default | grid-3 | grid-2

Post per Page

এক রুকস্যাকের আত্মকথা (পর্ব ৫)


মনের মানুষ




গায়ে খুব ব্যাথা নিয়ে লিখতে বসলাম। গতকাল মালিক বহুত মার মেরেছে। বলছে আমি নাকি পাঠকদের ঠকিয়েছি, তাদের মধ্যে কৌতুহল উৎসাহ সব বাড়িয়ে দিয়ে চুপচাপ বসে আছি। কোনোও ধারাবাহিক লেখার মধ্যে এতটা gap নেওয়া নাকি অত্যন্ত অন্যায় কাজ। আর মানুষের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা হলো মহাপাপ। মানুষের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হলে নাকি পতন নিশ্চিত। এই কথাটা কোথায় যেন শুনেছি মনে হলো। হ্যাঁমনে পড়েছে আমার দুঃসম্পর্কের এক জেঠু ছিল, নাম জ্যোতি ব্যাগু উনি বলতেন এই কথা, "মানুষের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা মহাপাপ " লাল রঙের ঝোলা ছিল সে, পরে লাল রং টা ফিকে হয়ে যাওয়ায় ওনাকে আমরা কম Red জেঠু বলে ডাকতাম। যাই হোক শরীরের ব্যাথা থেকে মনের ব্যথায় ফিরি।

তাবুর ভেতর তখন এক যা তা অবস্থা। মনে পরে গেল মালিক একবার শুনিয়েছিল ওনাদের নামকরা এক কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার লাইন,

"কোনোদিন জাগিবেনা আর
জানিবার গাঢ় বেদনার
অবিরামঅবিরাম ভার
সহিবে না আর—"

দৃশ্য সহিবার ক্ষমতা আমারও ছিল না। রাত যত গাঢ় হয়ে আসছিল মালিকের নড়াচড়াও আস্তে আস্তে কমে আসছিল। তাহলে কি শরীর এবার ছেড়ে দিচ্ছে? কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। নির্বাক দর্শক হয়ে দেখে যাওয়া ছাড়া সেই মুহূর্তে আমার আর কিছুই করার ছিল না। তবে এই হতাশার মধ্যে একটু আশার আলো দেখিয়ে যাচ্ছিলো বা বলা ভালো আশার বাণী শুনিয়ে জাচ্ছিল মৈনাক। মাঝে মাঝেই থেকে থেকে হাল্কা করে নাক ডাকার আওয়াজ দিয়ে বলে দিচ্ছিল যে,
এখনও মরিনি
এখনও মরিনি

চলুন এই ক্ষীণ আশায় ভর করে আমাদের যাত্রাপথের বাকি গল্পটা বলে ফেলি যেখানে শেষ করেছিলাম।
সেদিন কমলির কাছ থেকে কথাগুলো শোনার পর বাকি রাতটা কেটেছিল ভারাক্রান্ত মন নিয়ে। সেদিন মনে হচ্ছিল ব্যাগেশ্বর আমাদের পা কেন দিল না? তাহলে তখনই স্যামের পেছনে দুটো লাথি কষাতাম। সালা কাবাবে হাড্ডি।

গরুবালি যায়গাটা বেশ সুন্দর অল্প কয়েকটা বাড়ি আর বেশ ছিমছাম। রাত বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রাও হু হু করে কমছিল। মালিক দের, বিশেষ করে আমার মালিক আর অনির্বাণের একটা আদিখ্যেতা আছে রাতে খাওয়া দাওয়ার পর এরা বাইরে ঘুরতে বেড়ান। বাবুরা এটার নাম নিয়েছে lical night life explore করা। ঢং যত্তসব! সমস্ত ট্যুরে গিয়ে এরা এটা করে। যাহোক গিয়ে কিছুক্ষনের মধ্যেই আবার ফিরে এলো। আর বিড়বিড় করে বলতে শুনলাম, "সালা কি -এর মতো ঠান্ডা রে!"

রাতে মালিকদের সবার শোবার ব্যবস্থা একই ঘরে করা হয়েছিল, আসলে আলাদা ঘর দিতে চেয়েছিল কিন্তু মালিকরাই একই ঘরে থাকার প্রস্তাব দেয়, তারা নাকি Adjust করে নেবে। ঘরে মোট খানা খাট ছিল একটাতে মৈনাক আর একটায় অনির্বাণ একা, একটায় সৌমিক আর দীপ, একটায় মালিক আর গোলাম, আরেকটায় ভিক্টর আর জয়শ্রী। আমরা মেঝেতে যে যার মালিকের পায়ের কাছে ছিলাম। আমার আর কমলির দূরত্ব খুব বেশী ছিলনা।

গ্রুপে যদি একজন বিবাহিত coulpe থাকে আর তারা সবাই যদি একই ঘরে থাকে তখন কি কি ইয়ার্কি ফাজলামি হতে পারে তা আপনারা নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারবেন, তাই বিস্তারিত বিবরনে আর গেলাম না। শোবার পর দুঘন্টা কাটলো সেই হা হা হি হি তে। মানুষেরা মাঝে মাঝে এরকম ছোট ছোট তুচ্ছ বিষয়ে এত কি ফুর্তি পায় আমরা ব্যাগেরা বুঝিনা। রাত টা কমলির দিকে তাকিয়েই কাটলো। মাঝে শুধু একবার মালিকের গলা পেয়েছিলাম,
- এই গোলাম কি করিস? পা টা নামা আমার ওপর থেকে আর সরে শো।

সকালে উঠে মালিকদের কে কার আগে bathroom যাবে সে নিয়ে খানিক্ষন কেত্তন চললো। তারপর breakfast রুটি তরকারি আর ডিম। মালিক দের পরবর্তী গন্তব্য ছিল ঘোট (বা ঘোটে) এই যায়গাটা সান্দাকফু থেকে মোটামুটি . কিমি দূরে। আগেই জানিয়েছিলাম গরুবালি যায়গাটা নেপালে পড়ে আর ঘোট পড়ে পশ্চিম বঙ্গে। মোটামুটি - ঘন্টার হাটা আছে। lunch টা রাস্তাতেই হবে তাই পার্থদা আর guide সান্তাজী packed lunch বানিয়ে নেয় রাস্তার জন্য।

সকাল থেকে আমার আর কমলির আর কোনও কথা হয়নি দু একবার চোখা চোখি হয়েছে মাত্র। আসল ট্রেকিংটা আজকের থেকেই শুরু ছিল। আগেই আপনাদের জানিয়েছিলাম মালিকের আগে আগে রওনা দেবার কথা, মালটা পিছিয়ে পড়ার ভয়ে সব সময় আগে থেকে রওনা দেওয়া শুরু করে। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। breakfast এর পরেই আমাকে পিঠে চাপিয়ে রওনা দিল মহানির্বানের পথে। কিছুদূর যাবার পর আমি মালিক কে বললাম,
- মালিক , কিছু কথা ছিল।
-মালিক : তোর কিছু একটা যে চলছে, সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। বল কি ব্যাপার
- আমি : কমলি।
মালিক থেমে গিয়ে মাথা ঘুরিয়ে বিষ্ময়ের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো?
- মালিক : জয়শ্রী রুকস্যাক?
- আমি : হুম
- মালিক : লেঙ্গি মেরেছে? বলে খ্যাক খ্যাক করে হাসতে লাগলো।

মেজাজটা খিঁচড়ে গেলো, ইচ্ছে করছিলো সাইডের স্ট্র‍্যাপ টা দিয়ে গালে ঠাস করে দিই একটা। মানুষদের মধ্যে সবার আগে প্রেমের চাইতে লেঙ্গির কথা কেন মাথায় কেন আসে বুঝিনা। নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,
- না গল্পটা শুরুতেই আটকে আছে।
-মালিক : হাঃ হাঃ এখনও শুরুই করতে পারিসনি? স্যাম কে তো দেখে মনে হলো বেশ দহরম মহরম আছে ওর সাথে, কিছু চলছে নাকি ওদের।
- আমি : না ওরা শুধুই বন্ধু
- মালিক : সাবধান! বন্ধুত্ব দিয়েই শুরু হয় প্রথমে। যাই হোক তা, বলেছিস ওকে তোর মনের কথা।

আমি এই কদিনের সব ঘটনা বললাম মালিক কে। কাল রাত পর্যন্ত সবকিছু।
- মালিক : হুম বুঝলাম। দোষ টা তোরই, কমলি তোকে যা যা বলেছে ঠিকই বলেছে। তুই অযথা ব্যাপারটাকে complicated করেছিস। এটা খুবই সরল আর সাধারন ব্যপার। পকেটে ব্যাগো (Bag এর ego) নিয়ে বসে থাকলে সারাজীবন এরকম নিজের দুঃখের কথা একে ওকে তাকে বলে যাবি আর পাখি অন্য ডালে উড়ে যাবে।

আমাদের জীবনে সম্পর্কের মধ্যে যত রকম সমস্যা আসে তার মূল কারন কি জানিস? Lack of communication. আমরা সবাই নিজেদের বিশাল জগতটাকে ছেড়ে নিজেদের মতো করে ছোট ছোট খুপরি বানিয়ে সেখানে ঢুকে বসে থাকি। নিজেরাই দরজা জানালা বন্ধ করে রেখে নিজের মনে আকাশ কুসুম কল্পনা করি তারপর আশানুরূপ ফল না হলে কেঁদে ভাসাই, "আমায় সালা কেউ বুঝলো না"

পৃথিবীতে কেউই কাউকে বোঝেনা। কার দায় পরেছে তোমাকে বোঝার? তোমার নিজেকেই নিজেকে বোঝাতে হবে তুমি কি চাইছো? কি expect করছো? কেউ অন্তর্যামী নয়। আর যদি বোঝাতে না পারো তাহলে সারা জীবন এরকম গুমরে গুমরে মরাই লেখা আছে তোমার কপালে। যদি কোনও সম্পর্ক আমাদের কাছে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় তাহলে তাদের ব্যাবহারে কোনও আঘাত পেলে বা তাদের কাছ থেকে কোনও প্রত্যাশা থাকলে সেটা খোলাখুলি বলে দিতে হয়, নাহলে তারা সেটা জানবে কি করে? তাই সবসময় সহজ হবি, সহজ কবি। দেখবি অর্ধেক সমস্যা ওখানেই solved.

আমরা মাঝে মাঝে নিজেদের নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে যাই যে বাকিদের কথা চিন্তাই করিনা। আমাদের বেশীরভাগ দুঃখ যন্ত্রনা আসলে আমাদের নিজেদেরই তৈরি করা। তাই সবসময় সবার কথা ভেবে চলতে হয়।
তোর মনে যা আছে কমলি কে সরাসরি বল। আরেকটা ছোট্ট tips দিয়ে রাখি, বলার সময় খেয়াল রাখবি তোদের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা যাতে শেষ না হয়ে যায়। তোদের মধ্যে communication টা যেন থাকে এটা খুব important. পরে একটা backup plan বলে দেব।

আরও প্রচুর ভারি ভারি জ্ঞানের কথা বলেছিল সেদিন। অত আর এখন মনে নেই আর আপনারাও আশা করি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছেন। মানুষেরর বিশেষত এই বঙ্গদেশের মানুষের এক টা সাধারন প্রবৃত্তি হলো এরা যদি একবার ভুল করেও জ্ঞান ঝাড়ার সুযোগ পায় তাহলে তাদেরকে আর পায় কে? একবার জ্ঞান দেবার সুযোগ পেলে চারিপাশে ত্রিভুবনে কি চলছে সব ভুলে গিয়ে জ্ঞানে বিভোর হয়ে যায়। আর বিপত্তিটা তখনই ঘটে।

প্রায় ঘন্টা ধরে জ্ঞান দিতে দিতে আমরা প্রায় অনেক দূরই এগিয়ে গেছি। পেছনে কারোর টিকি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছেনা। মালিকে মনে হলো এতক্ষনে ভাবের জগৎ থেকে ইহজগতে ফিরেছে। একটা উঁচু যায়গায় দাড়িয়ে দেখার চেষ্টা করলো, কারও দেখা নেই। কয়েকজনের নাম ধরে চিৎকার করে ডাকলো কোনও সাড়া শব্দ নেই। এবার আর এগিয়ে যাবার সাহস করলো না। একটা পাথরের ওপর বসে পরে বাকিদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। মুখে স্পষ্ট দেখতে পেলাম উদ্বেগের ছাপ।

কিছুক্ষন পর দূর থেকে সৌমিকের দেখা পাওয়া গেল। দূর থেকে মালিক কে দেখতে পেয়ে বললো,
-যেখানে আছিস ওখানেই থাক।

কাছে আসার পরই মালিক কে সবার আগে এক লাথি, তারপর যতরকম -কার -কার যত গালি হয় সব দিল। এর মধ্যে বাকিরাও পৌঁছে গেছে সেখানে,
-ভিক্টর : আরোও মার সালাটাকে।

আমি কিছুই বুঝলাম না ব্যাপারটা কি হচ্ছে! আমাদের guide সান্তাজী মালিকের সামনে এসে বললো,
- আপ ইস রাস্তে সে কিউ গেয়ে? নীচে এক শর্টকাট থা। ইস রাস্তে সে দো কিলোমিটার যাদা চড়না পরেগা।
আমরা যে রাস্তা দিয়ে এসছি সেখানে একটা short cut পথ ছিল। সেই পথ দিয়ে গেলে আমাদের কিমি কম চড়তে হতো। সেটা আমরা অনেক আগেই ফেলে এসছি তাই এখন আর ওখানে ফিরে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। সবাই যে যার মতো মালিক কে গালি গালাজ করার পর ঠিক হলো এই রাস্তা ধরেই যাওয়া হবে। মালিকের মুখটা তখন দেখার মতো ছিল।

প্রসঙ্গত আমিও একটা জ্ঞান দিয়ে রাখি। ট্রেকিং এর সময় রুটের ব্যাপারে guide এর পরামর্শ ছাড়া এক পা চলা উচিৎ না। অনেকেই পাকামো করে নিজেরাই শর্টকাট ভেভে নিয়ে অন্য পথে হাটা শুরু করি, এটা কখনোই করা উচিৎ নয়, এতে ভয়ংকর বিপদ হতে পারে। ছোট খাট বিপদের উদাহারন তো মালিকের থেকেই পেয়ে গেলেন।

যাইহোক সবাই মিলে এবার একসাথে উঠতে লাগলো। এখন মালিক সবার পেছনে। আসলে কথায় বলে না! কপালে last লেখা থাকলে পশ্চাতদেশে Jet Engine লাগিয়েও তাকে first করানো যায়না। ভাবলাম মালিক কে একবার কানে কানে বলি, "মালিক, আমরা মাঝে মাঝে নিজেদের নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে যাই যে বাকিদের কথা চিন্তাই করিনা। আমাদের বেশীরভাগ দুঃখ যন্ত্রনা আসলে আমাদের নিজেদেরই তৈরি করা। তাই সবসময় সবার কথা ভেবে চলতে হয়।" 😝😝😝 ভাগ্যিস বলিনি, নাহলে সেদিন হয়তো আমাকে পাহাড় থেকে ছুঁড়েই ফেলে দিত।

কিছুক্ষন পর একটা মাঠের মতো যায়গা এলো এখানে ঠিক হলো সবাই lunch করবে। যে যার মতো packed lunch করে নিলো। এতক্ষনে সবার রাগ খিল্লি তে পরিনত হয়ে গেছে। খেতে খেতে মালিক কে নিয়ে খানিকক্ষণ খিল্লি চললো। তারপর আবার চলা শুরু। কিছুটা সমতল যাবার পর আবার চড়াই। প্রায় ঘন্টা পাহাড়ি ছোট রাস্তা দিয়ে চলার পর অপেক্ষাকৃত একটু বড় রাস্তায় এসে মিলিত হলো। এই রাস্তাই হলো সান্দাকফু থেকে ফালুট যাবার রাস্তা। এখান থেকে বা দিকে গেলে ফালুট আর ডানদিকে সান্দাকফু। মালিক রা ডানদিক ধরলো।
মালিকরা যখন lunch করছিলো তখন আমরাও একসাথে ছিলাম। আমি গোলু, হোৎকা, স্যাম, কমলি সবাই একসাথে গল্প করছিলাম। আমি এখন আগের থেকে অনেকাই relaxed, মালিকের vocal tonic কাজে দিয়েছে। আমরা এদিক ওদিকের কথা বলছিলাম। হোৎকা বলছিল এটা তার প্রথম বড় ট্রেকিং এর experience. আমি আমার রণনীতি ঠিক করে নিয়েছি, আগে নিজের জমিটা আরও শক্ত করবো তারপর সুযোগ বুঝে কথাটা পারবো। ফান্ডাটা বুঝে গেছি, আগে কাছের মানুষ হতে হবে তারপর মনের মানুষ 😜

আরও মোটামুটি ৩০ মিনিট হাটার পর মালিকরা ঘোটে পৌঁছল। পার্থদা আর শরদিন্দু আগেই পৌঁছে
গিয়েছিল। গিয়ে দেখলাম ওরা তাবু খাটানোর ব্যবস্থা করছে। মালিক রা পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে চায়ের অর্ডার দিলো। পাশেই একটা ছোট ঘর মতো ছিল, ওখানে খাবার দাবার এর ব্যবস্থা ছিল। মালিকদের দেখে মনে হলো যায়গাটাতে বেশ ঠান্ডা আছে দিনের বেলাতেও। আসলে এই যায়গাটার চারপাশটা ফাঁকা তাই হাওয়া ছিল ফলে ঠান্ডাটাও বেশী লাগছিল। এখানে সান্দাকফু থেকে অনেকে গাড়িতে করেও ঘুরতে আসে, কারন এখানে একটা view point আছে।

ওখানে আমরা ছাডাও এক spanish যুগল ছিল। ওরাও রাতে থাকবে ওখানে। তবে আমাদের মতো তাবুতে নয়। এরা নিজেদের caravan নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছে, ওতেই থাকবে রাতে। ওতে করেই সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে। India পর এরা যাবে পাকিস্তান। এলেম আছে মাইরি। লালমোহন বাবু থাকলে এদের নির্ঘাত cultivate করে নিতেন। দীপ মাঝখানে গিয়েছিল এদের সাথে পাবলো নেরুদা নিয়ে কথা বলতে। কিছুক্ষন পর ফিরে এসে বলে, "uncultured spanish এরা, নেরুদা পড়েনি!"

রাতে মালিকদের খাবারের ব্যবস্থা ছিল ওই ছোট ঘরটাতেই। রাতে খাবার পর মালিকেরা যখন আগুনের ধারে বসে আড্ডা দিচ্ছে তখন এদিকে আমাদের আড্ডাও চলছে। আমি সবাইকে বলছিলাম আজ মালিকের জ্ঞানের কথাগুলো আর তার পরেই যে ঘটনাটা ঘটে সেটার কথা। সবাই শুনে হো হো করে হেসে উঠলো। কমলির হাসিটা যেন তীরের মতো এসে বিঁধছিল আর ফালা ফালা করে দিচ্ছিল ভেতরটা। এইভাবে সেধে ফালা ফালা হওয়াতেও যে কি আনন্দ আছে সেটা যাদের হয়েছে তারাই জানে। হে ব্যাগেশ্বর আর কতদিন এই আগুনে জ্বালাবে আমাকে!!!

রাত বাড়ার সাথে সাথে ঠান্ডা আরো বেড়েছে। মালিকেরা যতক্ষন আগুনের কাছে ছিল ততক্ষণ টের পায়নি। বাইরে বেড়োনোর পর ব্যাপারটা বুঝতে পারলো। হাড় পর্যন্ত নাকি কাঁপিয়ে দিচ্ছিল। ঠান্ডা এতটাই ছিল যে মালিক বা অনির্বাণ কেউ আর local night life explore করার কথা মুখে পর্যন্ত আনেনি। সবাই মিলে ঠকঠক করতে করতে নিজেদের তাবু তে গিয়ে ঢুকলো। মোট চারটে তাবুর ব্যবস্থা ছিল। একটায় ভিক্টর আর জয়শ্রী, একটায় সৌমিক, দীপ আর গোলাম, একটায় পার্থ দা আর শরদিন্দু, আর একটাতে মালিক, অনির্বাণ আর মৈনাক। আমরা যে যার মালিকের সাথে গিয়ে তাবুতে ঢুকলাম।

বিপত্তি টা হলো তার পর। তাবুতে কিছু গন্ডগোল ছিল নাকি লাগানো তে কিছু সমস্যা হয়েছিল কে জানে? তাবুর ভেতর হু হু করে হাওয়া ঢুকছে আর তার সাথে ঠান্ডা। মালিকেরা আমাদের ভেতর থেকে যত জামা কাপড় আছে সব বার করে গায়ে চাপালো। তারপর slipping bag এর ভেতরে ঢুকলো। কিন্তু এই ঠান্ডার কাছে এসব কিছুই না। একটু পড়েই কানে এলো মালিকদের দাঁতে দাঁত লাগার শব্দ। আর রাত বাড়ার সাথে সাথে বাইরে আরো বাড়তে লাগলো হাওয়ার দাপট। আমি ব্যাগেশ্বরকে স্মরণ করতে লাগলাম আর প্রর্থনা করতে লাগলাম রাত টা যেন কোনও মতে পার করে দাও! 🙏

No comments

Error Page Image

Error Page Image

Oooops.... Could not find it!!!

The page you were looking for, could not be found. You may have typed the address incorrectly or you may have used an outdated link.

Go to Homepage