আবহমান
আলো আর আঁধারের বড় অদ্ভুত একটা সম্পর্ক আছে। যেখানে আলো শেষ হয় ঠিক সেখান থেকেই অন্ধকার শুরু হয় আবার রাতের সবচাইতে অন্ধকারতম মুহূর্তের ঠিক পরেই ভোরের প্রথম আলোটা ফোঁটে। আমার প্রেমের কুঁড়িটা যখন সবে ফুটবে ফুটবে করছে তখনই মালিক দের ট্রেকিং শেষ হবার পালা। আজকেই শেষ দিন। তবে আমি খুব একটা দুঃখবিলাসী নই, আমার কাছে এটা শেষ দিন নয় বরং প্রেমে পাওয়া আরেকটা দিন।😊
গোর্খে থেকে আজ মালিকদের গন্তব্য ভারেং বলে একটা যায়গা। ওখানে গাড়ির রাস্তা আছে। শিলিগুড়ি যাবার গাড়ি ওখান থেকেই পাওয়া যায়। গোর্খে থেকে ভারেং এর দূরত্ব ৪ কিমি মতো। দূরত্বটা যেহেতু খুবই কম তাই মালিকেরা ঠিক করলো দুপুরে খাওয়া দাওয়া করেই রওনা দেবে। ভারেং এ আজ রাতটা থেকে কাল ভোরে ওখান থেকে গাড়ি। গোর্খে থেকে ফেরার আরেকটা রাস্তাও আছে সেটা হলো সামাদিন - রাম্বাম - শ্রীখোলা হয়ে রিম্বিক বাজার সেখান থেকে পরদিন গাড়ি। তবে এই রাস্তাটা অনেকটাই লম্বা, হাঁটা অনেকটা বেশি।
অনেকদিন পর সাজানো বিছানা পেয়ে মালিকদের ঘুমটা বেশ ভালোই হয়েছে গতরাত্রে। সকালে উঠেই আবার সেই চির পরিচিত কোন্দল। কারন এখানেও সবার জন্য টয়লেট একটাই ছিল। মালিক ঘুম থেকে উঠে উঠে ব্রাশটা নিয়ে বাইরে বার হলো। আমি যেহেতু দরজার কাছেই ছিলাম তাই বাইরেটা দেখতে পাচ্ছিলাম। মালিক ব্রাশ করতে করতে হঠাৎ গেল পাশে বেঁধে রাখা খচ্চরগুলোর কাছে। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন সেই খচ্চর। দুজনের কি কথা হলো কে জানে? কিছুক্ষন পর দেখি খচ্চরটা দুবার মাথা এদিক ওদিক করে মুখ থেকে ফ্রুরর… ফ্রুরর… টাইপের কেমন একটা আওয়াজ বের করলো। আর ওর গলার ঘন্টি টা দুবার বেজে উঠলো।
মালিক মালটা সত্যিই ছিটিয়াল আছে মাইরি!🤔
একে একে সবাই বেড়িয়ে এলো ঘর থেকে। বাইরের উঠোনে একফালি রোদ ঝলমল করছিল। এই শীতের যায়গায় এর যে কি মাহাত্ম্য তা আপনারা সকলেই বোঝেন। আজ যেতেতু সকাল সকাল রওনা দেবার তাড়া নেই তাই সকলেই ছিল ল্যাদখোর মুডে। দুপুরে lunch পর্যন্ত কোনও কাজ নেই, তাই উঠোনেই বসলো আড্ডা। এদের তো আড্ডা মানেই একজন আরেকজনের পেছনে লাগা। সৌমিক, মৈনাকের উদ্দেশ্যে বললো,
- ভাই, কাল রাতে বাথরুমে কি করছিলি?
- মৈনাক : আসলে খিচুড়ি টা হজম হয়নি বোধহয়, indigestion হয়ে গিয়েছিল।
- ভিক্টর : সাআআআ বল না রাম সহ্য হয়না।
একজন আরেকজনের পেছনে লাগা ছাড়া এদের আর কোনও আলোচনা নেই। বিরক্ত লাগে। ছাড়ুন তো ওদের কথা, আসুন আমার কথা বলি।
সকালে আমার যখন ঘুম ভাঙে দেখি কমলি তখনও ঘুমাচ্ছে। হোৎকাটা জেগে গেছে। আমাকে দেখে বললো,
- কি ভাই? গাড়ি তো টপ গিয়ারে দৌড়াচ্ছে।😉
- আমি : তুমি জেগেছিলে নাকি রাতে?
- হোৎকা : (একটু চোখ মেরে) থাকবো না! এমন উত্তম-সুচিত্রা moment কেউ miss করে নাকি?😉
- আমি : (একটু হেসে) গোলুও মনে হয় জেগে ছিল। মিট মিট করে দেখছিল মনে হলো।
- হোৎকা : ওকে তো আমিই ঠেলা মেরে জাগিয়েছি। সালাটা ঠিকঠাক acting ও করতে জানেনা। আমি জানতাম কিছু একটা গন্ডগোল ও ঠিক করবে। তা কতদূর এগোলো? প্রোপোজ হলো?🤨
- আমি : না হয়নি এখনো। আসলে ব্যাপারটা হলো…
হোৎকা মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে বললো,
- তুমি বা* এবার মার খাবে আমার কাছে।😠 এই গল্পটাকে আর কত টানবে? লোকজন সত্যিই বিরক্ত হয়ে যাবে এবার।
যাই হোক এটা শোনার পর আমি হোৎকা কে বললাম
- দুজনেই যখন ব্যাপারটা feel করছে তখন আর প্রোপোজ ট্রোপোজের দরকার হয় না।😊
ইতিমধ্যে কমলি ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে বললো,
- তোরা কি বকবক শুরু করেছিস বলতো কানের সামনে? ঘুমটা ভাঙিয়ে দিলি।😞
- হোৎকা : কেন রাতে ঘুম হয় নি?
আমি লক্ষ করলাম কমলির মুখটা কমলা থেকে লাল হয়ে গেল। গলুও ততক্ষণে উঠে গেছে।
- গোলু : (একটু মাথা চুলকে) কি হয়েছে?
- কমলি : কিছু হয়নি, তুই আবার ঘুমিয়ে পর😁
সবাই হেসে উঠলাম।
বাইরে শুনতে পেলাম মালিকদের আলোচনার বিষয় change হয়ে গেছে। এখন আলোচনা চলছে পরবর্তী tour নিয়ে। এদের এই এক ঢং আছে প্রত্যেক tour এ এসে শেষ দিন এরা বৈঠকে বসে পরবর্তী ঘুরতে যাওয়া কোথায় হবে সেই নিয়ে। মালিক বলে ঘুরতে যাওয়ার যেমন একটা মজা আছে তেমনি ঘুরতে যাওয়ার plan করাতেও একটা আলাদা মজা আছে। যাওয়া হয়তো ultimately হয় না, কিন্তু এই plan করাতেই আনন্দ। এটা আপনারাই ভালো বুঝতে পারবেন। আমাদের আর কি আমাদেরতো মালিক যেখানে নিয়ে যাবে সেখানেই যেতে হবে। আমাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার কথা আর কে জিজ্ঞাসা করে?😔
এভাবে গল্প, হাসি, ঠাট্টা করতে করতে দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গেল। আজ দুপুরে মালিকদের menu তে ছিল ভাত, ডাল, ডিম, পাপড় ভাজা আর লাই পাতার সব্জি। লাই পাতা বা লাই শাক এই অঞ্চলের খুব প্রচলিত একটা খাবার। অনেকটা আমাদের পাট শাকের মতো খেতে হয়। যাইহোক খাওয়া দাওয়া শেষ করে কিছুক্ষন বিশ্রাম, তারপর দুপুর দুটো নাগাদ সবাই ঠিক করলো এবার যাত্রা শুরু করবে। আজকের গন্তব্য ভারেং।
গোর্খে থেকে ভারেং এর রাস্তা টা খুব সুন্দর। প্রথমে গোর্খে থেকে নদী পার করে ওপারে একটা vally মতো যায়গা পরে। তারপর শুরু হয় জঙ্গল। পুরোটা রাস্তাই জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। নদী পার করার জন্য খুব সুন্দর একটা কাঠের পুল রয়েছে। নদী ছাড়িয়ে জঙ্গলে ঢোকার পরেও কিছুক্ষন ধরে নদীর আওয়াজ কানে আসে। এই রাস্তাটা মোটামুটি পুরোটাই ওঠা তবে খুব খাড়া নয়। তাই এই চার কিমি রাস্তা যেতে খুব একটা কষ্ট হয়না। আপনারা, হ্যাঁ আপনাদেরকেই বলছি যাদের ট্রেকিং এর খুব শখ কিন্তু লম্বা ট্রেকিং এ ভয় পান। তারা নিশ্চিন্তে ভারেং থেকে গোর্খে আসতে পারেন। ভারেং পর্যন্ত গাড়ি আসে। একটানা ৪ কিমি হাটতে না পারলেও সমস্যা নেই রাস্তায় কিছুক্ষন বিশ্রাম নিন তারপর আবার হাঁটুন৷ আরামসে পৌঁছে যাবেন খুব বেশী হলে ২-৩ ঘন্টায়। মালিকদের তো প্রতিবছর একবার গোর্খে যাওয়া বাঁধা থাকে।
- ওই দেখ, কমলি তোর ফুল।
আমি দেখলাম সেই ফুলের গাছ যেটা আমি কমলি কে দিয়েছিলাম।
- স্যাম : এনে দেবো কয়েকটা ফুল, তোরটা তো হারিয়ে গেছে বলছিলি।
- কমলি : না পেয়ে গেছি পরে।
বলে আমার দিকে আড়চোখে তাকালো। আমি স্যামের দিকে তাকিয়ে বললাম,
- ওদিকে আর যাওয়ার চেষ্টা কোরোনা ভাই, গভীর খাদ আছে, পড়ে গেলে তোলার কেউ নেই।
- হোৎকা : থাক tour এর শেষে এসে আর এই কেলেংকারি টা করতে হবেনা, আর তাছাড়া কমলির যেটা হারিয়েছিল সেটা কাল রাতেই পেয়ে গেছে।
বলে আমার দিকে তাকিয়ে একবার চোখ মারলো হাল্কা করে। সালাটার চোখে আমি একদিন কমলালেবুর খোসার রস দিয়ে দেবো। কথায় কথায় চোখ মারা ছোটাবো আমি।😠
- কমলি : খুব enjoy করলাম রে এবারের tour টা। আবার সবার সাথে কবে দেখা হবে কে জানে?
- আমি : এখনও আরো অনেক্ষন সময় একসাথে আছি আমরা। এসব দুঃখ দুঃখ কথা বলিসনা তো এখনই।
জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে যাবার সময় পথে কিছু ছোট ছোট জলের ধারা পরে ওখানে কয়েকঅটা বড় বড় পাথর রাখা পার করার জন্য। মালিকরা যখন ভারেং পৌঁছালো তখন বিকেল চারটে। ওখানকার একটা হোমস্টে তে দোতলায় মালিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনেক দিন পর আবার লোকালয়ের মধ্যে ফিরে এসে কেমন যেন একটা অদ্ভুত feelings হচ্ছিল। মনে হলো এতদিন বোধহয় অন্য কোনও গ্রহে ছিলাম। আরো বিরক্ত লাগলো যখন মালিকদের সবার মোবাইল টুং টাং করে বাজতে আরম্ভ করলো। এতদিন মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিলনা খুব ভালো ছিলাম। আবার সবাই ঢুকে যাবে মোবাইলে। আর গল্প, আড্ডা সব আস্তে আস্তে কমে যাবে। গাড়ির রাস্তা যেখানে শেষ হয় সেখানেই ছিল থাকার ব্যবস্থা। মোট দুটো ঘর ছিল মালিকদের থাকার জন্য। এক একটা ঘরে চারজন করে থাকার arrangement. মালিক প্রথমে এসে একটা ঘরে ঢুকলো আর ভিক্টর, জয়শ্রী আরেকটা ঘরে। ব্যাস, মাথাটা গরম হয়ে গেলো আমার, আজকে শেষদিনে কোথায় কমলির সাথে একসাথে থাকবো তা না আলাদা ঘরে নিয়ে গিয়ে ঢোকালো।
গাধাটার মাথায় কি কিছুই নেই? কে জানে!😡
পরে অবশ্য অনির্বান এসে শেষ যাত্রায় বাঁচিয়ে দিয়েছিল ও মালিক কে জোর করে নিয়ে ভিক্টরদের ঘরে ঢোকালো। আমি মনে মনে ভাবলাম,
হোৎকা কি কিছু বলেছে অনির্বাণ কে!🤔
ভারেং পৌঁছে মালিকরা সবার আগে এক রাউণ্ড করে ম্যাগি সাঁটালো তারপর ফোনে ব্যাস্ত হয়ে গেল যার যার বাড়ি আর প্রিয়জনের সাথে কথা বলতে। এরপর কিছুক্ষণ বাইরে ঘোরা ঘুরি তারপর সন্ধাবেলা আবার সেই আসর, এবার জমজমাট আসর। কারন এতে পার্থদা, বুদ্ধি আর সান্তাজী ও ছিল। শুরুতে সোনালী জল আর তার সাথে চলতে লাগলো এই toure এর বিভিন্ন মুহূর্তে র গল্প, মূলতঃ তাবুর ভেতর কাটানো সেই ভয়াবহ রাত, মালিকের জন্য দু ঘন্টা বেশী হাঁটা, স্প্যানিশ যুগলের মেডিসিনের প্যাকেট, ফালুটের এক ঘরে গাদাগাদি করে থাকা এসব৷ কিন্তু পুরুষ মানুষদের সোনালী আড্ডায় নিজেদের প্রেম, ব্যাথা, ধোকা এসব নিয়ে আলোচনা হবেনা এমন ঘটনা বোধহয় মানবজাতির ইতিহাসে খুব একটা হয়নি। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসলো একজনের পুরোনো ব্যাথার কথা আর সোনালী জলের সাথে পুরোনো ব্যাথা একবার উঠলে সেই পরিস্থিতি যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা আশাকরি অনেকেই জানবেন। ব্যাথা থেকে শুরু হলো কান্না, হাউ হাউ কান্না।😭 সে এক যা তা কেলেংকারী ব্যাপার। চরিত্রটির নাম নিচ্ছি না কিন্তু তার ব্যাথার কারন ছিল সেই কবে যেন তাকে ছেড়ে কেউ একজন চলে গেছে। মালিকরা একজন আরেকজনের মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলো। সৌমিক প্রথম মুখটা খুললো,
- কিছু মনে কোরোনা তোমাকে একটা কথা বলি, তোমাকে ছেড়ে কেন গেছে জানো?
- উক্ত চরিত্র : (কাঁদতে কাঁদতে) কেন?
- সৌমিক : কারন তুমি একটা বোকাচো*$%
এটার জন্য সে হয়তো প্রস্তুতও ছিল না। একটু সামলে নিয়ে বললো,
- হ্যাঁ কিছুটা হয়তো তাই।
- সৌমিক : কিছুটা না, তুমি পুরোটাই বোকাচো*$%.
এসব কিত্তন করতে করতে রাতে খাবারের সময় হয়ে গেল। খাবারে ছিল রুটি আর chicken. নীচে যেহেতু ওদের kitchen বন্ধ হয়ে যাবে তাই ঘরে এসেই সবার খাবার দিয়ে যায়। খাওয়া দাওয়ার পর মালিক আর অনির্বাণ এর আবার সেই পুরোনো night life explore করার ভূত মাথায় চাপে। সাথে ভিক্টর আর জয়শ্রীও যোগ দেয়। কিচ্ছুক্ষন বাইরে ঘোরাঘুরি র পর ঘরে ফিরে এসে যে যার মতো শুয়ে পরে। একটা ঘরে ভিক্টর, জয়শ্রী, মালিক আর অনির্বাণ আরেকটা ঘরে সৌমিক, মৈনাক, দীপ আর গোলাম। ঘরের এক কোনায় আমি আর কমলি একসাথে আশে পাশে কেউ নেই।
সেই রাতে রাত ছিল পূর্নিমা, ফাল্গুনী হাওয়াতে রং ছিল কিনা জানিনা কিন্তু আমার মনে তখন রঙে রঙে রঙাকার। একদিকে কাল আলাদা হয়ে যাবার যন্ত্রণা টা ধীরে ধীরে মনের মধ্যে খোঁচা দিচ্ছে আরেকদিকে প্রথমবার কমলি কে একা এত কাছে পাওয়ার আনন্দ। এই আনন্দের মুহূর্তটাকে আমি কিছুতেই হাতছাড়া করতে রাজি ছিলাম না, তাই যন্ত্রনাতে পাথর চাপা দিয়ে রাখলাম। একটা ডাবকা চাঁদ জ্বলজ্বল করছে আকাশে আর জানালা দিয়ে তার আলো চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে ঘরের ভেতর। আমিই প্রথম নীরবতাটা ভাঙলাম,
- এরপর?
- কমলি - জানিনা, এখন আমার ভাবতে ইচ্ছে করছে না।
বলে ওর মাথাটা আমার কাঁধের ওপর রাখলো। আমি আমার ফিতেটা ওর একটা ফিতের ওপর রেখে বললাম
- এই tour টা এতটা important হয়ে উঠবে আমার জীবনে তা আমি ভাবতে পারিনি।
- কমলি : তাতে কি? পরের tour এ আবার অন্য কাউকে পেয়ে যাবি, আর তখন তাকেও একই কথা বলবি।
- আমি : ধুর পাগলি। আমার মনটা খুব ছোট রে, অত যায়গা ধরে না। আর এতে already একজন কব্জা করে বসে আছে।🥰
বলে ওর দিকে তাকিয়ে একটু হাসলাম।
- কমলি : ধ্যাত!
- আমি : জানিস তোর সাথে দেখা না হলে আমি আমার নিজের ভেতরকার অনেকগুলো দিকের কথা কোনও দিন জানতেই পারতাম না। আমার ভেতরের অনেক কালো দেওয়াল তুই ভেঙে দিয়েছিস।
- কমলি : তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আমি কিছুই করিনি।
- আমি : না রে তোর মতো একজন বন্ধু সবার জীবনে খুব দরকার।
- কমলি : তুই কি এসব কথা বলেই এই রাতটা কাটিয়ে দিবি ঠিক করেছিস?
- আমি : আসলে তুই না থাকলে…
কমলি ওর ফিতেটা আমার মুখের কাছে এনে আমার বলা মাঝপথেই থামিয়ে দিল আর আমার চোখের দিকে তাকালো। আমি সেদিন ওর চোখে আগুন দেখতে পেলাম। সেই দৃষ্টির মধ্যে নেশা ছিল আমন্ত্রণ ছিল একটা ঝিম ঝিম ভাব ছিল। আমি ধীরে ধীরে সেই নেশায় বিভোর হয়ে যাচ্ছিলাম।😍 কিন্তু manufacturing defeat এর জন্য মার খেয়ে গেলাম। Bag তৈরি করার সময় হারামজাদা গুলো আমাদের একটা ঠোঁট যে কেন দেয়না না কে জানে?
এর পর আর কি? হিন্দি ছবির মতো দুটো ফুলের ঠুকাঠুকি! ব্যাস। বাকিটা নিজেদের কল্পনাশক্তি দিয়ে চালিয়ে নিন।
মালিক বলে দিয়েছে গল্প বলা শেষ করার আগে সেই প্রত্যেকটা লোক কে ধন্যবাদ জানাবি যারা নিজেদের সময় নষ্ট করে তোর এই লেখা পড়ছে বিশেষত যারা একদম শুরু থেকে প্রতিটা অধ্যায় ধৈর্য ধরে পরে আসছে। ওনাদের ভালোবাসাই সব। ওনারা সাথে থাকলে একদিন জ্ঞানপীঠ পুরষ্কারও পেয়ে যেতে পারিস।😉
বার খাওয়ানোর একটা limit থাকে মাইরি!
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি জ্ঞানপীঠ নাম টাও আমাদেরই ছিল, কারন পিঠে আমরাই থাকি, মানুষেরা আমাদের থেকে নাম টা hijack করে হ্রস্ব-ই কে দীর্ঘ-ই করে নিয়েছে।
আমি লিখছি আর এসব আবল তাবল ভাবছি এমন সময় মনে হলো কে যেন আমাকে আলমারির ওপর থেকে টান মেরে নিচে নামালো। নামিয়েই দুমাদ্দুম থাপ্পড় এদিক ওদিক। একটু ধাতস্থ হবার পর বুঝতে পারলাম মালিক আমাকে ওপর থেকে নামিয়ে আমার ধুলো ঝাড়ছে ভালো করে। আমার মনটা নেচে উঠলো, তাহলে কি আমি যা ভাবছি তাই?
আবার কোনও নতুন tour?🥳
কমলি যাবে তো?❤ ❤❤






No comments