default | grid-3 | grid-2

Post per Page

এক রুকস্যাকের আত্মকথা (পর্ব ২)



আগন্তুক



...রাত এখনো অনেকটাই বাকি। মালিক আর অনির্বাণ স্লিপিং ব্যাগের ভেতর এপাশ ওপাশ করে যাচ্ছে আর ঠক ঠক করে কাঁপছে। কমলি পাশের তাবুতেই ছিল, আমি মনে মনে ভাবছি ওর কি অবস্থা, কেমন আছে কে জানে। একবার ভাবলাম মালিক কে বলি একবার দেখে আসতে পাশের তাবুতে ওর কি অবস্থা, পরক্ষনেই ভাবলাম মালটা তো নিজেই মরতে বসেছে, এ আবার কি দেখবে। অর্থাৎ এই মুহুর্তে আমার করার কিছুই নেই, আসুন এই ফাঁকে আপনাদের যাত্রাপথের শুরুর গল্পটা যেখানে শেষ করেছিলাম সেখান থেকে বাকিটা বলি।

মালিক আর মৈনাক সারা রাত লোকজনের হাত ধোঁয়া জলের ছিঁটে, প্লাস্টিকের চায়ের কাপ, ঝালমুড়ির মোচড়ানো ঠোঙা এসবের আক্রমণ সহ্য করে সকাল আটটা নাগাদ নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছাল। মালিকেরা ছিল পাঁচ জন আর ওদিক থেকে মানে কোচবিহার থেকে আরো তিন বন্ধু আসছিল সৌমিক, গোলাম আর দীপ। ওরা কোচবিহার থেকে বাসে শিলিগুড়ি পৌঁছায়, এবং NJP Station এ এসে মালিকদের সাথে meet করে।

পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা হলে, সবাই কি করে? কুশল, শুভেচ্ছা বিনিময় এসব করে। ওদের দেখা হবার পর, দীপের প্রথম প্রশ্ন ভিক্টর কে,

- সালা হারামী, তোর পাল্লায় পড়ে আবার মরতে যাচ্ছি।

- ভিক্টর : সাআআআলা... আমি আছি দেখেই এখনো বেঁচে আছিস রে, নাহলে তো কবেই ফুরিয়ে যেতিস সংসার আর কাজের চাপে।

সালা দার্শনিকের বাচ্চা!

এদিকে মালিকদের ট্যুর অপারেটার আর ম্যনেজার, পার্থদা আর শরদিন্দু গাড়ি নিয়ে তাদের জন্য ready ছিল। মালিকদের সাথে প্রাথমিক পরিচয়পর্ব সেরে মালিকদেরকে গাড়ির দিকে নিয়ে গেল। মালিকেরা গাড়ির ভেতরে গিয়ে বসলো আর আমাদের একে একে চালান করা হলো গাড়ির ওপরে ছাদে। গাড়ি ছাড়ার পর ওপর থেকে শুনতে পাচ্ছিলাম মালিকদের জন্য packed breakfast serve করা হচ্ছে গাড়ির ভেতরে। Breakfast এ পাঁউরুটি ডিমসেদ্ধ আর আর রসগোল্লা ছিল। রসগোল্লার সাইজ এতটাই ছোট ছিল। যে প্যকেট খোলার পর সৌমিক প্রথমেই রসগোল্লাটা হাতে নিয়ে হাসতে হাসতে সবার উদ্দেশ্যে দেখিয়ে বললো।

- ভাই এটা কি রসগোল্লা? নাকি অমুকের *$%#@ ??

সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। প্রঙ্গত বলে রাখি, মালিকেরা কোনও ট্যুরেই জয়শ্রী কে আর মেয়ে হিসেবে ধরেনা। ওর সামনেই অকথা, কুকথা সব চলে যা একটা ছেলেদের group এ হয় আর কি! কমলি আমাকে বলছিল এই সুবাদে জয়শ্রী র vocabulary নাকি আগের থেকে অনেক improve করেছে।

আমি গাড়ির ওপরে বেশ ভালোই যাচ্ছিলাম, ফুরফুরে হাওয়া খেতে খেতে। একটু দূরেই কমলি। কমলির ডানদিকের কাঁধের starp এর ফিতেটা হাওয়ায় পত পত করে উড়ছিল, দেখতে বেশ লাগছিল। মানুষ যেমন হাওয়াতে প্রেমিকার খোলা চুল নিয়ে কাব্য করে, আমাদেরও রোমান্স তেমনি পত পত করে উড়তে থাকা strap এর বাড়তি ফিতেতে। সব কিছু মিলিয়ে মিশিয়ে একটা জমজমাটি ব্যপার স্যপার। তখনো কোনও কথা শুরু হয়নি। মনে মনে ভাবছি আর ছক কষছি কিভাবে কথাবার্তা এগোনো যায়।

কে যেন বলেছিল না? "ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না", লোকটাকে সামনে পেলে আজ বহুত ক্যলাতাম। আমি যতক্ষন এসব ভাবছি স্যাম ততক্ষণে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

প্রশ্ন হলো স্যাম কে? স্যাম হলো এক ফুল দো মালীর গল্পের আরেক মালী। পুষ্প বেছানো আমার প্রেমের পথের একমাত্র কাঁটা। ও হলো সৌমিকের রুকস্যাক। ওর গায়ের রঙ ছিল সবুজ তাই আসল নাম শ্যমল। মালটাকে প্রথম দর্শন থেকেই আমার পছন্দ ছিল না, ও ছিল খানিকটা উপড়ি চালাক, over smart প্রকৃতির। শ্যামল নামটা নাকি happening নয় তাই সবাইকে পরিচয় দেয় স্যাম নামে। যত্তসব!!! কথাবার্তা, attitude আর ভাব ভাব দিয়ে প্রথমেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে নেবার মতো। কমলিও শুরুতে সেই ফাঁদেই পা দেয়।

আমি দেখলাম স্যাম আর কমলি এক কোনায় বসে গল্পে মসগুল হয়েছে। যেই পত পত দেখে এতক্ষণ কাব্য আসছিল সেটাই এখন দুচক্ষের বিষ মনে হতে লাগলো। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে আমি, হোৎকা মুখো আর গোলু গল্প করতে লাগলাম।

আমার মালিক পই পই করে বলে দিয়েছে একটা গল্পে দুটো গল্প যদি বলতে চাস খুব সাবধানে বলবি, একটা গল্পকে যদি একটু বেশী গুরুত্ব দিয়ে দিস তাহলে শেষে গিয়ে দেখবি অংক মেলাতে পারবিনা। দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যা, আর শেষে পাঠকদের decide করে নিতে দে, কোনটা main dish আর কোনটা side dish. মালিক আমার এসব জ্ঞান দিতে ওস্তাদ।

গাড়ি শিলিগুড়ি, সেবক হয়ে মিরিকের দিকে এগোল। মিরিকের কিছু আগে একটা যায়গায় মালিকেরা সবাই গাড়ি থেকে নেমে চা, পকোড়া ইত্যাদি খেল। এবার ঠান্ডাটা আস্তে আস্তে টের পাওয়া যাচ্ছিল। ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে গাড়ি আবার রওনা দিল। মিরিক এর চা বাগান, লেক এসব অতিক্রম করে গাড়ি চললো পশুপতির দিকে। দুপুর ২ টো নাগাদ সবাই পশুপতি পৌঁছালাম।

পশুপতি যায়গাটা নেপালের অন্তর্গত। ওখান থেকে নেপালের শুরু। পশুপতি শীবের আরেক নাম, ওখানে শীবঠাকুরের বড় একটা মন্দির আছে, সে থেকেই জায়গাটার নামকরন। নেপাল যেহেতু আলাদা দেশ তাই সেখানে ঢুকতে গেলে আলাদা permit এর দরকার হয়। এখান থেকে গাড়ি change করতে হবে।

মালিকেরা সব গাড়ি থেকে নামল আর আমাদেরকেও ওপর থেকে নামাল। এখানে ঠান্ডাটা বেশ ভালোই টের পাওয়া যাচ্ছিল। মালিকেরা আমাদের থেকে কিছু হাল্কা গরম জামা চেয়ে নিল। এখানে মালিকদের ট্যুর গাইড সান্তাজী মালিকদের জন্য অপেক্ষা করছিল। সে আগে থেকে permit এর সব ব্যবস্থা করে রেখেছিল। মালিকেরা পৌঁছাতে সবার identity card নিয়ে অন্তিম পর্বের official কাজটুকু সেরে ফেলল। ওখানে official id হিসেবে আমাদের ভোটার কার্ড অথবা, passport এর original নিয়ে যেতে বলেছিল। কিন্তু মৈনাক যাবার দিনই তার original ভোটার কার্ডটা xerox এর দোকানে ভুল করে ফেলে আসে, তাই মালিকেরা সবাই একটু tension এ ছিল। তো যাই হোক সে নিয়ে বিশেষ কিছু সমস্যা হয়নি। সবই পশুপতির কৃপা।

আমি মালিকের পিঠে চেপে নেপালে ঢুকলাম। এখানেই একটা ছোট হোটেলে আমাদের lunch এর ব্যবস্থা। আমাদের এক কোনায় রেখে মালিকেরা হাত মুখ ধুতে গেল। ঠান্ডার যায়গায় ঠান্ডা জলে হাত ধোয়ার বিড়ম্বনা যে কি সেটা যারা experience করেছে তারাই জানে। আমি দূর থেকে নাচন কোদন করতে করতে মালিকদের হাত ধোয়া দেখতে লাগলাম আর মনে মনে হাসতে লাগলাম। ভাগ্যিস আমাদের এসবের বালাই নেই!!!

মালিকেরা ডিম ভাত সহযোগে lunch করে যখন বেরোল তখন প্রায় ৩:১৫ বাজে। ওখান থেকে ভিক্টর চকলেট, chewomg gum আরো কি কি সব কিনে নিল, যারা নিয়মিত ট্রেক করেন তারা জানেন এসবের মাহাত্ম্য। পার্থদা আর শরদিন্দু র খাওয়া তখনো শেষ হয়নি। সৌমিক একটু পরে এসে মালিক কে জানালো পার্থ দা রা pork খাচ্ছে, আর ও খানিকটা চেখে এসছে ওদের থেকে। এটা মালিক কে বলার কারন হলো, pork জিনিসটা মালিকের খুব প্রিয় জিনিস। মালিক শুনে আফসোস করে বললো,

- ইস আগে জানলে না ওটাই খাওয়া যেত।
ম্লেচ্ছ কোথাকার!!!

এখান থেকে পরবর্তী গন্তব্য মাইমাজুয়া। দূরত্ব খুব সম্ভবত ৪০ কিমির কাছাকাছি। শুরুর ২৮ কিমির রাস্তা খুব ভালো কিন্তু শেষের ১২ কিমি খুব খারাপ রাস্তা পুরোটাই মাটি আর পাথরের। সাধারন গাড়ি সেখানে যেতে পারেনা তাই সান্তাজী land rover এর ব্যবস্থা করে রেখেছে।

পশুপতিতে নামার পর স্যামের রঙ্গ তামাশা আরো বেড়ে গিয়েছি। মাঝে মাঝেই দেখছি কমলির ধূলো ঝেড়ে দিচ্ছে, কোথাও একটু জল বা কিছু পড়লে সাথে সাথে মুছে দিচ্ছে। গা পিত্তি জ্বলে জাচ্ছিলো এসব আদিখ্যেতা দেখে। পাবলিক ফোরাম তাই গা জ্বলার কথাটাই বললাম, আসলে জ্বলছিল অন্য কিছু। কমলি মাঝে এক দুবার আমার সাথে কথা বলতে এসছিল কিন্তু আমি হুঁ হাঁ করে কাটিয়ে দিয়েছি। স্যামও মাঝখানে এসছিল কথা বলতে। মালিকদের lunch এর পর যখন সবাই বাইরে দাঁড়িয়ে আছি তখন স্যাম আমার কাছে এসে বলে,

- Hey রুক্স! দারুন chilling না weather টা? পুরো জমে জাচ্ছি ঠান্ডায়।

আমি বললাম,
- কই তেমন কিছু নয়তো! আমার এসবের অভ্যাস আছে।

"গ্রেইট ইয়ার" বলে চলে গেল।

এদিকে ভেতর ভেতর আমি ঠক ঠক করে কাঁপতে কাঁপতে মালিকের পিঠে চড়ে গাড়ির দিকে এগোলাম।

গাড়িটাতে সামনের সীটে দুজন বসতে পারে মাঝে চারজন। আর পেছনে কোনো সীট নেই। পেছনটা ফাঁকা। অনেকটা যায়গা সেখানে। ওটা রেসনপত্র, তেল আরো আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র, আর আমাদের কে নিয়ে যাবার যন্য। ড্রাইভার, পার্থদা, শরদিন্দু, সান্তাজী কে নিয়ে আমরা ছিলাম মোট ১২ জন। অনির্বাণ প্রথমেই হই হই করে সামনের সীটে গিয়ে বসে পড়লো। মাঝে মালিক, ভিক্টর, জয়শ্রী আর দীপ। বাকিরা সব পেছনে।

গাড়ি তে পেছনের সীটে উল্টো মুখ করে বসলে অনেকেরই সমস্যা হয় সেটা অনেকেই জানে। গোলামের সেই সমস্যাটা ছিল মালিকরা জানত না। তাই কিছুদূর যাবার পরেই সৌমিক পেছন থেকে জানালো গাড়ি থামাতে, গোলাম হয়তো বমি করবে। হলোও তাই গাড়ি থামার সাথে সাথে গোলাম গাড়ি থেকে নেমে, দুপুরে যা খেয়েছিল... থাক, সে বর্ননা আর দিচ্ছিনা। চোখে মুখে জল দিয়ে গোলাম বসলো মাঝের সীটে আর মালিক চলে এলো পেছনে।

এরপর বিকেল ৫ টা নাগাদ গাড়ি ইলাম বাজার বলে একটা যায়গায় দাড় করালো। এই যায়গাটা বিভিন্ন নামীদামী brand যেমন Nike, Adidas, The North Face, Comumbia etc. এর duplicate product এর জন্য বিখ্যাত। Original producr এর মত হুবহু দেখতে জিনিস খুব অল্প দামে পাওয়া যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেদিন market টা বন্ধ ছিল। মালিকেরা সবাই গাড়ি থেকে নামলো কিছুক্ষনের জন্য।

গাড়িতে আমি আর গোলু পাশাপাশি ছিলাম। মালিকেরা নেমে যাবার পর গোলু আমাকে আস্তে করে যিগ্যেস কিরলো,

- কমলির সাথে কি তোমার ঝগড়াঝাটি হয়েছে কিছু?
- আমি : কেন বলোতো?
- গোলু : না ও জিগ্যেস করছিল তোমার কথা, বলছিল তুমি নাকি ঠিক করে কথা টথা বলছোনা ওর সাথে।
- আমি : না না সেরকম কিছু না।

মনে মনে বললাম,
- দিব্যি তো আছো স্যামের সাথে, আবার আমাকে কি দরকার।

ইতিমধ্যে মালিকেরা ফিরে এলো। ওরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিল সেখান থেকে শুনতে পেলাম, এখানে নাকি কমলা লেবু খুব সস্তা আর নাকি দারুন খেতে। একটা মজার ব্যাপারও হয়েছে এখানে। কমলা লেবু কেনার জন্য ভিক্টর দোকানদার কে ৫০ টাকা দিয়েছে, দোকানদার কমলালেবু সহ ওকে আবার ৫০ টাকাই ফেরৎ দিয়েছে। কি হলো ব্যাপারটা? পরে বুঝলাম আসলে ওখানে নেপালের currency চলে। Indian rupee র তুলনায় ওদের টাকার value অর্ধেক। তাই আমাদের ৫০ টাকা ওদের ১০০ টাকার সমান। ভিক্টর আমাদের ৫০ টাকা দোকানদার কে দিয়েছে, কমলা লেবুর দাম ছিল ৫০ টাকা, দোকানদার নেপালের টাকায় ৫০ টাকা ফেরৎ দিয়েছে।
আজব মাইরি!

গাড়ি কিছুদূর গিয়েই পাকা রাস্তা ছেড়ে মাটির রাস্তায় উঠলো। এতক্ষনে অন্ধকার নেমে এসছে। প্রথমে খানিকটা মাটির রাস্তা দিয়ে যাবার পর গাড়ি খানা, খন্দ, মাঠ, ঘাট এসবের মধ্যে দিয়ে লাফাতে লাফাতে এগোতে থাকলো। আর তারসাথে ধূলো, বাপ রে বাপ। সবাই ধূলো মেখে সাদা ভূত হয়ে গিয়েছিল।

সৌমিক একটু পা ছড়িয়ে বসার জন্য আমাকে এক এক কোনায় রাখলো। কমলি সামনেই বসেছিল। একবার গাড়ির ঝাঁকুনি তে আমার মাথাটা গাড়ির দেয়ালে জোরে ঠুকে গেল। কমলি বলে উঠলো,

- ইসস, লাগলো নাকি?
- আমি : না।

এভাবে মোটামুটি ৬ কিমি যাবার পর শুরু হলো পাথুরে পাহাড়ি রাস্তা। একেবারেই সরু রাস্তা, বোল্ডার ফেলে তৈরি করা আর পাশে গভীর খাদ। আগের দিন বৃষ্টি হওয়াতে রাস্তার যাগায় যাগায় জল ও জমে আছে তাই কোথায় বড় গর্ত আছে সেটাও বোঝা যাচ্ছেনা। মাঝে মাঝে গাড়ি খাদের দিকে এমন ভাবে হেলে যাচ্ছে যে মালিকদের ওই দেখে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যাবার জোগাড়। এতক্ষন মালিকেরা সবাই বেশ হিহি হাহা করছিল, কিন্তু এই রাস্তায় ওঠার পর থেকে সবার কথা বন্ধ। সবাই ভাবছে কতক্ষনে পৌঁছাবে।

পেছনে মালিক আর সৌমিক আস্তে আস্তে গল্প করছিল। সৌমিক পেছনে সবাইকে বললো,

- দেখিস নামার পর ভিক্টর বলবে, "সাআআআলা কি রাস্তা তোরা তো দেখলিনা"

ও সামনে থেকে যেটা দেখেছে আমরা পেছন থেকে সেই একই জিনিস ই দেখেছি। এভাবে প্রান হাতে করে ধূলো টুলো মেখে আমরা প্রায় ৭:১৫ নাগাদ মাইমাজুয়া পৌঁছে যাই। সবাই গাড়ি থেকে নেমে যখন ধূলো টুলো ঝাড়ছে, তখন ভিক্টর মালিক আর সৌমিকের কাছে এসে বলে,

- সাআআআলা কি রাস্তা তোরা...
এটুকু শোনার সাথে সাথেই সবাই একসাথে হো হো করে হেসে উঠলো।

মাইমাজুয়া তে মালিকদের থাকার যায়গাটা বড় সুন্দর ছিল। একটা বড় বাড়ি। তার মধ্যে ground floor এ তিনটে

বড় ঘর আর একটা hall ঘর। যাবার সাথে সাথেই চা আর বিস্কুট চলে এলো। ওখানকার চা টা আমাদের মতো না ওরা black tea তে ওখানকার বিশেষ ভাবে তৈরি এক ধরনের herbs use করে, ওটা নাকি দারুন লাগে খেতে।

ওখানে বিশেষ করে নেপাল, ভুটান, সিকিম side এর পাহাড়ে এক ধরনের local drink পাওয়া যায়। পাহাড়ি ভাষায় যাকে ছাং বলে। এটা যারা ওসব side এ ট্রেক করতে যান তারা হয়তো শুনে থাকবেন। এটা সাদা রঙের হয় দেখতে, ওখানকার লোকাল প্রাকৃতিক জিনিসপত্র দিয়ে তৈরি হয়। নেশা করার জিনিস বললেও ওতে নেশা খুব বেশী হয়না। তবে একটা energetic ভাব এনে দেয়। পাহাড়ের যে কোনো ট্যুরে মালিকের এটা বাঁধা থাকে। এখানেও চলে এলো গ্লাসে করে গরম গরম। ওখানে আরও এক ধরনের local drink পাওয়া যায় যেটাকে তোংবা বলে। ওটা millet বা বাংলায় যাকে বলে বাজরা দিয়ে তৈরি হয়। এটার পরিবেশন টাও বড় অদ্ভুত ভাবে করা হয়। একটা বাঁশের বড় পাত্রে fresh ভিজিয়ে রাখা বাজরা থাকে আর তার সাথে ওদের কিছু natural ingredients মেশানো থাকে। এর ওপরে গরম জল ঢেলে দেওয়া হয় আর একটা সরু বাঁশের কাঠি মত দেওয়া হয় straw হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। millet ভরা পাত্রে সেই বাঁশের straw ডুবিয়ে টানতে হয়। শেষ হয়ে গেলে আবার গরম জল ঢেলে fill করে নিতে হয়। স্বাদটা একটু টক টক হয়। খুব ঠান্ডার মধ্যে খেলেও নিমেষের মধ্যে শরীর গরম হয়ে যায়। মালিকের আবার আরেকটা theory আছে। মালিক বলে ওটা খেলে নাকি পরদিন সকালে খুব ভালো পেট পরিষ্কার হয়।

যত্তসব নেশা করার বাহানা!!!

রাতের খাওয়া দাওয়াও নাকি যথেষ্ট ছিমছাম ছিল, মালিক বলছিল। dinner এর পর শুতে যাওয়া নিয়ে আরেক কীর্তন। মালিকদের মধ্যে একজন রাতে বিশাল জোড়ে নাক ডাকে তাই অন্য একজন (ইচ্ছা করেই নাম বলছিনা) মালিক কে বললো,

- শোনো না তুমি আমি আর আরেকজন এক ঘরে শোব। আর যে নাক ডাকে তাকে আরেক ঘরে পাঠাব। সেইভাবে আগে থেকেই arrange করে নিও।

কিন্তু সেই plan আর বাস্তবায়িত হয়নি। ভিক্টর আর জয়শ্রী একটা ঘরে। বাকি ছ'জন অন্য দুটো ঘরে। আর পার্থদা, শরদিন্দু hall ঘরে নিজেদের slipping bag বিছিয়ে শুয়ে পড়ে।

আমি আর কমলি আবার আলাদা হয়ে গেলাম। infact আমি কমলি আর স্যাম তিনজনে এখন তিন ঘরে। আমি একদিকে কমলির কথা ভাবছি আরেক দিকে ভাবছি স্যাম কমলির কথা ভাবছে কিনা, আবার ভাবছি কমলি কার কথা ভাবছে? আমার না স্যামের?

আপনারা কি ভাবছেন? এই ভাবা ভাবি সারা রাত ধরে চলবে। আপনারা কি ততক্ষন বসে থাকবেন নাকি? যান হাতের কাজ গুছিয়ে নিন আবার দেখা হবে পরের  পর্বে।





No comments

Error Page Image

Error Page Image

Oooops.... Could not find it!!!

The page you were looking for, could not be found. You may have typed the address incorrectly or you may have used an outdated link.

Go to Homepage