কিছুটা আকাশ জুড়ে চাঁদ,
কিছুটা রাতের ইশারায়
ঘুম ভাঙা স্বপ্নেরা রোজ
বেহিসাবী গল্প শোনায়।
ইচ্ছেরা ডাক দিয়ে যায়
নির্জনতার আঙিনায়
ক্লান্তি জড়ানো চোখ তাই
রূপকথা লেখে কবিতায়।
মালিকের লেখা কয়েকটা লাইন দিয়ে শুরু করলাম, এই ছ্যাবলামির কারণটা শেষে গিয়ে টের পাবেন।😉
যাইহোক যা বলছিলাম, খচ্চরের সাথে পাল্লা দিয়ে অবশেষে মালিকেরা পৌঁছল সবরগ্রাম। খচ্চর যথারীতি সবার আগেই পৌঁছে গিয়েছিল আর মালিক যথারীতি সবার পরে, এমনকি যারা পায়ে হেটে এল তাদেরও পরে। সময়টা তখন দুপুর। সান্তাজী সবরগ্রামের একটা হোম স্টে তে নিয়ে বসালো সবাইকে। দুপুরে খাওয়া দাওয়া ওখানেই হবে। আজকেও packed lunch এর ব্যাবস্থা ছিল। রুটি, আলুর তরকারি অ্যান্ড দিম সেদ্ধ। ডিম দেখেই মৈনাকের চোখটা চক চক করে উঠলো, অরন্যের দিন্ রাত্রির শেখরের মতো ওরও ডিম জিনিসটা খুব প্রিয় ছিল।
আমরা বাইরে ছিলাম, একটু দূরেই খচ্চর দাঁড়ানো, ওর পিঠে কমলি, স্যাম আর গোলু। আমি দূর থেকে জিজ্ঞাসা করলাম,
- কেমন লাগলো খচ্চরের সাওয়ারি?
- কমলি : (একটু হেসে) ভালোই, তবে মালকিনের পিঠে গেলে আরও ভালো লাগতো, বেশ গল্প করতে করতে যাওয়া যেত।
আমি মনে মনে ভাবলাম, মালিক তখনও সবার পেছনেই থাকত, সুতরাং সে গুড়ে বালি।😏
- স্যাম : কেন আমি কি বোর করেছি তোকে?
- কমলি : আরে না না তা হয়, আসলে সবাই একসাথে গল্প করার মজাটাতো আলাদা না!
- গোলু : আচ্ছা পিঙ্কির কথা বলছিলি যে ও কোথায় থাকে এখন?
- হোৎকা : পিঙ্কিটা আবার কে?
- কমলি : আমার মাসি, শান্তিনিকেতনী ঝোলা, ওনার মেয়ে। আমার মাসতুতো বোন হয়। গায়ের রং পুরো গোলাপী। যখন থেকে শুনেছে, এই গোলুটা বার বার ওর কথাই জিজ্ঞেস করে যাচ্ছে।
- হোৎকা : প্রেম করে?
- গোলু : তাতে তোমার কি?
- আমি : গাঁজা খায়?😜
- কমলি : গাঁজা খায় কিনা জানিনা, তবে প্রেম করে আমি যতদূর জানি।
- আমি : হাল ছেড়োনা গোলু, এগিয়ে যাও। নিজের ভালোসাসায় confidence রাখো। তোমার ভালোবাসায় দম থাকলে আগের প্রেম ট্রেম বেশীদিন টিকতে পাবেনা।
- কমলি : আচ্ছা!!! নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করার সাহস নেই, আর অন্যকে confidence শেখাচ্ছিস?
- আমি : ব্যাপারটা সাহসের নয়, আমি সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছি। আসলে ওদিকের মনের ভাব টা পুরোপুরি বুঝে নিতে চাইছি আগে।
- স্যাম : Dude! আমি তোমাদের এই ব্যপারগুলো বুঝিনা। দিলমে আয়া তো বোল দেনে কা। হবার হলে হলো, নাহলে অন্য কেউ। এত চাপ কেন নাও তোমরা? Just Chill!!😎
- কমলি : তা কতবার লেঙ্গি খেয়েছিস আজ পর্যন্ত?
- স্যাম
: So many
times,
তবে ওরা সব পাতলা কাপড়ের ব্যাগ ছিল বেশিদিন টিকতও না। তোর মতো Long lasting material নয়।
শুনে আমার ইয়েটা জ্বলে গেল।🤬
ইতিমধ্যে মাকিলদের খাওয়া শেষ। এখান থেকে আর ফালুট আর ৬ কিমি তার মধ্যে প্রথম ৩.৫ কিমি নামা তারপর শেষ ২.৫ কিমি খাঁড়া ওঠা। মালিক যখন কাছে এলো আমি বললাম,
- মালিক, তোমার কষ্ট হচ্ছে? আমি খচ্চরে চলে যাই?
- মালিক : কেন? কি ভেবেছিস তোকে পিঠে নিয়ে আমি যেতে পারবোনা? এতটা রাস্তা যখন এসছি তখন তোকে নিয়েই বাকিটা complete করবো।
বুঝলাম, মালটা ইগো তে নিয়ে নিয়েছে, তবে এতটা নিয়ে নেবে ভাবিনি। প্রথম ৩.৫ কিমি যেহেতু উৎরাই তাই ভাবলাম এই রাস্তাটা খচ্চরের সাথে সাথেই যাওয়া যাবে। চড়াই এর ক্ষেত্রে মালিকের দম বেডিয়ে গেলেও উৎরাই তে আমার মালিক আবার টাট্টু ঘোড়া। আর সেটাই হলো আমার কাল। নামার সময় সবাই যখন আস্তে আস্তে relaxly নামছে তখন মালিকের কি মনে হলো কে জানে, হন হন করে হাটা শুরু করলো। হয়তো মনে পরে যাচ্ছিলো ওঠার সময় সবসময় পেছনে থাকার জন্য বন্ধু বান্ধব্ দের থেকে যেসব টিটকিরি শুনতে হয়। আর যত মনে পড়ছে ততই টাট্টু ঘোড়া থেকে আরবী ঘোড়া হয়ে যাচ্ছে।🐴
আমি ভাবলাম একদিকে ভালোই হলো, খচ্চর যেহেতু খানিকটা এগিয়ে গিয়েছিল তাই ওর কাছে পৌঁছে, গল্পটা আবার শুরু করা যাবে, বাকিরা যেহেতু পেছনে আছে তাই নিরিবিলিতে কথা বলা যাবে। মালিক ছুটতে ছুটতে খচ্চরের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। কমলি আমাকে দেখে Hi করলো। কন্তু একি!! মালিক এখনও ছুটছে, খচ্চর ফচ্চর টপকে চলে গেল। পেছন ফিরে দেখলাম খচ্চরটারও মুখ হা হয়ে গেছে, চোখগুলো ছানাবড়া করে আমাদের দেখছে। ছুটতে ছুটতে এক সময় পেছন থেকে খচ্চরটাও উধাও হয়ে গেল।
আচ্ছা গাম্বাটের পাল্লায় পড়া গেছে মাইরি!!!😕
৩.৫ কিমি নামা শেষ করে ঘোড়া থামল। ততক্ষনে বিকেল হয়ে গেছে, আকাশের রং বদলাতে শুরু করে দিয়েছে। এবার সামনে শুধুই চড়া, প্রথমে হাল্কা তারপর খাঁড়া। মালিক ওঠা শুরু করলো, প্রায় ১ কিমিও এগোয়নি ইতিমধ্যেই পেছন থেকে সাঙ্গ পাঙ্গ চলে এসেছে। মালিককে দেখতে পেয়ে,
- ভিক্টর : কি? ঘোড়ার দম শেষ?😜
- দীপ : ঘোড়া এখন গাধা হবে।😝😝
অতটা রাস্তা ছোটার ফলে মালিক স্বাভাবতই একটু ক্লান্ত তার ওপর এই খাঁড়া পাহাড়। আর কাল রাতের না ঘুমোনোর ক্লান্তিতো ছিলই। মালিকের পা আর চলছে না। কোনোমতে শরীরটা টেনে টেনে তুলছে। বাকি সবাই এগিয়ে গেল। শুধু অনির্বাণ মালিকের সাথে সাথে চলতে লাগলো, সঙ্গ দেবার জন্য। আর আমি তখন থেকে পেছনে তাকাচ্ছি আর ভাবছি খচ্চরটা গেলো কোথায়? পরে অনির্বাণের কথায় জানতে পারলাম, খচ্চর অন্য route এ গেছে। এদিকে যত বেলা গড়াচ্ছে ঠাণ্ডাটা আরও জাঁকিয়ে বসছে। মালিক এবার সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেতে লাগলো আর আমার পকেট থেকে hand gloves বার করে নিলো। কিছুদূর যাবার পর দেখি মালিকদের গাইড সান্তাজী রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। মালিক কে দেখে জিজ্ঞেস করলো,
- আপকে পাস extra gloves হ্যায় কেয়া?
- মালিক : ( হাঁপাতে হাঁপাতে ) নেহি extra তো নেহি হ্যায়।
- সান্তাজী : আপ কা এক দিজিয়ে না মুঝে, ম্যায় আপনা বালা ছোড় আয়া খচ্চর পে।
অগত্যা আর কি করা যাবে, মালিক তার নিজের হাতের থেকে এক খানা gloves খুলে সান্তাজী কে দিল। সেই সময় হাতের থেকে gloves খুলে দেওয়া মানে পাঁজর থেকে একটা হাড় খুলে দেওয়া। gloves খোলার সাথে সাথে বাইরের তাপমাত্রাটার আন্দাজ পাওয়া গেল। মুহূর্তের মধ্যে হাত অবশ হয়ে যাচ্ছে। মালিক একটা হাত পকেটের ভেতর ঢুকিয়ে নিয়ে হাঁটতে লাগলো। ততক্ষনে মোটামুটি হাল্কা অন্ধকার হয়ে গেছে। আর রাত বাড়ার সাথে সাথে দ্বিগুন হারে ঠান্ডাটা বাড়তে লাগলো।
এখান থেকে ফালুট দেখা যাচ্ছিল, হয়তো আর কয়েকশো মিটার হবে। কিন্তু তক্ষনে মালিকের শরীর প্রায় ছেড়ে দিয়েছে। মালিক এক সময় আমাকে বললো,
- সামনের পাহাড়টা দেখে মনে হচ্ছে একবার সামনে আসছে আবার দূরে সরে যাচ্ছে।🥴
আমি কই কম্ম কাবার, পাহাড়েই করবে সাবাড়।
অনির্বাণ পাশে থেকে ক্রমশ সাহস জুগিয়ে যাচ্ছে,
- এই তো চলে এসছি। আর একটুখানি।
এই “আর একটুখানি” ব্যাপারটা যে কি ভয়ঙ্কর কথা তা যারা পাহাড়ে ট্রেকিং করেছেন তারা বিলক্ষন বুঝতে পারবে্ন। এইভাবে কোনমতে নিজেকে টেনে হিঁচড়ে অবশেষে ফালুট ট্রেকার্স হাটের সামনে পৌঁছান গেল। একক্ষনে বেশ ভালোই অন্ধকার নেমে এসছে। ট্রেকার্স হাটের বাইরে দেখলাম আমাদের খচ্চরটা বাঁধা। পিঠ থেকে সব মালপত্র নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা যখন ওটার সামনে দিয়ে ট্রেকার্স হাটের দরজার দিকে এগোলাম তখন মালিক খুব ক্ষীণ কণ্ঠে আমাকে ফিস ফিস করে বলল,
- বুঝলি, খচ্চরটা মনে হলো আমাকে দেখে হাসলো।
- আমি : ছাড়ো তো, ও ব্যাটা একটা খচ্চর,ওকে অত পাত্তা দিতে হবেনা।
বলে আমিও পেছন ঘুরে একবার তাকালাম, দেখার জন্য সত্যই হাসছে কিনা 🤨। অন্ধকারে ঠিক বুঝলাম না, তবে আমাদের দিকেই তাকিয়ে ছিল।🙄
ফালুট ট্রেকার্স হাটে ঢোকার পর তো চক্ষু চড়ক গাছ!!! এত লোক কিসের? এতো দেখে মনে হচ্ছে রথের মেলা লেগে গেছে। এর আগে মালিকের সাথে যতবার ফালুট এসছি এরকম ভিড় কখনও দেখিনি। আসলে ফালুট পর্যন্ত গাড়ি চালু হবার কারনে এখন যায়গাটা খুব সহজলভ্য হয়ে গেছে। কিন্তু কিছু কিছু যায়গার আত্মা তার নিস্তব্ধতা্র মধ্যে থাকে। আর এই মুহূর্তে সেটা প্রেতাত্মায় রূপান্তরিত হয়েছে।
মালিকদের এখানে আগে থেকে booking ছিলনা, কথা ছিল কাছেই একটা যায়গায় tent করে থাকবে যেমনটা বলেছিলাম সকালে। কিন্তু কাল রাতে তো দেখলেন Tent এ থাকার অভিজ্ঞতা। সান্তাজী দায়িত্ব নিয়েছিল ফালুট ট্রেকার্স হাট book করার। ভেতরে ঢুকে দেখলাম ডাইনিং টেবিলের সামনে ভিক্টর, সৌমিক, দীপ, গোলাম, জয়শ্রী, অনির্বাণ সব একটা চেয়ারে দুজন করে share করে বসে আছে। ওই ঘরেও প্রচন্ড ভিড়। টেবিলের ওপর একটা মোমবাতি জ্বলছে। ওখানে electricity নেই। দিনের কয়েক ঘন্টা ব্যাটারির সাহায্যে কিছু current পাওয়া যায় যেটা দিয়ে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলি করে নিতে হয়, যেমন pump দিয়ে জল তোলা, মোবাইল চার্জ দেওয়া ইত্যাদি।
মোমবাতির হাল্কা আলোতে দেখতে পেলাম সবার চোখে মুখেই টেনশনের ছাপ। মালিক একটা চেয়ারে বসতে যাচ্ছিল তখন ভিক্টর বললো,
- এখানে কোনও যায়গা ফাঁকা নেই, সান্তাজী বলেছে এখনই গোর্খে যেতে হবে।
ব্যাটা বলে কি!!!🥶
মালিক চেয়ারের বদলে ধপাস করে মেঝেতেই বসে পরলো। মালিকের তখন কোনোরকম অনুভূতি প্রকাশ করার ক্ষমতাটা পর্যন্ত নেই। এতটা বিধ্বস্ত। অল্পবিস্তর সকলেই বিধ্বস্ত ছিল তখন। কিছুক্ষন পর সান্তাজী এলো, সকলে জানালো যে এই মুহুর্তে এভাবে গোর্খে যাওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব না। সান্তাজী বলল পাশে একটা godown মতো ঘর আছে ওটাতে যদি সবাই adjust করতে পারে তবে একটা ব্যাবস্থা হবে। মালিক রা সবাই চললো সেই অমৃতকুম্ভের দর্শন করতে। গিয়ে দেখে ট্রেকার্স হাটের বাইরে একটা storage room মতো, ভতরে চারিদিকে ময়লা সিমেন্ট বালি পড়ে আছে। এতদুর পর্যন্তও ঠিক ছিল। কিন্তু ঘরে একটা বড় জানালা ছিল, যেটাতে কোনও কাঁচ নেই। আর বাইরে থেকে হু হু করে হাওয়া ঢুকছে। মালিকরা ঠিক করলো কিছু করার নেই এখানেই থাকবে, যে করে হোক manage করে নেবে।
ইতিমধ্যে তখনও পার্থ দা আর বুদ্ধির (শরদিন্দু) দেখা নেই। আমাদের পেছনেই ওদের আসার কথা। রাস্তায় আসতে আসতে সান্তাজী অনেক কবার ওদের নাম ধরে চিৎকার করে ডেকেছিল কিন্তু কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ আবার আরেক টেনশন!
খচ্চরের পিঠ থেকে নামিয়ে কমলিদের রাখা হয়েছিল বাইরের ঘরে আর মালিক আমাকে নিয়ে এসে বসেছিল ভেতরে তাই কমলিকে আর দেখতে পাচ্ছিলামনা এই মুহূর্তে। আমার মনটাও আনচান করছিল ওকে দেখার জন্য। আমি মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম সুযোগ পেলে আজ আরেকটু এগোবো। মালিকের পিঠে করে আসার সময় রাস্তায় এক জায়গায় গাছ থেকে একটা সুন্দর পাহাড়ি ফুল আমার গায়ের ওপর এসে পড়ে। আমি ওটা যত্ন করে রেখে দিয়েছি chance পেলে কমলিকে দেব বলে ভেবেছি।
কিছুক্ষন পর পার্থদার গলা পাওয়া গেল, দেখলাম বুদ্ধি পার্থদার কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটছে। ঘরে ঢুকতেই সবাই জানতে চাইল কি হয়েছে? পার্থদা জানালো রাস্তায় বুদ্ধির পা মচকে গিয়ে হাঁটুতে চোট পেয়েছে। সারা রাস্তা পার্থদা ওকে কাঁধে ভর দিয়ে নিয়ে এসছে। আমি মালিক কে হাল্কা করে বললাম,
- মালিক এরা তো বড় বড় ট্রেক করা পার্টি, এদেরই এই অবস্থা সেই তুলনায় তুমি তো ঠিকই আছো।😉
মালিক একটু মুচকি হাসলো।
মনে হলো মালটা মজা পেয়েছে!!!
এর মধ্যে সান্তাজী আবার কোথা থেকে হন্ত দন্ত হয়ে ফিরে এসে জানালো,
- চলিয়ে ওর এক বান্দোবস্ত হো গেয়া।
ওখানে
forest department
এর কোনও এক ডিভিসনের একটা rest house রয়েছে। ওটার kitchen এ থাকার একটা ব্যবস্থা করা গেছে। ওটা ট্রেকার্স থেকে কাছেই। ফালুটে থাকার জন্য একমাত্র ভরসা এই Gorkha Hill Council এর ট্রেকার্স হাট। কোনও private property নেই ওখানে, এখন হতে পারে কিন্তু তখনও পর্যন্ত ছিলনা। আর এর আগে যখন মালিকের সাথে এসছিলাম তখন এই forest rest house ও ছিলনা। মালিকেরা সবাই যে যার ব্যাগপত্র নিয়ে forest rest house এর দিকে গেল।
Kitchen এ পৌঁছে মালিকেরা দেখলো যায়গাটায় খুব বেশি হলে ৩ জন থাকতে পারে আর তাদের ৮ জন কে থাকতে হবে সেখানে। তবে এই পরিস্থিতি তে ওটাই স্বর্গ। আসলে এখানে দুটো ঘর আছে একটাতে রান্না আর খাওয়া দাওয়া হয় আর তার পাশে এই ঘরটা। রান্নাঘরে ওখানকার Kitchen এর stuff, পার্থদা রা আর সান্তাজী শোবে। আর পাশের এই ঘরটা মালিকদের।
ওখানে পৌঁছেই সবার আগে মালিকদের এক রাউন্ড চায়ের অর্ডার হলো। জয়শ্রীর অবস্থাও মালিকের মতই ছিল। শরীরের সব energy শেষ। মালিক কে জানিয়েছিল যে ওও নাকি পাহাড় দুলতে দেখেছিল। পার্থদা দুজনকেই এক কোয়া করে পাহড়ি রসুন দিল, বললো চিবিয়ে খেতে, ভালো লাগবে। সৌমিক আর ভিক্টর গেল পাশের ঘরটাতে change করতে।
কিছুক্ষন বাদেই দুজনে সাপ সাপ করে চিৎকার করতে করতে Kitchen এ ছুটে এলো। সবাই ভয় পেয়ে গেল, জানতে চাইল কি ব্যাপার?
- ভিক্টর : ওই ঘরে একটা বড় সাপ ঝুলছে।
- সৌমিক : জিভ লক লক করছে আবার।
- Kitchen stuff : কাঁহা সাপ?😱
- সৌমিক : উস ঘর মে
- Kitchen stuff : ইস সময় সাপ!!! চলিয়ে তো দেখতে হ্যায়।
সবাই মিলে যাওয়া হল পাশের ঘরটাতে। গিয়ে দেখা গেল ওপর থেকে একটা দড়ি ঝুলছিল ঘরের মধ্যে। ছায়াতে ওটা এমনভাবে দুলছিল যে দেখে মনে হচ্ছে সত্যি একটা সাপ জিভ বার করে আছে। সবাই সেটা দেখার পর হেসে উঠলো।
- ভিক্টর : দেখেছিস! আমি বলেছিলাম ওটা দড়ি হতে পারে!😎
- সৌমিক : সাআআআলা চুপ কর!!!
আমি ওই ঘরেই ছিলাম শুধু চুপ করে দেখে যাচ্ছিলাম এদের কান্ড কারখানা। ভাবলাম মালিক কে গিয়ে বলি,
- মালিক, তোমার একারই hallucination হয়নি। সবারই অবস্থা খারাপ।
কিছুক্ষন পর অনির্বাণ বললো,
- এই ঠন্ডায় একটু গা গরম করবে না? রামচন্দ্রের আশীর্বাদ ছাড়া তো এই ঠাণ্ডার সাথে মোকাবিলা করা মুশকিল।
- সৌমিক : হ্যাঁ হ্যাঁ বাবা রামদেবের প্রসাদ ছাড়া আর চলবে না।
মালিক বলে রামচন্দ্র, রামদেব বা রাম গোপাল ভর্মা তাকে যে নামেই ডাকো না কেন, এই হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় সেই বুড়ো সাধুর যে কি মাহাত্ম টা একমাত্র যারা এর শরণে এসেছে তারাই জানবে।
এদের খালি গেলার ছুতো চাই, ব্যাস!
রাতে খাওয়া দাওয়ার পর এবার শোবার পালা। এই ছোট ঘরে আটজন যেভাবে নিজেদের শরীর কে বেঁকিয়ে মুডিয়ে শুলো, সেটাকে adjust করা না বলে একটা শিল্পকর্মের তকমা দেওয়া চলে। আর সারাটা রাত ধরে চললো, “অ্যাই তোর ঠ্যাং সরা”, “তোর কোমর টা আরেকটু বাঁকা, আমার পা adjust হচ্ছে না”, “সালা হাতটা নামা দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে”।
কমলি আমার পাশেই ছিল। সবাই যখন মোটামুটি একটু চুপচাপ হলো, আমি কমলিকে আস্তে করে বললাম,
- তোর জন্য একটা জিনিস এনেছি আমি।
- কমলি : কি রে?
আমি ফুলটা বার করে দেখিয়ে বললাম,
- আজ পেয়েছি রাস্তায় আসার সময়। তোকে দেব জন্য রেখে দিয়েছি।
- কমলি : বাঃ কি সুন্দর রে ফুলটা! দে আমায় পড়িয়ে দে।
আমি আকাশ থেকে পড়লাম, কি বলে রে!!!😳
- কমলি : কি হলো? ফুলটা পরিয়ে দে আমাকে!
বলে আমার দিকে ডানদিক হয়ে ঘুরে গেল। আমি আস্তে করে ওর পাশের ফিতেটা সরিয়ে সাইড পকেটের নীচে জলের বোতল নেবার যে যায়গাটা থাকে ওখানে ফুলটা আলতো করে গুঁজে দিলাম। আমার সারা শরীর তখন কাঁপছে। হাতল, স্ট্র্যাপ, চেন এমন কি চিন্তা ভাবনা পর্যন্ত অবশ হয়ে গেছে। মনে মনে ভাবলাম মালিকদের সারাদিনে আজ কতটুকুই বা hallucination হয়েছে আর কিই বা নেশা করেছে! এই কয়েক মুহূর্তের জন্য আমি যেটা feel করলাম সেটা ওদের নেশার চাইতে কয়েক লক্ষ গুন বেশি।
একই রাত, একই ঘর, একদিকে মালিকেরা ছটফট করছে কত তাড়াতাড়ি ভোর হয়,
আর আমি? 🥰
🎼“শুধুউউউ দুজনের,
এই রাত শুধু যে গানের ।
এই ক্ষণ এ দু'টি প্রাণের ।
কুহূ কূজনের-
এই রাত তোমার আমার…“






No comments