default | grid-3 | grid-2

Post per Page

এক রুকস্যাকের আত্মকথা (পর্ব ১)

এক রুকস্যাকের আত্মকথা পর্ব ১

পথের পাঁচালি




মালিক যেদিন আমাকে বললো আত্মকথা লিখতে হবে তখন ব্যাপারটা ঠিক বুঝিনি। ভাবলাম, বাব্বা হঠাৎ এত সন্মান!!! ব্যাপার টা কি?

পরে বুঝলাম আমি লিখলে সাথে সাথে তার কথাটাও তো লেখা হয়ে যাবে। আমার তো আর পা নেই!!!😐 মালিকের পিঠে চড়েই আমার পর্বত ভ্রমন। তাছাড়া মালিক মালটা বহুত আলসেও আছে, লিখতে বললে গায়ে জ্বর আসে। সেই কবে লিখেছে একখানা বেড়ানোর গপ্পো, তারপর আর কোনও পাত্তা নেই। সেজন্যই আমাকে এতো তেল দেওয়া। আমাকে বলে কিনা,

- "কটা রুকস্যাক তার আত্মকথা লিখে যেতে পেড়েছে? দেখবি তোরটা অমর হয়ে থাকবে"।

মুখে বড় বড় কথা আর এদিকে মাসের পর মাস আলমারি র ওপরে ধুলোর মধ্যে ফেলে রেখে দিয়েছে।

বহুত হারামজাদা আছে আমার মালিক টা। প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমার মুখের ভাষা কিন্তু একেবারেই কাব্যিক নয়। মালিক বলে, কিছু ফুটপাতিয়া রুকস্যাকের সাথে মিশে মিশে নাকি আমার মুখের ভাষার একদম বারোটা বেজে গেছে। আর বানান টানান গুলোও একটু নজরআন্দাজ করে যাবেন। মাঝে মধ্যেই দেখতে পাবেন বানান গুলো অনাথ হয়ে গেছে (বাবা মা র ঠিক নেই কোনও)। ওগুলো নিজমনে শুধরে নেবেন।

আবার ভাবি এই লোকটা না থাকলে আমাকে পিঠে চাপিয়ে পাহাড় দেখাবে কে? লোকটাকে যতই গালি দি, মনে মনে জানি, একে ছাড়া আমার চলবে না। সেই দিনটার কথা মনে পড়ে গেল যেদিন ভেবেছিলাম মালটা বোধহয় টপকে গেলো আজকে-

যায়গাটা ছিল গোট বা ঘোট এরকম কিছু একটা উচ্চারণ হবে। সান্দাকফু থেকে ১.৫ কিমি দূরে ফালুট যাবার রাস্তায় পড়ে। তাবুর এক কোনায় আমি পড়ে আছি, ভেতরে মালিক, অনির্বাণ আর মৈনাক। বাইরে হু হু করে হাওয়া বইছে, জানিনা তাবুটা লাগানোতে কোনও গন্ডগোল ছিল কিনা। কারন তাবুর নীচে দিয়ে ভেতরে ক্রমাগত ঠান্ডা হাওয়া ঢুকছিল। আমি মালিকের মাথার কাছেই ছিলাম তাই অন্ধকার থাকা সত্ত্বেও বুঝতে পারছিলাম যে slipping bag এর ভেতরে মালিক থরথর করে কাঁপছে। আমার কিছু করার ছিলনা। কিছুক্ষন পর,

- মালিক : অনির্বান!!!!
(কোনও সাড়া নেই)

- মালিক : ও আনির্বান।
- অনির্বাণ : (কাঁপা কাঁপা গলায়) হুঁ।
- মালিক : জেগে আছো?
- অনির্বাণ : আর বাঁঁচবোনা মনে হচ্ছে।
ব্যাগের মধ্যে যত রকম গরম কাপড় ছিল সব গায়ে চাপিয়েও বিন্দুমাত্র ঠান্ডা আটকানো যাচ্ছিলোনা।

- অনির্বাণ : কখন যে ভোর হবে, সেই অপেক্ষা করে আছি।
- মালিক : ভোর পর্যন্ত আমি টিকবো বলে মনে হচ্ছে না।

এদিকে আমি এসব শুনছি আর আমার মনের মধ্যে হিন্দি সিনেমার ট্র‍্যজিক মুহুর্ত গুলোতে যেসব violin এর সুর গুলো বাজে সেসব বেজে চলেছে। সিনেমায় যেমন দেখায় অন্তিমকালে সবাই তার পুরোনো স্মৃতি দেখতে পায়, আমি সেরকম flashback দেখতে পাচ্ছি।

সময়টা ডিসেম্বরের শেষ দিক। মালিক আমাকে পিঠে নিয়ে শিয়ালদা south platform থেকে 9B platform এর দিকে যাচ্ছে। সাথে জয়শ্রী আর ওর সুন্দর দেখে একটা লেডিস রুকস্যাক। ট্রেকিং এর গ্রুপে খুব একটা লেডিস রুকস্যাকের দেখা আমি পাইনা। প্রতিবার যত রাজ্যের মদ্দা রুকস্যাক গুলোর সাথে আড্ডা মারতে হয়। এবার একটা লেডিস রুকস্যাক সাথে থাকায় আমি বেশ পুলকিতই ছিলাম 😊 পরিচয় থেকে আলাপ, আলাপ থেকে বন্ধুত্ব সবই হয়েছে এই ট্যুরে। Infact বন্ধুত্ব থেকেও খানিকটা এগিয়েছে।😜.

জয়শ্রী হলো মালিকের গ্রুপের সবচাইতে বড় মাতব্বর ভিক্টরের স্ত্রী। ওনার কাহিনি মালিকের আগের গল্পে আছে, যারা পড়তে চান মালিক কে বলবেন উনি link টা দিয়ে দেবেন। ভিক্টর কোথাও একটা মাতব্বরি করতে গেছেন তাই ওনার স্ত্রী কে শিয়ালদা পর্যন্ত নিয়ে যাবার দায়িত্ব পড়েছে আমার মালিকের ওপর। উনি direct স্টেশনে পৌঁছাবেন সময় মতো। যাইহোক আমরা 9B Platform এ পৌঁছে দেখলাম অনির্বাণ সেখানে পৌঁছে গিয়েছে। সাথে ওর হোৎকা মুখো রুকস্যাক। আমাদের সাথে দেখা হতেই প্রথম প্রশ্ন,

- টিকিটের কি অবস্থা?

এই প্রশ্নটটা এদের প্রত্যেক ট্যুরে common থাকে। এটা মালিকের আরেক বদ অভ্যাস, মাল টা কোনও ট্যুরে সময় মতো ট্রেনের টিকিট কাটবেনা। কাটবে কি কিরে এদের তো উঠলো বাই তো পাহাড় যাই। কিছু বললে হাসতে হাসতে বলবে,

- "confirm টিকিটে গেলে ট্রেকিং এর ঠিক feel ট পাওয়া যায়না, মনে হয়ে ফ্যামিলি নিয়ে তীর্থ করতে যাচ্ছি।" 
যত্ত সব ফালতু অজুহাত!

মরগে যা, আমার কি? আমি তো সেই সীটের নীচে মেঝেতেই শুয়ে যাব। তোদের কষ্ট তোরা বুঝবি।

অনির্বাণের প্রশ্ন শোনার পর মালিকের এক উত্তর যা প্রত্যেক ট্যুরেই দিয়ে থাকে,

- Confirm হয়নি 😁

ইতিমধ্যে ভিক্টর রাজ্য উদ্ধার করে স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছে। মালিক জানালো টিকিট Confirm হয়নি।

- ভিক্টর : তোরা তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস? General এর টিকিট টা তো কেটে রাখতে পারতিস। আমি না আসলে কি কিছুই হবেনা!

কাউকে বলার সুযোগ পর্যন্ত দিলনা যে তারাও এই মাত্রই পৌঁছেছে। মালিক মাতব্বর বলে ঠিকই বলে।

মালিক আর ভিক্টর এগিয়ে গেলো General টিকিট কাউন্টারের দিকে। এরমধ্যে মৈনাকও এসে পৌঁছেছে পলতা থেকে। এদিকে মালিক আমার আরেক কান্ড করে রেছেছে, ট্যুরের শুরুতেই পই পই করে সবাইকে বলা হয়েছিল সবাই সাথে করে ID Card আর দু কপি করে ছবি সাথে রাখতে। মালিক ID Card আনলেও ছবিটা বেমালুম ভুলে গেছে। আর সেটা জানাতেই,

- ভিক্টর : বান#$¢
ঠিকই আছে, গালি খাওয়াই উচিৎ।

ভাগ্যিস এদের সাথে উত্তরবঙ্গ (কোচবিহার) থেকে তিনজন বন্ধু যাবে, তারা একদিন পড়ে রওনা দিয়ে শিলিগুড়িতে meet করবে। সেই সুবাদে মালিক তার একটা selfie তুলে একজনকে পাঠিয়ে দিল আর বলে দিল দু কপি প্রিন্ট করিয়ে নিয়ে আসতে।

এটাই যখন করবি তখন বলারই বা কি দরকার ছিল যে ফটো আনিসনি। ফালতু গালিটা খেতে হতো না। একটু বলদও আছে আমার মালিকটা। সত্যি!!!

যাইহোক general এর টিকিট ফিকিট কেটে বাবুরা আবার 9B platform এ ফিরে এলো। এখন প্রশ্ন হলো কোন ট্রেনে যাব? আর কিভাবে যাব? আমাদের সামনে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস দাড়িয়ে আছে। অনেক সময় আর্মিদের কোচে ম্যানেজ করে কিছু সিট পাওয়া যায়। অনির্বাণের চেহারাটা ছিল একটু লম্বা চওড়া, ভিক্টর ওকে ঠেলল আর্মি দের সাথে কথা বলার জন্য। অনির্বাণ যখন ফিরে এলো ওর মুখ দেখেই বোঝা গেল চিঁড়ে ভেজেনি। ভিক্টর যথারীতি অনির্বাণ কে,

- কি করলে আর্মির মত চেহারা বানিয়ে? একটা সিট manage করতে পারলে না?

সবাই মিলে ট্রেনের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত একবার চষে ফেললো, কোথাও কোনও জায়গা পাওয়া যায় কিনা? কিন্তু সবাই জানে উত্তরবঙ্গের কোনও ট্রেনে reservation পাওয়া আর ভগবানের দর্শন পাওয়া প্রায় সমার্থক। বরং পরেরটার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যাইহোক স্বাভাবিকভাবেই কোনও সুরাহা হলো না। এদিকে বাবুদের আবার general এ যাওয়াও পোষাবেনা। এসব ভাবতে ভাবতে চোখের সামনে দিয়ে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেড়িয়ে গেল। এখন উপায়?

এরপর কাঞ্চনকন্যা তারপর দার্জিলিং মেল আর তারপর পদাতিক। মালিকেরা সবাই মিলে ঠিক করলো আর লেট করা যাবেনা, কারন নাহলে ওদিকে দেরি হয়ে যাবে। NJP থেকে program fixed হয়ে আছে। যেকরে হোক কাঞ্চনকন্যা টা মিস করা যাবেনা। ওনারা ঠিক করলো যেই বগি তে toilet এর সামনে একটু বেশি space থাকে সেরকম একটা বগি তে উঠে পরবে তারপর কি হয় দেখা যাবে। মালিক এই জিনিসটা প্রতিটা ট্যুরেই করে, তাই আমার এসব দেখে অভ্যাস আছে। অগত্যা কাঞ্চনকন্যার জন্য অপেক্ষা।

কাঞ্চনকন্যা প্ল্যাটফর্মে ঢোকা মাত্রই মৈনাক কাজের কাজ যেটা করলো সেটা হলো চলন্ত ট্রেনের একটা কামড়ায় লাফিয়ে উঠে পড়লো, পুরোটাই idea র ওপর। কারন ট্রেনের আলো তখনো জ্বালানো ছিলনা। ওঠার পরে যেটা দেখা গেল, এই কামড়ায় সাফাই কর্মী দের জন্য টয়লেট এর দিকে দুখানা berth আছে, যার ওপরে আইনত অধিকার তাদেরই। কিন্তু আইনের বাইরে গিয়ে তারা যদি পয়সার বিনিময়ে তাদের সে অধিকার অন্য কাউকে তাহলে মালিকের মতো কিছু লোকের খুব মঙ্গল হয় 😜. আর হলোও তাই। সাফাই ভাই দের সাথে ৪০০ টাকায় রফা হবার পর মালিকেরা বেসরকারী হিসাব অনুযায়ী দুখানা berth পেল। Seat allocation টা এভাবে হলো, ভিক্টর আর জয়শ্রী নীচের সীটে শোবে। অনির্বাণ উঠবে ওপরে। আর মালিকের ভাগ্য? প্রতিবারের মতো ভূলুণ্ঠিত। মালিক আর মৈনাক শোবে নীচে কাগজ পেতে। ওরা তাতেই খুশি।

সেই সময় টা ছিল উত্তরবঙ্গে যাবার peak season. তাই ট্রেনেও ছিল ঠাসা ভীড়। মৈনাক ওই লম্ফটা না মারলে এদের কপালেও দুঃখ ছিল। আমি কমলির সাথে একটা কোনায় সেঁধিয়ে গেলাম। ও আপনাদের বলা হয়নি জয়শ্রীর রুকস্যাক টা ছিল কমলা রঙের তাই আমি ওর নাম দিয়েছিলাম কমলি 😊। আমি, কমলি, হোঁৎকা মুখো (অনির্বাণের রুকস্যাক) আর গোলু (মৈনাকের মোটা সোটা গোলগাল রুকস্যাক) কোনায় বসে আমাদের সুখ দুঃখের গল্প শুরু করলাম। হোঁৎকা মুখো, তার দুঃখের কথা জানালো। অনির্বাণ recently নিউ ব্যরাকপুরে সংসার shift করেছে, সেই shifting এর সময় হোঁৎকা কে দিয়ে বই খাতা, বাসন পত্র যা পেরেছে বইয়েছে। life পুরো hell করে দিয়েছে ওর।

ওদিকে মালিকেরা সেটিং হবার পর নিজেদের মধ্যে খোশগল্প শুরু করে দিল। রাতের খাবার দাবার মালিক বাড়ি থেকেই নিয়ে এসেছিল সবার জন্য। সীটের ঠিক নেই এদিকে খাবারের পরিপাটি ষোল আনা!!! খাবার পর্ব শেষ করে এবার শোবার পর্বের পালা। যে যার নিজেদের সেটিং মতো শোবার আয়োজন করলো। মালিক আর মৈনাক নীচে খবরের কাগজ বিছিয়ে নিল। আসেপাশে আরো অনেক waiting list এর লোক জনেরা ছিল তারা স্বভাবতই আমাদের এই কিছুটা স্বস্তির যাত্রা ভালো চোখে নিতে পারেনি। মাঝে মাঝেও ঈর্ষান্বিত চোখে দেখছিল। আমরা যেখানে গল্প করছিলাম সেখানেও আশেপাশে প্রচুর স্যুটকেস, রুকস্যাক, ট্রলি ছিল। তারা আড়চোখে আমাদেরকে দেখছিল, বিশেষত কমলি কে। আমি লক্ষ্য করলাম, কমলি আমাদের সাথে হেসে হেসে গল্প করছে আর ওদিকে ওরা মনে মনে জ্বলছে। যার জ্বলছে জ্বলুক আমার কাঁচকলা!!! 😜

মালিক আর মৈনাক নীচে শুয়ে তো পড়লো কিন্তু বিপত্তিটা হলো, পাশেই হাত ধোবার বেসিন থাকায় সেখান থেকে জল ছিটে আসার সম্ভাবনা প্রবল। তাই তারা কোনোমতে সেখান থেকে একটু দূরে সীটের দিকে আরও চেপে এসে শুলো। কিন্তু ভাগ্যের লিখন বদলাবে কে? একজন মহিলা হাত ধোবার পর বিন্দাস হাতের জলটা মালিক দের গায়ে ঝেড়ে বেড়িয়ে জাচ্ছিল। মৈনাক বলার পর তেনার খেয়াল হলো যে কাজটা তিনি ভুল করেছেন। একটু হেসে SORRY বেদবাক্য টি বলে সেখান থেকে চলে গেলেন, যেন ব্যাপারটা কোনোও অপরাধের মধ্যে গন্যই হয় না। যাই মালিকেরা ব্যাপারটা ignore করে আবার নিদ্রায় মননিবেশ করলো। আমরাও গল্পে মননিবেশ করলাম। কিছুক্ষণ পর যখন সবে একটু ঝিমুনি এসছে একটা আওয়াজে চমকে উঠলাম,

মৈনাকের গলায়,

- "আরে দাদা হাত টা একটু দেখে ঝাড়ুন" 😆

যাকগে যে যার নিজের কর্মফল ভোগ করুক, আপনাদের ততক্ষণে এবারের ট্যুরটা সম্পর্কে একটু বলি,

এবারের journey টাকে সান্দাকফু ট্যুর বলা যেতেও পারে আবার নাও যেতে পারে। কারন সান্দাকফুর পাশ দিয়ে বেড়িয়ে গেলেও এই ট্যুরে সান্দাকফু touch হচ্ছেনা। শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি তে মিরিক হয়ে নেপালের পশুপতি বলে একটা যায়গায় যাওয়া হবে। সেখান থেকে lunch করে ইলাম বাজার হয়ে মাইমাজুয়া বলে একটা জায়গায় যাবে। এই রাস্তাটায় সাধারন গাড়ি যায়না, পশুপতি থেকে landrover এ করে সেখানে যেতে হবে। মাইমাজুয়া তে প্রথম night stay. সেখান থেকে পরদিন ওই Landrover এ করেই নেপালের গরুবালি বলে একটা গ্রামে যেতে হবে। ওখান থেকে সেদিন চিন্তাফু টপ ট্রেক করে আবার গরুবালি তে ফিরে আসা এবং night stay. প্রসনঙ্গত বলে রাখি এই চিন্তাফু টপ থেকে Mt. Everest এর খুব ভালো view পাওয়া যায়। পরদিন গরুবালি থেকে ট্রেক করে ঘোট না গোট কি একটা যায়গায় গিয়ে তাবুতে night stay. পরদিন সেখান থেকে ট্রেক করে ফালুট, ওখানে ট্রেকার্স হাটে night stay. তার পরদিন ফালুট থেকে সিংহলীলা টপ হয়ে কালিঝাড় বলে একটা যায়গায় তাবুতে night stay. তার পরের দিন সেখান থেকে উত্তরে তে নেমে আসা এবং উত্তরে তে হোটেলে night stay. Next দিন উত্তরে থেকে গাড়ি ধরে সোজা NJP.

সান্দাকফু area টা তে মালিক কি এত রস পায় কে জানে? এই নিয়ে চারবার গেলো। যদিও প্রতিবার এক route এ যায়না। এর আগে একটা অজানা route এর গল্প মালিক নিজে লিখেছিল। মালিক কে বলবেন আপনাদের সাথে share করবে। যাকগে মালিকের ইচ্ছে, যেখানে খুশি, যতবার খুশি যাক, আমার তো পাহাড়ে ঘোরা নিয়ে মতলব। নাঃ অনেক্ষন হয়ে গেলো দেখি মালগুলো কি অবস্থায় আছে।

মৈনাক চোখে একটা কাপড় দিয়ে ঢেকে শুয়ে আছে। পাশে মালিক চোখ বন্ধ করে আছে, ঘুমাচ্ছে বলে মনে হয়না। এমন সময় একটা লোক এসে প্লাস্টিকের প্যাকেটের মতো কিছু একটা দূর থেকে ছুঁড়ে basin এর নীচের dustbin এর ফুটো দিয়ে গলাবার চেষ্টা করলো (সালা অভিনব বিন্দ্রার বাচ্চা!!!) কিন্তু অদ্দৃষ্টের এমনই পরিহাস, সেটা Dustin এর দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে সোজা মালিকের গায়ে। মালিক চমকে উঠে কিছু একটা বলতে যাবে এমন সময় মৈনাক চোখ থেকে কাপড় না সরিয়েই একটা হাত মালিকের বুকের ওপর রেখে একটাই কথা বললো,
- ছেড়ে দাও।

হাসিও পাচ্ছে এসব কথা মনে পড়ে। কিন্তু পরক্ষনেই আবার মনে পড়লো মালিক এই ঠান্ডায় এভাবে কষ্ট পাচ্ছে আর আমি হাসছি, ব্যাপারটা ঠিক হচ্ছেনা। তাবুর বাইরে তখন হাওয়ায় আওয়াজ বেশ জোরেই শোনা যাচ্ছে। মালিকের শরীর তখনও কেঁপে যাচ্ছে slipping bag এর ভেতর। কি হবে কিছুই বুঝতে পারছিনা, মালিক কে এভাবে আগে কখনও দেখিনি। আমার কাছে এখন প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আমি আমাদের ইষ্টদেবতা ট্রাংকেশ্বর কে মনে স্মরণ করতে লাগলাম আর অপেক্ষা করতে লাগলাম এই রাত কখন শেষ হয়।

আপনারা কেন আমার সাথে ফালতু অপেক্ষা করবেন? বরং এই কদিনে আপনাদের হাতের কাজগুলো শিগগিরী সেরে নিন। আগামী পর্ব নিতে ফিরছি খুব তারাতাড়ি।


এক রুকস্যাকের আত্মকথা

No comments

Error Page Image

Error Page Image

Oooops.... Could not find it!!!

The page you were looking for, could not be found. You may have typed the address incorrectly or you may have used an outdated link.

Go to Homepage