সেদিন আড্ডায় এমনি কথার ছলেই ও আমাকে বলল,
-
আমাদের ঘুরে বডানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু একটা লেখ না! আমাদের অভিজ্ঞতা
তো নেহাত কম নেই।
প্রথমে ব্যাপারটাকে খুব একটা পাত্তা দেইনি, তারপর ভাবলাম আমাদের মহান কিছু অভিজ্ঞতা আছে এটা ঠিক, আর সেটা লোকজনকে জানালে তাদের ভালো লাগবে ঠিকই, কিন্তু আগেতো কোনোদিন লিখিনি। কিছুটা সাহস করেই লেখার সিদ্ধান্তটা নিলাম। খুবই কাঁচা হাতের লেখা হলেও ঘটনাগুলো সব পরিপক্ক। আমি জিজ্ঞেস করলাম,
প্রথমে ব্যাপারটাকে খুব একটা পাত্তা দেইনি, তারপর ভাবলাম আমাদের মহান কিছু অভিজ্ঞতা আছে এটা ঠিক, আর সেটা লোকজনকে জানালে তাদের ভালো লাগবে ঠিকই, কিন্তু আগেতো কোনোদিন লিখিনি। কিছুটা সাহস করেই লেখার সিদ্ধান্তটা নিলাম। খুবই কাঁচা হাতের লেখা হলেও ঘটনাগুলো সব পরিপক্ক। আমি জিজ্ঞেস করলাম,
- ঠিক আছে, কোনটা দিয়ে শুরু করবো বল ।
- দ্বিতীয় বারের সান্দাকফু অভিজ্ঞতা টা বল সবাইকে । সান্দাকফু এখানে অনেকেই গিয়েছে কিন্তু এই rote এ খুব বেশি কেউ গিয়েছে বলে মনে হয়না ।
- ঠিক আছে চল...
- দ্বিতীয় বারের সান্দাকফু অভিজ্ঞতা টা বল সবাইকে । সান্দাকফু এখানে অনেকেই গিয়েছে কিন্তু এই rote এ খুব বেশি কেউ গিয়েছে বলে মনে হয়না ।
- ঠিক আছে চল...
মেরে পাস আও মেরে দোস্তো, এক কিসসা শুনো
- এ আবার কি? গান ধরলি কেন
?
- এটা গল্পে আলাদা মাত্রা এনে দেবে, কুকমির ডাটা গুড়ো মশলার মতো। 😉
- এটা গল্পে আলাদা মাত্রা এনে দেবে, কুকমির ডাটা গুড়ো মশলার মতো। 😉
ব্যাপারটার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১২ তে, আমরা তৃতীয়বার যেবার গোর্খ্যে গেলাম । সেখানকার সরকারি trekkers hut এর care taker রামপ্রসাদজী র সাথে সখ্যতাটা আমাদের অনেকদিন আগে থেকেই ছিল । রামপ্রাসাদজী সেবার আমাদের প্রথমবার এই রাস্তাটা সম্পর্কে বলে । রিম্বিক বাজার থেকে পুরো জঙ্গল এর ভেতর দিয়ে নেপালে টার - জোড়েপোখারি - বিকেভঞ্জন হয়ে সান্দাকফু, পথে জোড়েপোখারি তে একরাত তাবু, বিকেভঞ্জন এ একরাত তারপর সান্দাকফু । সান্দাকফু থেকে ফালুট এর কাছে middow তে তাবুতে একরাত । সেখান থেকে সিংহলীলা top হয়ে টোরিফুলে তে তাবু । সেখান থেকে থুলধাপ হয়ে গোর্খ্যে ।
পরিকল্পনা টা বাস্তবায়িত হতে প্রায় তিন বছর লেগে গেল ।
২০১৫ র জানুয়ারী র শেষ দিকে যখন আমরা কেউই ঠিক করতে পারছিলামনা যে কোথায় যাবো, তখন ও বললো চল বেরিয়ে তো পড়ি তারপর নয় ভাবা যাবে কোথায় যাবো ।
- কি ও ও করে যাচ্ছিস? নামটা তো বল, ওনারা চিনবেন কি করে?
ও আচ্ছা, ওর নাম হলো Victor Banerjee, আমার ছোটবেলার বন্ধু, একটি চরম পাহাড়খোর মাল । পারলে ছোট থেকেই হামাগুড়ি দিয়ে পাহাড়ে চড়ে । এই গল্পটা আমাদের দুজনের । তবে এটা গল্প হলেও এর প্রতিটা ঘটনা কিন্তু সত্যি।
জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে আমরা উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসে করে রওনা দিলাম শিলিগুড়ি।
টিকিট confirm ছিলনা (কোনোবার ই থাকেনা) তাই সারা রাত toilet এর পাশে বসে সকালে পৌঁছলাম নিউ জলপাইগুড়ি । ঠিক ছিল পাহাড়ের যেখানকার গাড়ি আগে পাবো সেখানেই যাবো ।
টিকিট confirm ছিলনা (কোনোবার ই থাকেনা) তাই সারা রাত toilet এর পাশে বসে সকালে পৌঁছলাম নিউ জলপাইগুড়ি । ঠিক ছিল পাহাড়ের যেখানকার গাড়ি আগে পাবো সেখানেই যাবো ।
অদৃষ্ঠে যখন সান্দাকফু ছিল তখন মানেভঞ্জন এর গাড়িই আগে পাবো সেটাই স্বাভাবিক l রাস্তায় যেতে যেতে আমরা ঠিক করলাম এবার রামপ্রাসাদজীর route টা try করবো । মানেভঞ্জন পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় বিকেল হয়ে গেল । শুনলাম রিম্বিক বাজার এর শেষ গাড়ি বেরিয়ে গেছে ।
এর মধ্যে হয়ে গেছে আরেক কীর্তি । আমরা যেদিন শিলিগুড়ি পৌঁছাই সেদিন গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন এর প্রথম কান্ডারি সুভাষ ঘিসিং মারা যান । আমরা ঠিক করেছিলাম রাস্তায় কোনো ATM থেকে টাকা তুলে নেবো । কিন্তু সুভাষ ঘিসিং মারা যাওয়ার জন্য সমস্ত বাজার, দোকানপাট এমনকি ATM পর্যন্ত বন্ধ । এদিকে আমাদের হাতে limited টাকা ।
যাই হোক মানেভঞ্জন পৌঁছে আমাদের প্রথমবারের সান্দাকফুর guide সাজা জি র সাথে দেখা । সে আমাদের সস্তায় একটা homestay ঠিক করে দিলো । জায়গাটা বড় অদ্ভুত ছিল, ওখান থেকে দুটো বাড়ি পরেই নেপাল । বিকেলবেলা আমরা acclimatization এর জন্য চিত্রে থেকে ঘুরে এলাম (৪ কিমি up ৪ কিমি down). ফিরতে ফিরতে প্রায় সন্ধে ৭ টা । এসে কিছুক্ষন বসে dinner তারপর ঘুম ।
পরদিন সকাম ৬ টা নাগাদ রিম্বিক বাজার এর প্রথম গাড়ি । সেই সময়মতো উঠে btrakfast করে, দার্জিলিং এর special কমলালেবু খেতে খেতে উঠলাম রিম্বিক বাজার এর গাড়িতে । গাড়িতে একজন জানালো রিম্বিক বাজারে ATM পেয়ে যাবো, তখন পাশ থেকে আরেকজন জানাল সেখানে কোনো ATM নেই । যাইহোক এই দোটানার মধ্যে দিয়েই প্রায় ১০:৩০ নাগাদ পৌঁছে গেলাম রিম্বিক বাজার । সেখানে পৌঁছে দেখলাম যা ভয় পেয়েছি ঠিক তাই l ওখানে একটাই ব্যাঙ্ক
, Central Bank Of
India
এবং no ATM service. কেলো করেছে
!!!
কেয়া করে কেয়া না করে, ইয়ে ক্যাইসি মুশকিল হায়
এবার কি করি? ওখানে পৌঁছে কোথাও যে থাকার জন্য ঘর নেবো তার পয়সাটাও নেই তখন আমাদের কাছে । ব্যাঙ্কের ঠিক পেছনেই ছিল হোটেল Green Hill. আমরা সটান সেখানে উপস্থিত হলাম ওটা চালায় এক aunty. ওনাকে বললাম আমাদের পরিস্থিতি । উনি বললেন ওনার husband এর একাউন্ট আছে এই ব্যাঙ্কে, আমরা যদি ওনার একাউন্ট এ টাকা জমা করে দিতে পারি তাহলে উনি আমাদের cash তুলে দিতে পারবেন । আমরা সাথে সাথে আমাদের এক বন্ধুকে uncle এর account number দিয়ে বললাম কিছু টাকা জমা করে দিতে । আধা ঘন্টার মধ্যে টাকা জমা পরে গেল l uncle তৎক্ষণাৎ ব্যাঙ্কে গিয়ে cash টাকাটা তুলে আমাদের হাতে দিলেন । উফফ ধড়ে প্রাণ পেলাম!!!
আমরা হোটেল Green Hill এ Check in করলাম । Breakfast এর টেবিলে আলোচনায় বসলাম পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে । আমাদের প্রধান সমস্যা যেটা ছিল সেটা হলো যেহেতু আমরা মোটে দুজন তাই তাবু ভাড়া করা আর porter hire করা অনেক খরচসাপেক্ষ ব্যাপার । ওখানকার কিছু স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানতে পারলাম রিম্বিক বাজার থেকে সান্দাকফু প্রায় ২৪ কিমি পথ এবং পুরোটাই অল্পবিস্তর ওঠা এবং মাঝে আর কোনো থাকার জায়গা নেই । অনেক ভেবেচিন্তে আমরা ঠিক করলাম এটা ছাড়া আমাদের উপায় নেই, একদিনেই সান্দাকফু পৌঁছাতে হবে l সেদিন আমরা রিম্বিক বাজারে রয়ে গেলাম ।
হাতে যখন সময় আছে, আমরা ঠিক করলাম আগামীকালের পথ টা একটু প্রাথমিক ভাবে তদন্ত করে আসি এতে খানিকটা acclimatization ও হয়ে যাবে । বেরিয়ে পড়লাম দুজনে, মোটামুটি আড়াই তিন কিমি যাবার পর একটা ফরেস্ট বাংলো মতো চোখে পড়লো । ভাবলাম খোঁজ নিয়ে যাই ভবিষ্যতে এলে থাকা যেতে পারে, কিন্তু অনেক খোঁজা খুঁজি করেও আশেপাশে কাউকে দেখতে পেলাম না । সেদিন প্রায় পাঁচ কিমি পর্যন্ত ঘুরে এসেছিলাম । তারপর lunch time এ হোটেল এ ফিরে আসি ।
স্নান টান সেরে যখন খেতে বসি তখন দেখি ফুলকপি দিয়ে মাছের ঝোল আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে । ওরকম জায়গায় aunty র হাতের ওই মাছের ঝোল আজও আমাদের মুখে লেগে আছে । আমার স্ত্রী এর হাতের রান্নায় এখন সেরকম স্বাদ পাই। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি আমার বউএর হাতের রান্না দুর্দান্ত। সে যখন খুন্তি টা কোনও সদর্থক কারনে ধরে তখন তা থেকে সব সব সময়ই ভালো কিছু বেড়িয়ে আসে। আর কি কি কারনে হাতে খুন্তি থাকতে পারে তা বিবাহিত পুরুষেরা সহজেই অনুমান করতে পারবেন । আর যদি না পারেন তাহলে আপনার সুখ দেখে আমার হিংসা হচ্ছে । যাইহোক, দুপুরে কিছুক্ষন আড্ডা মারার পর বিকেলের টিফিনের সময় হয়ে গেল । লাল চা সাথে গরম গরম পকোড়া, বিকেলটা জমে গেল । আমরা aunty কে বলে গেলাম কালকের জন্য কোনো লোকাল গাইড এর সাথে কথা বলে রাখতে । বলে আমরা একটু হাঁটতে বেরোলাম । রিম্বিক বাজার থেকে শ্রীখোলার দিকে গেলাম (যে রাস্তা দিয়ে আপনারা সান্দাকফু থেকে ফেরেন) গাড়ির রাস্তা ধরে । সন্ধেবেলা ঠান্ডা আবহাওয়ায় হাঁটতে বেশ ভালোই লাগছিলো ।
ঘন্টা দুয়েক পর আবার ফিরে এলাম হোটেলে । রাস্তায় কালকের জন্য কিছু চকলেট আর কমলালেবু কিনে নিলাম । ফিরে আরেক পর্ব চা হলো । ততক্ষনে আমাদের গাইড এসে উপস্থিত হয়েছে । ওনার থেকে পুরো রাস্তাটার একটা পূর্বাভাস নিয়ে নিলাম । ওখানেই গল্প করতে করতে dinner এর সময় হয়ে গেল l রাতে ছিল রুটি আর মাংস, এটাও লা জবাব ছিল । খেয়ে দেয়ে ঘরে কিছুক্ষন আড্ডা মারার পর ঘুম ।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি গতকাল যে গাইড এর সাথে কথা হয়েছিল সে যেতে পারবেনা, তার বদলে তার জামাই কে পাঠিয়েছে । যাইহোক আমরা breakfast সেরে রাস্তার জন্য পাউরুটি আর ডিমের ওমলেট প্যাক করিয়ে aunty কে দুগ্গা দুগ্গা জানিয়ে ভক্তেজীর (আমাদের গাইড এর নাম) সাথে রওনা দিলাম । আমরা সকাল আটটা নাগাদ যাত্রা শুরু করি
।
মুশাফির হুঁ ইয়ারো, না ঘড় হ্যায় না ঠিকানা, মুঝে চলতে যানা হ্যয়

রাস্তার প্রথম তিন চার কিমি একটা পাহাড়ি গ্রাম্য বস্তির মধ্যে দিয়ে যেতে হয় । তারপর থেকে জঙ্গল শুরু হয় । ভক্তেজীর দেখানো shortcut ধরে আমরা এগোতে থাকি । প্রথমে আসে বাঙালে টার, তারপর নেপালে টার, এগুলো সমতল মাঠের মতো জায়গা, তাবু করার জন্য আদর্শ । এরপর আসে জোড়ায়ে পোখরি, এখানে দুটো পাশাপাশি ঝিল । খুব সুন্দর জায়গা, জঙ্গল এর মধ্যে এরকম নিস্তব্ধ পরিবেশে একটা ঝিল সব মিলিয়ে কিছুক্ষন জিরিয়ে নেবার জন্য আদর্শ জায়গা । কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে আরো দুই কিমি মতো এগিয়ে দুপুরের খাবার টা সেরে নিলাম ।
এরপর কিছুক্ষন এগিয়ে আমাদের সামনে পড়লো ছোট ছোট লাল ফলওয়ালা এক ধরণের গাছ । চা বাগানের রং যদি সবুজ না হয়ে লাল হয় তাহলে যেমন দেখতে হবে ঠিক সেরকম দেখাচ্ছিল । এর মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতে হবে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে । মন ভোরে গেল । ওটা পার করে একটা মাঠ মতো জায়গা পড়লো, অনেকটা হেলিপ্যাড এর মতো লাগলো । সেখান থেকে কিছুদূর এগিয়ে বাদিক ঘুরতেই আমরা পৌঁছে গেলাম বিকেভঞ্জন । তখন বিকেল হয়ে গাছে । আমরা ঠিক করেছিলাম যদি বেশী tired হয়ে যাই তাহলে বিকেভঞ্জনেই থেকে যাব, কারণ ২০ কিমি পথ উঠে আসা চাট্টিখানি কথা নয়। তবে পৌঁছে যেটা বুঝলাম আমাদের ব্যাটারিতে এখনো খানিকটা চার্জ আছে। আরও কিছুক্ষন টানা যাবে। সাথে করে নিয়ে আসা জল অনেক্ষন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিলো, গলা তখন শুকিয়ে কাঠ। বিকেভঞ্জন থেকে একটা 7Up কিনে গলায় ঢাল্লাম। গলা দিয়ে যখন নামছে মনে হচ্ছিলো অমৃতসুধা বয়ে যাচ্ছে। মিনিট পনেরো বসার পর ধীরে সুস্থে রওনা দিলাম সান্দাকফুর দিকে
।
এক অজনবি হাসিনা সে ইঁউ মুলাকাত হো গেই। ফির কেয়া হুয়া ইয়ে না পুছো
সামনে আর মাত্র ৪কিমি রাস্তা বাকি ৷ তবে এই ৪ কিমি যে কি, সেটা যারা গেছে তারাই জানে ৷ পুরো রাস্তাটাই খাঁড়া ওঠা। আমরা গা এলিয়ে হাঁটছিলাম। গাইডকে বলে দিলাম তুমি আগে গিয়ে ঘর এর ব্যবস্থা করো, আমরা পেছনে আসছি। পথে যেতে যেতে এক নিউজিল্যান্ড এর পর্যটক এর সাথে দেখা। সেই যুবতী নিউজিল্যান্ড থেকে একা একাই বেড়িয়ে পরেছে ভারত ভ্রমনে, সাথে গাইড নিয়ে চলছে সান্দাকফু। একে দুই অবিবাহিত যুবক চলছি, তায় অমন পরিবেশে বিদেশিনী যুবতী। স্বাভাবিক ভাবেই বুঝতে পারছেন পরিস্থিতি টা কি হতে পারে। সেই সময়ে route টা একেবারেই ফাঁকা ছিল গাড়ী বা লোকজনের ভীড় একেবারেই ছিলনা। আমরা রাস্তার ধারে একটা মাঠ মতো যায়গায় বসে বিদেশিনীর সাথে গল্প জুড়লাম। আগ্রহটা যে আমাদের তরফ থেকেই বেশী ছিল তা বলাই বাহুল্য। সেই মুহুর্তে রামপ্রসাদজী, সান্দাকফু, রিম্বিক বাজার, ফালুট, জোরায়ে পোখারি, টাকা নেই, ভক্তেজী সব ভুলে গেছিলাম। সম্বিত ফিরল, যখন বিদেশিনীর গাইড তাড়া লাগালো সন্ধে হয়ে যাচ্ছে। জালিম দুনিয়া!!!
যাই হোক আবার ফিরে আসি সান্দাকফুর পথে। আমরা গাড়ির রাস্তা ছেড়ে একটা shortcut ধরে অনুমানের ওপর এগোতে থাকলাম। কিছুদুর যাবার পর সবকিছু কেমন গুলিয়ে গেল। আমরা সান্দাকফুর যেই বাড়িটাকে ধ্রুবতারা করে এগচ্ছিলাম, সেটা হঠাৎ দৃষ্টি থেকে উধাও হয়ে গেছে। আমরা এতক্ষন খেয়াল করিনি। এদিকে ততক্ষনে আঁধার নামা শুরু হয়ে গিয়েছে। কি ভাগ্যে রাস্তায় এক স্থানীয় লোকের সাথে দেখা, তাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম আমরা নেপালের পথে এগোচ্ছি। সান্দাকফুর রাস্তা আমরা ডানদিকে ফেলে এসেছি। যাঃ সালা!!!
যাই হোক আবার একটা উঁচু টিলা পেরিয়ে খানিকটা হেঁটে এসে গাড়ির রাস্তায় পড়লাম। সান্দাকফুর ট্রেকারস হাটে যখন গিয়ে পৌঁছাই তখন বেশ অন্ধকার। দেখি ভক্তেজী আমাদের জন্য বাইরে অপেক্ষা করছে।
গিয়ে আরেক কিত্তন। যেহেতু ওই সময় কোন tourist নেই তাই সেখানকার কেয়ার টেকার নাকি বলেছে কোনও খাবারের ব্যাবস্থা করতে পারবেনা, কাছেই একটা private হোটেল আছে সেখান থেকে আমাদের খাবারের ব্যাবস্থা করে নিতে হবে। প্রসঙ্গত আপনাদের জানিয়ে রাখি, রাত নামার সাথে সাথে যে পরিমান ঠান্ডা আর সাথে ঝোড়ো হাওয়া দিতে শুরু করলো, অমন ঠান্ডা আমি বাপের জন্মে খুব কম পেয়েছি (আমার বাপের জন্মের পরিধীটা অনেকটাই বড়)। তাই বাইরে বেড়িয়ে খেতে যাবার পরিকল্পনাটা প্রায় আত্মহত্যা করার সামিল। আমরা দুজনেই প্রায় কেয়ার টেকারের পায়ে পড়ে গেলাম, যা হোক একটা কিছু ব্যাবস্থা করে দিন, মাই বাপ। এতে খানিকটা হলেও চিঁড়ে ভিজেছিল। সেরাতে আমাদের ডিনারের মেনুতে ছিলো, দড়ির মতো মোটা নুডুলস সেদ্ধ আর স্যুপ। সেই নুডুলস আমরা দু চার চামচের বেশী কেউই খেতে পারিনি। তবে স্যুপ টা সঞ্জীবনী সুধার কাজ করেছে। সেই রাতে আমরা দুজনে
hollowfill jacket
গায়ে দিয়ে তিন খানা কম্বলের নীচে শুয়েও সারা রাত ঠান্ডায় কেঁপেছি। আর বাইরে হাওয়ার দাপট এমন ছিল, আমরা নিশ্চিত ছিলাম সকালে উঠে দেখব ট্রেকারস হাটের চাল উড়ে গেছে। সেরাতে ঘুম কারোরই সেভাবে হয়নি। সেই রাতে গোটা সান্দাকফুতে মোট তিনটে group ছিল, এক সেই বিদেশিনী আর তার গাইড যারা পরদিন সান্দাকফু থেকে ফিরে যাবে, নেপাল থেকে আসা একটা ট্রেকিং group যারা পরদিন ফালুটের দিকে যাবে, আর আমরা - কোথায় যাব ভগবান জানে।
পরদিন সকালে একটু আলো দেখার সাথে সাথে আমরা বিছানা ছাড়লাম। বাইরে সূর্যোদয় হবার পরেও বেশ ঠান্ডা ছিল। আমি ভিক্টর কে বললাম কয়েকটা ছবি তুলতে। ও আমাকে ব দিয়ে একটা গালি দিয়ে বলল, সালা gloves থেকে হাতই বার করতে পারছিনা তার ছবি! যাই হোক কষ্ট করে হলেও কয়েকটা ছবি তোলে mobile দিয়ে। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি এই পুরো যাত্রায় আপনারা যত ছবি দেখছেন সব ওরই তোলা, তাই ছবির সব কৃতিত্বই ওর আর সেই কারনেই ও নিজে কোনও ছবিতে নেই। আমরা সেই রাতের নুডুলস দিয়ে সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে বাইরে এসে দাঁড়ামাল, তখন দেখি নেপালের যে group টার ফালুটের দিকে যাবার কথা ছিল তারা ঠান্ডা আর ঝোড়ো হাওয়ায় বমকে গিয়ে গুরদুম এর দিকে ফিরে যাচ্ছে। অর্থাৎ আমরাই হারাধনের একমাত্র ছেলে বাকি রইলাম সামনের দিকে এগিয়ে যাবার
জন্য।
এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো? তুমি বলতো!
সান্দাকফু কে দুগগা দুগগা করে এগোলাম ফালুটের দিকে। সাথে দুপুরে খাবারের জন্য
pack করা হলো আলুসেদ্ধ আর নুন, হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন শুধু আলুসেদ্ধ আর নুন। এই রাস্তা টা ২১ কিমি হলেও অতটা কষ্টসাধ্য নয়। অনেকটা রাস্তাই প্রায় সমান কথাও একটু ওঠা কথাও অনেকটাই নামা। ফালুটের (৩৫৯৫ মি) উচ্চতা সান্দাকফুর (৩৬৩৬ মি) চাইতে সামান্য কম। অর্থাৎ সান্দাকফুর চাইতে ফালুট একটু হলেও নীচে। আমরা যেবার প্রথমবার সান্দাকফু যাই সেবার আমাদের ফালুট যাওয়া হয়নি কারন সেখানে ট্রেকারস হাট এ যায়গা ছিলনা। সেবার আমরা মোলে বলে একটা যায়গায় থেকেছিলাম, এই একই রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। ফালুট যাবার পথে সান্দাকফু থেকে প্রায় ৪/৫ কিমি এগোলে একটা তৃণভূমি মতো জায়গা পড়ে ইংরিজিতে যাকে meadow বলে প্রথমবার সান্দাকফু থেকে ফালুট যাবার সময়েই এর প্রেমে পড়েছিলাম তাই আবার যখন এর ওপর দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন পুরানো কথাগুলো মনে পড়ে যাচ্ছিল। আপনারা যারা সান্দাকফু থেকে ফালুট গিয়েছেন তারা বুঝতে পারবেন আমি কোন জায়গাটার কথা বলছি। ওটা পার করে একটা সীমা সুরক্ষা বল এর camp পড়ে। ওখানে খানিক্ষন বিশ্রাম নেবার পর বা দিক
দিয়ে পাহাড়ের গা বেয়ে ওঠা। দুপুরে আমরা পৌঁছলাম সবরগ্রাম বলে একটা জায়গায়। এখান থেকে মোলে আর ফালুট এর রাস্তা ভাগ হয়ে যায়। আমরা lunch করতে বসলাম একটা মাঠের মত যায়গায়। মাইরি বলছি ওই সময় নুন দিয়ে আলুসেদ্ধ টা অমৃত লাগছিল খেতে। আলুটা আমাদের এখানকার মতো আলু নয়। পাহাড়ী আলু, ওটার নিজস্ব একটা সুন্দর স্বাদ ছিল। সাথে গ্লুকোজ ছিল, জলে গুলিয়ে মেরে দিলাম তিনজন। সবরগ্রাম থেকে ফালুট ৬ কিমি। যার মধ্যে ৪ কিমি নামা, শেষ ২ কিমি ওঠা। এই ওঠাটা সান্দাকফুর মতো অতটা খাঁড়া না হলেও বেশ ভালই উঁচু। আর এততা হেটে আসার পর ওই ওঠাটা উঠতে বেশ ভালই ফাটে। যাইহোক আমরা যেহেতু প্রথমবার ফালুট যেতে পারিনি তাই সেই ক্ষিদেটা রয়েই গেছিল, সেই কারনে কষ্টটা সেভাবে অনুভব করিনি। হেসেখেলে প্রায় ৩ টে নাগাদ নাচতে নাচতে আমরা ফালুট পৌঁছে গেলাম।







No comments