default | grid-3 | grid-2

Post per Page

প্রায়শ্চিত্ত aka ATONEMENT



আর কাহাতক সহ্য হয় এই গঞ্জনা? প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে বাবা মা কে দিয়ে প্রথম শুরু হয়।

- মা : বাবু কিছু খবর এলো? এতগুলো interview তো দিলি। কেউ কিছু জানালো?
- আমি : না।
 - মা : কিছু একটা দেখ এবার, ৬ মাস হয়ে গেলো Nursing Supervisor এ Diploma complete করেছিস।
- আমি : হুম।

আমার আর ভালো লাগেনা এসব শুনতে, এরা কেনো বুঝতে পারছেনা যে আমি চেষ্টা করছি কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা। মায়ের কথায় তবু কিছু মিষ্টতা আছে। বাবার তো সেটাও নেই,

- বাবা : যেই ফোনের মধ্যে সারাদিন ডুবে থাকো, সেই ফোনটা বাপের কিনে দেওয়া। আর সেটা রিচার্জ করার পয়সাও বাপ যোগাচ্ছে। লজ্জা করে?

- আমি : আমি তো চেষ্টা করছি।

- বাবা : আমার জায়গায় আমার বাবা হলে, অনেকদিন আগেই বাড়ি থেকে বার করে দিত। আমি বলেই এখনও কিছু করিনি আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য কোরোনা।

ধুর সালা আর এসব সহ্য হয় না, মনে হয় সব ছেড়ে ছুড়ে দূরে কোথাও পালাই। কিন্তু কোথায় যাব? গোটা পৃথিবীটাই একটা বড় কয়েদখানা। তুমি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারো কিন্তু জেলখানার প্রাচীর সেই একই থাকবে। ultimately তুমি বন্দী, তুমি এখানে বন্দী থাকলেও বন্দী আর অন্য কোথাও গেলেও তাই। এসবের মধ্যেই চলছিল জীবন, একমাত্র ভালো লাগার যায়গা ছিল, শ্রাবনী। ওর সাথে থাকলে, একটু সময় কাটালে, একটু কথা বললে কিছুক্ষনের জন্য হলেও এসব থেকে একটু দূরে থাকি। কিন্তু কথায় বলে না? man proposes God disposes. সেদিন বিকেলে,

- আমি : কি হলো আজ এতো চুপচাপ?
- শ্রাবনী : (মুখ নীচু করে রয়েছে)
- আমি : কি হলো, কিছু বলবে? এরকম চুপ করে আছো কেনো? ঝামেলা হয়েছে কোনও?
- শ্রাবণী : আমার বাড়িতে ছেলে দেখছে।
- আমি : মানে? কাকিমা তো জানে আমাদের কথা।
- শ্রাবণী : মায়ের জানা দিয়ে কিছু হবে না। বাবা যা ঠিক করবে সেটাই final.
- আমি : তো তুমি কিছু বলবে না? তোমার তো একটা মতামত আছে নিশ্চয়ই।
- শ্রাবণী : আমি কি বলবো বলো? কি হিসাবে বলবো? ছেলে আমেরিকা তে service করে আর ওখানেই settled. আর তুমি কিছুই করোনা।
- আমি : কেনো ভোর বেলা উঠে লাইনে দাঁড়িয়ে তোমার কলেজের জন্য ফর্ম তোলা ওটা কিছু না? তোমার ভর্তির জন্য union এর ছেলেদের সাথে setting করা ওটা কিছু না? নিজের খরচা বাঁচিয়ে, ধার করে তোমার admissions এর পয়সা যোগাড় করা, বিপদের সময় তোমার পাশে থাকা, তোমাকে কবিতা আর গান শোনানো এসব কিছু নয়?
- শ্রাবণী : তুমি বুঝতে পারছো না। কাল যখন তোমায় কেউ জিজ্ঞাসা করবে তুমি কি কিরো? তোমাকে বলতে হবে তুমি পয়সা নামানোর জন্য কি করো! জীবনটা কবিতা আর গান দিয়ে চলে না।
- আমি : (অন্যদিকে তাকিয়ে) তাহলে কি দিয়ে চলে? ডলার দিয়ে?
- শ্রাবণী : হয়তো তাই।
- আমি : আজ আমার কেনো জানিনা মনে হচ্ছে তোমাকে আমি একেবারেই চিনিনা।
- শ্রাবণী : দেখো কল্পনার জগৎ স্বপ্নের জগৎ থেকে এবার বেড়িয়ে এসো। বাস্তবটা একেবারেই আলাদা।
- আমি : তুমিতো এতদিন এই স্বপ্নেই বিভোর ছিলে? তা বাস্তবে নিয়ে এলো কে? ডলারে কামানো পাত্র?
- শ্রাবণী : আমি আসছি, তোমার সাথে কথা বলে লাভ নেই, তুমি জানো তোমার সব চাইতে বড় সমস্যা কি? তুমি নিজেকে একটু বেশীই ভালোবাসো। তুমি তোমার নিজের তৈরি করা স্বপ্নের জগতে বাস করো, যেটা বাস্তব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তোমার আসল পরিচয় হলো তুমি কিছুই করোনা।

আমার মাথার ভেতরটা পুরো ফাঁকা লাগছিল, শ্রাবণী কখন চলে গেছে আমি জানিও না। কিছুই মাথায় আসছিলনা, কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। একবার মাথায় এলো সালা আত্মহত্যা করি। কিন্তু আবার ভাবলাম তাতে কার কি লাভ হবে? বরং বাবা মা কে অনেকগুলো কথা শুনতে হবে ফালতু ফালতু। কি করবো কি না করবো এসব ভাবতে ভাবতেই রাস্তায় হাঁটা দিলাম। মাথায় শুধু একটা কথাই বার বার ঘুরছিল

- "তুমি তো কিছুই করোনা।"

এমন সময় হুট করে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করলো আর তার সাথে শুরু হলো ঝড়। চারিদিক ধুলোয় অন্ধকার হয়ে এলো। আমি কোনওমতে রাস্তার পাশের এক বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। ধুলোর চোটে চোখ খোলা দায়৷ আমি কোনওমতে হাতের কনুই দিয়ে চোখ ঢেকে দাঁড়িয়ে রইলাম। হঠাৎ করে কোথা থেকে একটা কাগজের টুকরো উড়ে এসে মুখের মধ্যে লাগলো। আমি মুখ থেকে কাগজ টা সরিয়ে ফেলতে যাব এমন সময় চোখে পড়ল, ওটা একটা বিজ্ঞাপন। ভালো করে দেখলাম পুরোটা, ওতে লেখা ছিল, "আপনার কি মনে হয় আপনি দুনিয়া বদলাতে পারবেন? যদি মনে হয় আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন এই ঠিকানায়" বলে নীচে একটা ঠিকানা দেওয়া ছিল।

ব্যপারটা আমার খুব interesting লাগলো। পরদিন দুপুরে আমি সেই address এ গিয়ে উপস্থিত হলাম। যায়গাটা দেখে মনে হলো অন্য কোনও গ্রহে চলে এসছি। এই শহরের মধ্যে এমন যায়গা আছে কখনো জানতাম না।

একটা বড় মাঠের মতো জায়গা, মাঝে একটা Building, দেখে মনে হচ্ছে প্রায় পাঁচ তলা হবে। Building টা অনেক পুরনো, চারিদিকে এত আগাছা জন্মে আছে যে পুরো Building টাই সবুজ দেখাচ্ছে। মাঠের একপাশে একটা পুকুর তার পাশে ঝোপ। পুকুরে হাঁস ঘুরে বেড়াচ্ছে আর যে ব্যপাটা সব চাইতে আশ্চর্য ঠেকলো সেটা হলো, ঝিঁঝিঁ র ডাক। হ্যাঁ পাশের ঝোপ টা থেকে ঝিঁঝিঁর ডাক আসছিল। এই শহরে এটা শুনতে পাওয়া যায় ভাবাই যায় না।

যা হোক আমি গিয়ে ঢুকলাম Building এর ভেতর। ভেতরে ঢুকে আরও অবাক হবার পালা, reception desk এ একজন মহিলা বসে আছে, দেখে আদিবাসী সাঁওতাল মনে হলো, কোলে একটা কোয়ালা ভালুক নিয়ে আদর করছে। আমি reception এর দিকে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে গেলাম,

- কোয়ালা তো লুপ্তপ্রায়, আপনি পেলেন কোথা থেকে? আমাকে থামিয়ে দিয়ে সেই মহিলা বললো-
- দুনিয়া বদলাতে এসছেন? আমি : (আমতা আমতা করে) হ্যাঁ ওই বিজ্ঞাপন দেখে এসছি। বলে আমি আমার ব্যগ থেকে bio data বার করে ওনার দিকে এগিয়ে দিলাম। -সাঁওতালি মহিলা : ওটার দরকার নেই। কিছু বদলেছেন আজ অবধি?

আমি বুঝতে পারলাম না কি বলবো, হঠাৎ করে এরকম প্রশ্ন শুনে থতমত খেয়ে গেলাম। ভাবতে লাগলাম কি বদলেছি আজ পর্যন্ত।

-সাঁওতালি মহিলা : চকলেট খেয়ে রাস্তায় প্লাস্টিক ফেলেছেন কখনো? বা ট্রেনের জানালা নিয়ে জলের বোতল বাইরে ফেলেছেন?

কি যে হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিনা, আমি বললাম
- না।

এবার একটু সাহস করে বলে মহিলা কে জিজ্ঞেস করলাম,
- কাজটা কি আছে সেটা একটু যদি বলেন।
- সাঁওতালি মহিলা : কোথাও বেড়াতে গিয়ে পরিবেশ নষ্ট করেছেন?
- আমি : না
- সাঁওতালি মহিলা : পাডায় বেড়াল কুকুর দের কখনও খাইয়েছেন?
- আমি : মা খাওয়ায়।
- সাঁওতালি মহিলা : বাড়িতে AC কটা?
-আমি : আমাদের AC নেই।
- সাঁওতালি মহিলা : বাবার বার্ষিক আয় কতো?
- আমি : ছ লাখ। আমি যা যা উত্তর দিচ্ছি, মহিলা সব পটাপট লিখে নিলো। এরপর সে সামনের টেবিলে থাকা একটা ঘন্টা বাজালো।

সাথে সাথে পাশের ঘর থেকে একজন বেড়িয়ে এলো। এ আবার আরেক নমুনা, পরনে রেড ইন্ডিয়ান দের মতো পোষাক মাথার চারপাশে লম্বা লম্বা পালক। যে ঘর থেকে বেড়িয়ে এলো, এক ঝলক দেখতে পেলাম ঘরের ভেতরটাতে বড় সাদা একটা Teddy Bear রাখা। লোকটা টেবিলের সামনে এলে, সাঁওতাল মহিলা ওনাকে বললেন আমায় ওপর তলায় নিয়ে যেতে। ওখানে Technical interview হবে।

আমি ওনার পেছন পেছন সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠলাম। দোতলার দরজার সামঅনে বড় বড় করে লেখা STRATO. মনে মনে ভাবলাম strategic decision ফিসিসন হয় মনে হচ্ছে এখানে। দরজা খুলে ঢুকতেই পাশে একটা ছোট মতো কুঠুরি তারপর আরেকটা বড় দরজা। রেড ইন্ডিয়ান মতো লোকটা প্রথমে ছোট ঘরটাতে নিয়ে গেলো। ওখানে দেখি সারি সারি Bio Hazard Suit রাখা, ক্ষতিকারক কেমিক্যাল নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা করবার সময় যেসব জবরজং গুলো পড়ে সেসব। English সিনেমা তে প্রচুর দেখেছি। ঘরে ঢুকে রেড ইন্ডিয়ান আমার হাতে একটা suit ধরিয়ে বললো,

 - এটা পরে নাও।
 - আমি : (একটু ভয় পেয়ে) কেনো?
 - রেড ইন্ডিয়ান : দোতলায় সব সময় একটা gas ছড়ানো থাকে কারন ওপরে একটা কারখানা রয়েছে সেখান থেকে কোনও ক্ষতিকারক পদার্থ যাতে নীচের তলায় যেতে না পারে তাই এই গ্যাস এর ব্যবস্থা। এই গ্যাস সেই ক্ষতিকারক জিনিস গুলো আটকে দেয়।

আমি আগা মাথা কিছুই বুঝলাম না। শুধু জিজ্ঞাসা করলাম,
 - কি গ্যাস? - রেড ইন্ডিয়ান : ওজোন।

যাই হোক আমি সেই জবরজং suit পড়ে দ্বিতীয় দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম। রেড ইন্ডিয়ান দরজা থেকেই বিদায় নিল। এই ঘরে জিনিসপত্র তুলনামূলক কম। ঘরের মাঝে একটা টেবিল রাখা টেবিলের ওপারে একজন বসে আছে আর এদিকে আরেকটা চেয়ার রাখা। ভদ্রলোক আমাকে সামনের চেয়ারে বসতে ইশারা করলেন। আমিও বাধ্য ছেলের মতো ওখানে গিয়ে বসলাম। ভদ্রলোক কোনোরকম ভূমিকা না করেই সরাসরি জিজ্ঞাসা করলেন,
 - মাধ্যমিকে ভূগলে কতো নম্বর ছিল?
 - আমি : পচাত্তর। লেটার টা একটুর জন্য পাইনি কারন map pointing এ কৃষ্ণার যায়গায় গোদাবরী করে ফেলেছিলাম।

লোকটা আমার মুখের দিকে খানিক্ষন তাকালো তারপর আবার প্রশ্ন করলো,
 - জীবন বিজ্ঞানে কতো নম্বর ছিল?
 - আমি : পয়ষট্টি, আসলে রেচনতন্ত্র… লোকটা হাত দিয়ে ইশারা করে আমাকে থামতে বললো।
 - লোকটা : শক্তির নিত্যতার সূত্র বলো। আমি একটু মনে করে নিয়ে চোখ বন্ধ করে গড়গড় বললাম, - শক্তির সৃষ্টি না বিনাশ নেই, কেবল রূপান্তর আছে। পৃথিবী সৃষ্টি র আদিকালে যে পরিমান শক্তি ছিল আজও সমপরিমান শক্তি বিদ্যমান।

ভদ্রলোক কিছু একটা লিখলেন, তারপর আবার জিজ্ঞাসা করলেন
- বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে কি জানো?

সেই কবে পড়েছি এসব এখন কি আর মনে থাকে? তাও মনে করে বললাম, - বাস্তুতন্ত্র হচ্ছে জৈব, অজৈব পদার্থ ও বিভিন্ন জীবসমন্বিত এমন প্রাকৃতিক একক যেখানে বিভিন্ন জীবসমষ্টি পরস্পরের সাথে এবং তাদের পারিপার্শ্বিক জৈব ও অজৈব উপাদানের সঙ্গে আচরনগত ও পারষ্পরিক প্রভাবের মাধ্যমে একটি জীবনধারা গড়ে তোলে।

ভদ্রলোক আবারও কিছু লিখলেন তারপর আমাকে বললেন।
- ওপরে চলে যান ওখানে আপনার HR round হবে।

আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেলাম, এদিকে মনে মনে ভাবছি সালা সব মাধ্যমিকের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছে নির্ঘাৎ সালা মাধ্যমিক পাশের সমতুল্য কোনও কাজ দেবে। এমন সময় লোকটা পেছন থেকে বললো।
- ওপরে দরজা খুলেই প্রথমে একটা ছোট ঘর পড়বে সেখানে এই suit টা খুলে রাখবেন আর দেখবেন কিছু tharmal suit রাখা আছে। একটা পড়ে নেবেন ওপরের floor টা খুব ঠান্ডা। thermal suit গুলো specially তৈরি করা। অনেক নীচের তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে।

আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। ব্যাপারটা এবার বেশ মজাই লাগছিল। সিঁড়ি দিয়ে সোজা ওপরে উঠে গেলাম। এখানে দেখি দরজার বাইরে বড় বড় করে লেখা MESO. মনে মনে ভাবলাম এখানে আবার কোন মেসোমশাই আছে কে জানে!! যাহোক ওই ভদ্রলোকের কথা মতো ছোট ঘরে আমার bio Hazard suit খুলে রেখে ওখানে থাকা একটা thermal jacket, জড়িয়ে নিলাম। তারপর বড় দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম।

এই ঘরটা আরই ফাঁকা চেয়ার টেবিলও নেই। গোলগাল একজন ভদ্রলোক ঘরের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। ভদ্রলোককে দেখতে অনেকটা সত্যজিৎ এর ফেলুদার ছবির জটায়ুর মতো। মনে হলো এই floor এর নাম সার্থক, এতো সত্যিই মেসোমশাই টাইপ। আমি দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই উনি বললেন,
 - আরে এসো এসো, এখানে কোনোও চেয়ার টেবিল নেই, হ্যাঁ! আমরা দাঁড়িয়েই কথা বলবো কেমন!
 - আমি : না না কোনও অসুবিধে নেই।

ভদ্রলোকের অমায়িক আচরণে আমি খুব স্বাচ্ছন্দ বোধ করছিলাম। সত্যি কথা বলতে HR Round এ এরকম একজন থাকতে পারে আমি ভাবতেই পারিনি। আমি ওনার কাছে এগিয়ে গেলাম। উনি প্রথমেই জিজ্ঞাসা করলেন,
- তোমার নিজের সম্পর্কে কিছু বলো।
- আমি : আমার নাম…
- মেসোমশাই : (জিভ কেটে) না না, তোমার নাম তো তুমি নিজে রাখোনি, (একটু হেসে) তাই না! তোমার নিজের সম্পর্কে বলো।
- আমি : ফটোগ্রাফি আমার নেশা, এছাড়া গান শুনতে ভালো লাগে, ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে, নতুন নতুন যায়গায় একা একা একাই ঘুরে বেড়াই সময় পেলে। আর আমার দোষ বলতে আমি একটুতেই রেগে যাই, যদিও পরক্ষণেই সেটা control করে নি (একটু হেসে)
 - মেসোমশাই : শেষ কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলে?
- আমি : সিকিম। লাচুং
- মেসোমশাই : তুমি কি ধরণের ফটোগ্রাফি করতে ভালোবাসো?
- আমি : Nature
- মেসোমশাই : তিস্তার ছবি তুলেছো সিকিম যাবার পথে।
- আমি : ধুর, জলই নেই তিস্তায় এখন, একটা Dam হচ্ছে তিস্তার ওপরে তাই সব জল আটকে দিয়েছে।
 - মেসোমশাই : রাগ হয়নি?
 - আমি : মানে?
 - মেসোমশাই : (একটু হেসে) এই যে বললে তুমি একটুতেই রেগে যাও। নদী শুকিয়ে যাচ্ছে দেখে রাগ হয়নি?
 - আমি : রাগ হয়েছে কিনা বলতে পারবো না তবে কষ্ট হয়েছে।
 - মেসোমশাই : নিজের অধিকারের জন্য কোনওদিন লড়াই করেছো?
 - আমি - হ্যাঁ একবার অটোওয়ালার সাথে খুব ঝামেলা করেছিলাম, খুচরো নেই জন্য বেশী ভাড়া নেবে বলেছিল।
 - মেসোমশাই : আর অন্যের অধিকারের জন্য?

 আমি হেসে বললাম, - সুযোগ আসেনি।
 - মেসোমশাই : আচ্ছা তুমি শ্রেণীশত্রু বলতে কি বোঝো?

আমার হুট করে মনে হলো এরা আবার মাওবাদী নয়তো? আর আমাকে আমাকে কোনোও operation এ পাঠানোর plan করছে না তো? আমি একটু ঢোঁক গিলে পুরো নেতাদের style এ বললাম,
- যেসব পুঁজিপতিরা সর্বহারা গরীবদের অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজের অর্থ প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করে, যারা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কথা চিন্তা না করে সমাজের সমস্ত সুযোগ সুবিধা একাই ভোগ করতে চায় তারাই শ্রেণীশত্রু।
- মেসোমশাই : তোমরা মনুষ্য শ্রেণি বাইরে কিছু ভাবতে পারোনা তাইনা? এর ওপরেও তো একটা শ্রেণী আছে। গোটা জীবজগত নিয়েই একটা শ্রেণি, সব চাইতে বড় শ্রেণি। মানুষ সেই শ্রেণির অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটা অংশ।

আচ্ছা বিগত দু বছরে সবচাইতে নিষ্ঠুর ও নির্মম ঘটনা কি তোমার কাছে?
- আমি : গত বছর এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় একটা terrorist attack হয়েছিল, খুব সম্ভবত ২৫0 এর কাছাকাছি লোক মারা গিয়েছিল।
- মেসোমশাই : গত বছরের শেষে অস্ট্রেলিয়া তে ভয়াবহ দাবানল হয়েছিল। প্রায় এক বিলিয়ন পশুপাখি মারা যায় সেই আগুনে। মনে আছে?
- আমি : হ্যাঁ হ্যাঁ প্রায় দুমাস ধরে জ্বলেছিল জঙ্গল। মনে আছে।
- মেসোমশাই : তারপর কি হয়েছিল জানো?
- আমি : হ্যাঁ পড়েছিলাম, দাবানলের পর ওখানে জলের সমস্যা দেখা দেয়। তাই সেখানে প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত নেয় কিছু উট মেরে ফেলার যাতে ওরা বেশী জল খেয়ে না নেয়।
- মেসোমশাই : কিছু নয়, সংখ্যা টা পাঁচ হাজার। তোমার মনে হয় না এটা আরো অনেক বেশী নিষ্ঠুর ঘটনা?

আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। ভেবে দেখলাম কথাটাতো ঠিকই বলেছে। কিন্তু কিছু বলতে পারলাম না।
- মেসোমশাই : অন্যের অধিকারের জন্য কাজ করবার সুযোগ দিলে করতে পারবে? (একটু হেসে) অবশ্যই চাকরি হিসাবে।
- আমি : হ্যাঁ পারবো।
- মেসোমশাই : আচ্ছা ঠিক আছে তুমি ওপরের তলায় চলে যাও ওখানে আমাদের CEO তোমার সাথে কথা বলবে। তবে ওপরে উঠে আগে এই thermal jacket খুলে নেবে আর ওখানে রাখা specially manufactured কিছু cooling jacket রাখা আছে, সেটা পড়ে নেবে। ওপরতলাটা প্রচন্ড গরম।

আমি সিঁড়ি দিয়ে ওপরতলায় উঠে এলাম। এখানেও দেখি দরজার বাইরে একই ভাবে লেখা THERMO. বুঝলাম যেহেতু এই floor এ খুব গরম তাই এই নাম স্বাভাবিক। আমি ঢুকে আবার একপ্রস্থ জামা কাপড় ছেড়ে নতুন পোষাক পরে নিলাম। Main দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখতে পেলাম কোট প্যন্ট পরা একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। back brush করা চুল আর চোখে rimless চশমা। আমায় দেখতে পেয়ে বললেন, - welcome young man. Come here. আমি কাছে গেলাম,

 - ভদ্রলোক : Welcome to our family. তুমি কি কিছু ধারনা করতে পেরেছো তোমাকে কি কাজের জন্য ডাকা হয়েছে?
- আমি : আমি যতদুর বুঝতে পারছি আপনারা Animal welfare বা environment related কোনো কাজ করেন। তবে আমাকে কি কাজ করতে হবে সেটা এখনো বুঝে উঠতে পারিনি।

ভদ্রলোক আমার হাতে একটা চীনামাটি র বাটি ধরালো। ওতে হালকা সবুজ রঙের juice মতো কিছু একটা রয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে আঙুরের juice. উনি বাটিটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন,
- এটা খেয়ে নাও। মাথা পরিষ্কার হবে। কারন আমি যা বলবো সেটা শোনার বা বোঝার জন্য মাথাটা পরিষ্কার থাকা খুব জরুরি।

আমার অবস্থা তখন জয় বাবা ফেলুনাথের লালমোহন বাবুর মতো। মগনলাল এর ডেরায় offer করা সরবত খাবে কি খাবে না এই নিয়ে দ্বিধায় আছে। কিন্তু যেই মুহূর্তে অর্জুনের সার্কাসের খেলা তে অংশগ্রহণ করার জন্য বাধ্য করা হলো তখন সেই দ্বিধাটা কেটে গেলো। সালা মরতে হলে খেয়েই মরি। আমিও সেরকমই কিছু একটা ভেবে গোটা বাটিটা চুমুক দিয়ে শেষ করলাম। খেতে খুব একটা খারাপ ছিল না। খাওয়ার কিছুক্ষন পর থেকেই মাথা টা হাল্কা লাগতে আরম্ভ করলো।

- ভদ্রলোক : কি? একটু relaxed lagche?
- আমি : হ্যাঁ মাথাটা হাল্কা লাগছে।
- ভদ্রলোক : বেশ, তাহলে কাজের কথায় আসি। যেমন আমরা জানিয়েছিলাম এমন কাউকে আমরা চাইছি যারা দুনিয়া বদলাতে চায়। এখন প্রশ্ন হলো দুনিয়া কি? আর কাদের নিয়ে এই দুনিয়া?

প্রকৃতির নিয়মে যেসব জিনিস এই পৃথিবীতে আসে বা অবস্থান করে তাদের সবাইকে নিয়েই এই দুনিয়া। কিন্তু মানুষের তৈরি করা কিছু নিয়ম, কিছু কাজের জন্য এই দুনিয়ার ভারসাম্য আজকে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ভদ্রলোক আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললো
- তুমি বুঝতে পারছো আমি কি বলছি?

আমার তখন নিজেকে মনে হচ্ছে আকাশে ভাসছি, মাথার সব জট গুলো ধীরে ধীরে খুলছে আর সেখান দিয়ে ঢুকে পরছে সব স্মৃতি। একটু সামলে নিয়ে বললাম, - হ্যাঁ আমি শুনছি, আপনি বলুন।

ভদ্রলোক আবার বলতে শুরু করলেন,
- আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য সেই ভারসাম্য কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনা। আর সেটাই হবে তোমার কাজ।

আমি একটু হেসে বললাম,
-বিশ্ব শান্তির আর সচেতনতার বাণী প্রচার করতে হবে নাকি? নাকি লিফলেট বিলি করতে হবে?
- ভদ্রলোক : ঠিক তার উল্টো। এখন আর বাণীর দিন নেই, বড্ড দেরি হয়ে গেছে।
- আমি : তবে?
- ভদ্রলোক : তবে যেটা করতে হবে সেটা তোমাকে আমাদের Director বুঝিয়ে দেবেন। তুমি আমাদের agent হিসাবে কাজ করবে। আমাদের প্রত্যেক agent এর একটা করে code name থাকে। তোমার কোনও পছন্দের নাম আছে?

সেই মুহূর্তে আমার মাথায় সব ওলট পালট হয়ে যাচ্ছে, ঘোলা জলের মতো স্মৃতিতে ঢুকে পড়ছে শ্রাবণী র বলা শেষ কথাগুলো,
- তুমি তো কিছুই করোনা… তুমি তো কিছুই করোনা।

লাইনটা নিজের অজান্তেই বিড়বিড় করছিলাম।

- ভদ্রলোক : কি বলছো?
- আমি : করোনা, আমার code name করোনা।
- ভদ্রলোক : অদ্ভুত নাম! ঠিক আছে তাই হোক। তুমি ওপরে চলে যাও ওখানে আমাদের director আছেন উনি তোমাকে কাজ বুঝিয়ে দেবেন।

আমি টলতে টলতে সিঁড়ি বেয়ে আবার ওপরে উঠলাম। আমার পরিস্থিতিটা তখন ঠিক বলে বোঝাবার মতো নয়। ভয় ডর কিচ্ছু কাজ করছিলনা তখন। ব্যাপারটা বেশ মজাই লাগছিল। The Dark Knight মুভির জোকার এর introductory লাইন টা মনে পড়ে গেল, "Whatever doesn't kill you, simply makes you stranger" তার ওপর প্রথম চাকরি করবো। তার একটা আলাদা আনন্দ আর excitement ও ছিল, সে যেমন কাজই হোক । সব মিলেমিশে একটা, euphoric stage এর মধ্যে ছিলাম। সিঁড়ি দিয়ে উঠে দরজার কাছে পৌঁছলাম। এখানেও দরজার বাইরে কিছু লেখা ছিল, ভালো করে পড়ে দেখলাম EXO. দরজা ঠেলে ঢুকে দেখি, যাঃ সালা এতো দেখছি ছাদ। EXO মানে কি Exit নাকি? ছাদ থেকে ফেলে টেলে দেবে নাকি?

এসবই ভাবছিলাম এমন সময় হঠাৎ ছাদের আরেক প্রান্ত থেকে কে যেন ডাক দিল,
- এদিকে আসুন।

আমি ওই দিকে এগোলাম। তখন সন্ধা হয়ে গিয়েছে, চারিদিক অন্ধকার। আকাশের তারা গুলো মনে হলো খুব কাছে চলে এসছে। আর আকাশে চারিদিকে কয়েকটা বড় বড় ঘুড়ি উড়ছে। যেন মনে হচ্ছে এক একটা স্যটেলাইট। নেশার ঘোরে কি দেখছি কে জানে? ছাদের আরেক কোনায় যেদিকে আমি যাচ্ছি সেখানে একটা হালকা আলো জ্বলছে। আমি কাছাকাছি গিয়ে দেখলাম একজন বয়ষ্ক ভদ্রমহিলা wheel chair এ বসে আছে। আরেকজন লোক ওনাকে দেখাশোনা করার জন্য আছে। ভদ্রমহিলা খুবই অসুস্থ wheel chai এ স্যালাইনের ব্যাবস্থা attach করা। ওনার নাক এ একটা নল লাগানো। মাথাটা নীচু হয়ে আছে। আমি কাছে যেতে উনি মুখটা তুলে আমার দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললেন,
- তুমিই করোনা?

আমি বললাম,
- হ্যাঁ
- ভদ্রমহিলা : এই মুহূর্তে আমাদের সব চাইতে বড় সমস্যা কি জানো?
 - আমি : দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ, ধর্মান্ধতা, উগ্র জাতীয়তাবাদ। কিন্তু সব চাইতে আগে আবহাওয়ার পরিবর্তন।

ভদ্রমহিলা একটু খুশি হয়ে বললেন
- ঠিক বুঝতে পেরেছো। আর এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য একমাত্র দায়ী মানুষ। মানুষ নিজের লোভে, ক্ষমতার দম্ভে, প্রগতির ছুতোয় বারে বারে প্রকৃতির সাথে অত্যাচার করে এসছে। আর এতে যদি শুধু মানুষেরই ক্ষতি হতো তাহলে কোনও ব্যাপার ছিলনা। কিন্তু আর বাকি সমস্ত জীব জগৎও এর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ নিজেরাই প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করছে আবার বেঁচে থাকা সম্পদে যাতে বাকি প্রানী ভাগ বসাতে না পারে সেজন্য তাদের মেরেও ফেলছে।

প্রকৃতি আর সহ্য করতে পারছে না, একজন মায়ের কাছে তার প্রতিটা সন্তানই সমান স্নেহের। এই বলে ভদ্রমহিলা হাঁফাতে লাগলো। একটু থেমে আমার হাত টা ধরে বললো,
- প্রগতির চাকা কিছুদিন বন্ধ করতে হবে প্রকৃতির চাকা আরও কিছুদিন সচল রাখার জন্য।
- আমি : কিন্তু এভাবে কতজনকে বোঝানো সম্ভব?
- ভদ্রমহিলা : আমি তো বোঝাতে বলিনি
- আমি : তবে?
- ভদ্রমহিলা : নিধন করতে হবে।

আমি কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলাম না, কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিমলামনা , উনি আবার বললেন,
- দেখো কোনও একটা balance যখন এক দিক থেকে নষ্ট হতে শুরু করে তখন ভারসাম্য টা বজায় রাখার জন্য অন্য দিক থেকে কিছু কেটে বাদ দিতেই হয়। এটাই নিয়ম, দুঃখের বিষয় মানুষ এটা ভুলে গিয়েছে।
- আমি : আমাকে কি করতে হবে? ভদ্রমহিলা তার care taker কে ইশারা করলেন, লোকটা এক pen drive এর মতো কিছু একটা আমার দিকে এগিয়ে দিল।
- ভদ্রমহিলা : এতে সারা পৃথিবীর সমস্ত দেশের কিছু কিছু geographic location দেওয়া আছে। তোমাকে সেখানে গিয়ে কিছু মানুষ কমিয়ে প্রকৃতি কে তার নিজের যায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।
- আমি : আচ্ছা আপনার নাম টা কি? আর আপনিই কেন করছেন এটা?
- ভদ্রমহিলা : কারন দায় আর তাগিদ দুটোই আমার। আমার নাম বসুন্ধরা।

আমি কিছুক্ষন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলাম ওনার দিকে, ঠিক পরক্ষণেই কেন জানিনা শ্রাবণী র ডলারে কামানো পাত্রের কথা মনে পড়ে গেল। নেশার ঘোরে নাকি কিসের জন্য ভগবান জানে! আমি জিজ্ঞাসা করলাম,
- আচ্ছা ওই লিস্টে আমেরিকার নাম আছে?

care taker আর ভদ্রমহিলা দুজনেই হেসে উঠলেন।
- ভদ্রমহিলা : সবার ওপরে আছে। বলেই উনি আমার মাথায় হাত রাখলেন আর তারপর কিছুক্ষনের জন্য আমার আর কিছু মনে নেই।

যখন একটু চৈতন্য এলো দেখি আমি লিফটে করে নামছি। লিফট টা ground floor এ এসে থামলো। দরজা খুলে বাইরে বেড়িয়ে দেখি সেই রেড ইন্ডিয়ান। আমার পা তখনও টলছে। আমি লিফট থেকে বেড়িয়ে এলাম, রেড ইন্ডিয়ান আমাকে ধরে ধরে দরজার কাছে নিয়ে গেল। আমি যাবার সময় রেড ইন্ডিয়ান কে বললাম,
- কাকা, তোমার ঘরে অতো বড় টেডি বিয়ার টা কোথা থেকে পেয়েছো গো?
- রেড ইন্ডিয়ান : ওটা Polar Bear.

এই উত্তরে আমি এক ফোঁটাও অবাক হইনি। কোনও মতে বাইরে বেড়িয়ে এলাম, দিনের বেলা যেই ঝোপটা তে ঝিঁঝিঁ ডাকছিল ওখানে দেখি জোনাকি তে ভরে রয়েছে। শেষ কবে জোনাকি দেখেছিলাম মনেই পড়ে না।

এমন সময় হঠাৎ করে এক জোড়া চড়াই এর কিচির মিচির কানে এলো।

কি ব্যাপার? ডাকটা খুব চেনা লাগছে! এরা তো রোজ ভোরবেলা আমার জানালার পাশে ডাকে।

ঠিক তখনই চোখটা খুললো, দেখি মাথার কাছে জানালার পাল্লায় দুটো চড়াই বসে কিচির মিচির করছে। আমি ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলাম। আর মনে মনে ভাবলাম
- ধুর সালা যাও একটা চাকরি পেলাম সেটাও স্বপ্ন।

উঠে হাত মুখ ধুয়ে সোফায় রাখা খবরের কাগজ টা নিতে যাব। এমন সময় পাশের ঘর থেকে ভাইয়ের মাস্টারমশাই এর গলা ভেসে এলো। ভাইকে জিজ্ঞেস করছে,

- পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের কয়টি স্তর ও কি কি?
- ভাই : পাঁচটি স্তর (১) TROPOSPHERE, (২) STRATOSPHERE, (৩) MESOSPHERE, (4) THERMOSPHERE, আর (৫) EXOSPHERE

আমি অবাক হয়ে খবরের কাগজ টা হাতে নিয়ে Headline টা দেখে চমকে উঠলাম,

"আতঙ্কের নতুন নাম করোনা ভাইরাস, ইতিমধ্যে চায়নায় মৃত ৫৬ জন আর সংক্রমিত আরও ১০০০ জন" 

পাশে ছোট করে লেখা “ভারতেও এর সংক্রমণের আশঙ্কা প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে তাই আমাদের রাজ্যে সরকারি হাসপাতালগুলো তে প্রচুর পরিমান ডাক্তার ও Nursing কর্মী নিয়োগ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।“

খবরটা দেখে ধপ করে সোফায় বসে পড়লাম।

No comments

Error Page Image

Error Page Image

Oooops.... Could not find it!!!

The page you were looking for, could not be found. You may have typed the address incorrectly or you may have used an outdated link.

Go to Homepage