল। আমি, গোলু আর হোৎকাও হেসে উঠলাম। ঘরের তৃতীয় ব্যক্তিটির তখনও কোনও হেলদোল নেই, শুধু নাক ডাকার scale টা G Sharp থেকে B Flat নেমে এসেছে।

সবাই এতক্ষনে উঠে পড়েছে। যেহেতু মানুষ অপেক্ষা বাথরুম অনেক কম তাই কে কার আগে যাবে সেই নিয়ে শুরু হলো চুলোচুলি। মালিক বাথরুম থেকে বেরোনোর পর মুখটা খুব একটা সন্তোষজনক লাগলো না। আমাকে ঘরে এসে বললো,

-বুঝলি ! কাল রাতের ছাং টা ধোকা দিয়ে দিল মাইরি।

মালিক রা বলছিল সেদিন Breakfast নাকি দারুন খাবার ছিল, ঝাল ঝাল আলুর তরকারি রুটি আচার আরও কি কি সব। যে যার মতো breakfast করার পর চললো একপ্রস্থ ছবি তোলার পালা। এদিকে বাইরে গাড়ি ready ছিল পরবর্তী গন্তব্যের জন্য। মালিক আগেই আমাকে পিঠে চাপিয়ে নিয়েছে। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, চড়াই পথে মালিক একটানা বেশীক্ষন হাটতে পারেনা, মাঝে অনেকবার দাঁড়াতে হয়। কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে তারপর আবার ওঠা শুরু করে। তবু মালটার সব যায়গায় যাওয়া চাই! এই কারনে যতক্ষণে সবাই ready হয়ে যায় ততক্ষনে acclimatization করার জন্য আমাকে নিয়ে সামনের কিছুটা রাস্তা হেটে ওঠার জন্য এগিয়ে যায়। কিছুদূর গিয়ে আবার গাড়ির কাছে ফিরে এসে দেখলাম ততক্ষনে সবাই ready. আমরা যথারীতি ওপরে চালান হয়ে গেলাম। পরবর্তী গন্তব্য গরুবালি।

এবার ফিরি কমলির কথায়। সকালে দু একবার কোখাচোখি হয়েছে ঠিকই তবে বিশেষ কোনও কথা হয়নি। গাড়ির ছাদে আমি একদিকে বসে আছি। আরেক দিকে কমলি আর গোলু। স্যাম কে দেখছি আজ কমলি কে ছেড়ে হোৎকা কে নিয়ে পড়েছে। হোৎকা কে বোঝাচ্ছে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে গাছ গাছালির প্রকৃতির কেমন পরিবর্তন আসে। কখন পাইন গাছ দেখা যায়, কখন মোটা বাঁশ গাছের সারি আসে, কখন সরু বাঁশের ঝাড় দেখতে পাওয়া যায় আবার কোন উচ্চতা থেকে রডোডেন্ড্রন হয় এসব বোঝাচ্ছিল আর হোৎকা হাঁ করে সব গিলছিল। এদিকে গোলু কমলি কে বলছিল আজ সকালের bluetooth speaker রবীন্দ্রসংগীতের কথা। কমলি শুনে হেসে বললো,

- তাই নাকি? আমি তো কিছু টের পাইনি। সেই যে রাতে ঘুমিয়েছি তারপর মালকিন ডেকে তুলেছে সকালে।

ওর হাসিটা চোখে পড়তেই ভেতরের বাদিকের পকেটটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো। আর ঘুমের বৃত্তান্ত শুনে বুঝলাম কতটা relaxed আছে। এদিকে স্যাম সকালে বলছিল নাকি এত ভালো ঘুম অনেকদিন ঘুমায়নি। আর আমি এদের কথা ভেবে ভেবে সারাটা রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি। সময় নিজেকে মনে হলো একটা #&*@

গাড়ি মাঝে একটা ছোট Lake এর মতো যায়গায় দাঁড়ালো। মালিকেরা সবাই নেমে গেল Lake টার কাছে। ফেরার সময় দেখি পার্থদা ঝোপের মধ্যে একটা গাছ থেকে ছোট ছোট লাল লাল কিসব ফল পেড়ে দিচ্ছে আর সবাই তা মহা আনন্দে খাচ্ছে। গাড়ির ভেতর ভিক্টর ওর মোবাইল ফোনটা জয়শ্রী পকেটে রাখতে দিয়েছিল। lake নামার সময় ওটা জয়শ্রী পকেট থেকে গাড়ির seat পড়ে যায়। সেটা ভিক্টর দেখে আর মালিককে সেটা রাখতে বলে। এটা মালিক আমাকে পরে বলেছিল। গাড়ি আবার রওনা দিল গরুবালির উদ্দেশ্যে। কমলি আর গোলু টুকটাক গল্প করছে আর স্যাম তখনও হোৎকাকে জ্ঞান দিয়ে যাচ্ছে। আর আমি করছি নিজেই জানিনা। এখানে একমাত্র odd কেউ থাকলে তা ছিলাম আমি। একবার ভাবলাম নাঃ এবার কথা বলি গিয়ে কমলির সাথে। আবার ভাবলাম ওর মনে কি চলছে কে জানে আমি কথা না বলাতে ওর যদি কিছু নাই এসে গিয়ে থাকে তাহলে আগে থেকে কেন যেচে কথা বলতে যাবো? এই BGO সালা মারবে একদিন (Bag দের EGO কে BGO বলে)






No comments

Error Page Image

Error Page Image

Oooops.... Could not find it!!!

The page you were looking for, could not be found. You may have typed the address incorrectly or you may have used an outdated link.

Go to Homepage