মানুষের ঈশ্বর নাকি ট্রাঙ্কেশ্বর (আমাদের ইষ্ট দেবতা) কার কৃপায় জানিনা। বাইরে অবশেষে হালকা আলোর ছটা দেখা গেল। ভোর তো হলো এবার চিন্তা আমার মালিকটা বেঁচে আছে কিনা? বেশীক্ষণ চিন্তা করতে হলো না। একটু বাদেই অনির্বাণের গলা পাওয়া গেল,
- অনির্বাণ : নবারুন! আছো?
আমি খুব tension এ ছিলাম, কোনও উত্তর আসবে কিনা! কিন্তু মালিক কাঁপা কাঁপা গলায় ক্ষীণ কণ্ঠে উত্তর দিল,
- হুঁ।
আমি মনে মনে ভাবলাম, "যাক বাবা আমার গল্প টা তাহলে এগোবে, মালিকের নামে চন্দ্রবিন্দু পড়ে গেলে আমার গল্পে ওখানেই দাড়ি পরে যেত চিরতরে। "
-অনির্বাণ : বাইরে আলো দেখা যাচ্ছে। তাবুর বাইরে বেড়োই চলো।
মালিকের কথা বলার শক্তিটুকুও নেই তখন। মিন মিন করে বললো,
- তুমি ওঠো আমি উঠছি।
অনির্বাণ নিজের sleeping bag এর chain খোলার জন্য হাত বাড়ালো। সাথে সাথে হাতটা সরিয়ে নিয়ে বললো,
- এই নবারুন দেখো তো আমার sleeping bag এর ওপর কি?
মালিক হাত বাড়িয়ে দেখলো, অনির্বাণের sleeping bag এর ওপরে পুরো গুঁড়ো গুঁড়ো বরফে ভর্তি। অনির্বাণ সব বরফ টরফ ঝেড়ে ঝুড়ে sleeping bag থেকে বাইরে বেড়িয়ে তাবুর বাইরে বেরোবার জন্য প্রস্তুত হলো। মালিকও ইতিমধ্যে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অনির্বাণ তাবুর চেইন খোলার সাথে সাথে বাইরেটা দেখতে পেলাম অনেকটাই ফর্সা হয়ে এসেছে। আর পূবের কোনে বরফে ঢাকা পাহাড় চূড়া গুলোর গা বেয়ে একটা হাল্কা কমলা আভা ফুটে উঠেছে।
আবার সালা কমলা!!! সকাল সকাল কমলি কে মনে করিয়ে দিলো। মনে মনে হাসিও পেল। মালিক একবার ওদের এক শহুরে হিরো শহরুক খান না কি যেন নাম, ওর একটা ছবি দেখিয়েছিল। ওখানকার একটা সংলাপ মনে পড়ে গেল। সংলাপটা খানিকটা এরকম ছিল,
"যখন তুমি কোনও জিনিসকে মন থেকে চাইতে আরম্ভ করো, তখন এই জগৎ সংসারের প্রতিটি বস্তু তোমাদের মিলন ঘটানোর জন্য তৎপর হয়ে ওঠে"
তবে জগৎ সংসারের হাতে সবটা ছেড়ে দিলে তো আর চলবে না, আমাকেও তৎপর হতে হবে। এসব romantic ভাবনা চিন্তা মনের মধ্যে চলছিল তার মধ্যে মালিক sleeping bag ছেড়ে উঠে অমার ভেতরে গত রাতের বার করা সমস্ত নোংরা কাপড় চোপড় ঠেসে ঠেসে ঢোকাতে লাগলো। রোমান্সের পিন্ডিটাই পুরো চটকে দিল।
অন্যান্য তাবু থেকেও তখন ধীরে ধীরে সবাই বেরোতে আরম্ভ করেছে। সবার মুখে একটাই কথা,
"সালা মরার মুখ থেকে ফিরে এলাম মাইরি।"
সবারই চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ, ঘূম কারোরই হয়নি গত রাতে। কিছুক্ষণ পর সামনের তাবু থেকে ভিক্টর বেড়িয়ে এলো, গলায় ক্যমেরা ঝুলিয়ে। সবার আগে দীপ এগিয়ে গেল ভিক্টরের কাছে মালিকদের মুখপাত্র হয়ে,
- "সালা, আমাদের মারার চক্রান্ত করেছিস তাই না? এইভাবে এই ঠান্ডা হাওয়ার মধ্যে তাবুতে…"
ভিক্টর থামিয়ে দিয়ে বললো,
- "কি expact করে এসছিলি এখানে? fire place এ আগুন জ্বলবে আর তুই সোনার পালঙ্কে বালাপোশ জড়িয়ে ঘুমোবি? যাই হোক আমি যাচ্ছি sunrise দেখতে তোরা আসবি কি কেউ?"
বলার সাথে সাথে মালিক রা সবাই এদিক ওদিক ছিটকে গেল। ভিক্টর একটা উঁচু যায়গার দিকে এগিয়ে গেল সুর্যদয়ের ছবি তোলার জন্য। ও চলে যাবার পর,
-জয়শ্রী : ও না এরকমই! আমার সাথেও এরকম করে। অথচ নিজেও সারা রাত ঠকঠক করে কেঁপেছে ঠান্ডায়। আর আমার তো প্রান যায় যায় অবস্থা
এদিকে আমাদের তাবুতে কাহারবা তালে হাল্কা নাক ডাকা তখনও অব্যাহত, তাবুর তৃতীয় ব্যক্তির থেকে। গোলু বললো, বাড়িতেও নাকি এরকমই করে। ওদের সাথে খোশগল্প করছি আর মনটা পড়ে আছে পাশের তাবুতে।
মালিক আর বাকি সবাই গেল ভিউ পয়েন্টেটার দিকে। ওই যায়গাটা চারিদিকে কাঁচ দিয়ে ঘেরা। ভেতরটা নাকি বেশ উষ্ণ বাইরের তুলনায়। ওখানে বসে মালিকরা সবাই আলোচনা করতে লাগলো, প্রথম রাতেই তাবুতে থেকে এই হাল হলে পরের রাতগুলোর কি দশা হবে! 🥶 ইতিমধ্যে পার্থদা রা উঠে পরেছে, ওরা যখন তাবু গোটানোর জন্য সামনে এলো, তখন মালিকরা সব রে রে করে তেড়ে গেল তার কাছে।
- সৌমিক : এগুলো কেমন tent আর sleeping bag দিয়েছো পার্থদা?
- পার্থদা: (অবাক হয়ে) কেন? কি হলো?
সবাই যে যার অভিজ্ঞতার কথা শোনাতে লাগলো। অঅভিজ্ঞতা টা খিচুড়ি হলেও পরিবেশনের সময় সেটা মশলা বিরিয়ানি হয়ে উঠেছিল। কিছুক্ষণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চলার পর এই সিদ্ধান্তে আসা হয় যে এই tent এ আর থাকা যাবেনা। এদিকে মালিকদের যে প্ল্যান ছিল তাতে tent ছাড়া রাত কাটানোর আর কোনও উপায়ও নেই। তাই রাস্তা একটাই, সেটা হলো রুট পরিবর্তন করা। আগে কথা ছিল এখান থেকে ফালুট টপ হয়ে চুয়াভঞ্জন হয়ে কালিঝাড় হয়ে উত্তরে তে যাওয়া। ফালুটের পর এই রাস্তায় কোনও trekkers hut নেই সেজন্য ওখানে tent ছাড়া আর কোনও গতি নেই। তাই ঠিক হলো next যাওয়া হবে ফালুট সেখানে trekkers hut এ থাকা হবে, সেখান থেকে নেমে আসা হবে গোর্খেতে তারপর গোর্খে থেকে রিব্ধি হয়ে ফেরা। এই সমস্ত যায়গাতেই trekkers hut আছে। আমাদের গাইড সান্তাজী সব ব্যবস্থা করে দেবে।
মালিকেরা যে যার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমাদের ভেতর পুরে ঐ ছোট ঘরটাতে breakfast এর জন্য গেল। ওই ঘর টার পেছন দিকে বাথরুমের ব্যবস্থা। সেখানে আবার আরেক গল্প, প্রথমে গোলাম হাল্কা হতে গিয়েছিল সে এসে জানালো বালতি তে যে জল ছিল তা পুরো বরফ হয়ে আছে। অনির্বাণ জিজ্ঞাসা করলো,
-তাহলে ধুলি কি দিয়ে।
- গোলাম : অনেক কষ্টে বরফের একটা টুকরো ভাংতে পেরেছিলাম সেটাই…
যাইহোক বিশদ বিবরনে আর গেলাম না। মালিক আমার এসব situation জন্য আগে থেকেই তৈরি থাকে, toilet paper এর roll সাথে নিয়েই চলাফেরা করে।
সালা ইংরেজের বাচ্চা!
ইতিমধ্যে মালিকরা সবাই বলাবলি করতে শুরু করে দিয়েছে এভাবে ক্লান্তিকর শরীর নিয়ে কিভাবে আজ ২০ কিমি হাটবে। কেউ কেউ আবার বলছিল, "একবার গাড়ির ব্যবস্থা করে দেখলে হয় না?" সান্দাকফু থেকে ফালুট পর্যন্ত এখন গাড়ির ব্যবস্থা আছে। মালিকের সাথে আগে যখন এসেছিলাম তখন এই রাস্তায় গাড়ির ব্যবস্থা ছিল না। সান্দাকফু পর্যন্তই গাড়ি চলতো। মূলত ল্যান্ডরোভার চলে এই রাস্তায়। এবার প্রশ্ন হলো গাড়ির কথা ভিক্টর কে বলবে কে? দায়িত্ব পরলো গোলামের ওপর,
- গোলাম : শোন না, আজকে তো অনেকটা হাঁটা আর শরীর ও ক্লান্ত, তাই সবাই বলছিল যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করা যায়!
- ভিক্টর : তোরা গাড়ি তে যা হেলিকপ্টারে যা, যাতে ইচ্ছে করে যা আমি হেঁটেই যাব। আর পরের বার ট্রেকে আসার আগে ডাক্তারের থেকে fitness certificate নিয়ে আসবি।
মালিক আর সৌমিক আগে থেকেই জানতো, reaction টা এরকমই হবে। ভিক্টরের উত্তরটা শুনে দুজনেই হো হো করে হেসে উঠলো আর স্পষ্ট দেখতে পেলাম একজন আরেকজনকে hi five দিল। বহুত মিচকে শয়তান আছে এদের গ্রুপটা।
যাইহোক ultimately গাড়ী পাওয়া যায়নি।
ইতিমধ্যে পার্থদা আর শরদিন্দু tent ফেন্ট সব গুটিয়ে pack করে একটা যায়গায় রেখে হাসতে হাসতে মালিকদের দিকে এগিয়ে এলো। ওরা নিজেদের মধ্যে কিছু একটা বলাবলি করছিল আর হাসছিল। কাছে এসে ব্যপারটা যখন বললো আমি তো শুনে পুরো থ।
- পার্থদা : spanish couple এর যে গাড়িটা ছিল ওটার পাশ থেকে সকালে মেডিসিনের প্যকেট পাওয়া গেছে।
- সৌমিক : কিসের মেডিসিন?
পার্থদা সৌমিকের কানে কানে কি যেন একটা বললো
-সৌমিক : কি বলছো!!! 😳
- মালিক : আরে আমাদেরও বলো।
- পার্থদা : তোমরা কাল সারারাত মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করেছো আর ওরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করেছে আর বর্ম-র প্যাকেটটা বাইরে ফেলে রেখেছে।
(সবাই প্রথমে চোখ ছানাবড়া করলো তারপর হো হো করে হেসে উঠলো)
- অনির্বাণ : বুঝলামনা কিসের প্যাকেট ছিল?
- ভিক্টর : সালা টিউবলাইট।
আমি সব কিছু শোনার পর একবার কাল রাতে মালিকদের অবস্থাটা চিন্তা করলাম তারপর একই সময়ে spanish দের কথা ভাবলাম তারপর আমার দুদিকের দুটো স্ট্র্যাপ সামনে এনে আকাশের দিকে নমষ্কার করে বললাম,
- রক্কে করো রঘুবীর 🙏 এরা সত্যিই cultivate করার মতো।
সবার
tent, sleeping
bag
এবং মালিকদের কিছু রুকস্যাক বহন করার জন্য খচ্চরের ব্যবস্থা ছিল। মালিকদের অনেকেই সেখানে তাদের রুকস্যাক জমা দিয়ে দিয়েছিল কিন্তু মালিক আমাকে ছাড়তে নারাজ। মালিক আমাকে পিঠে নিয়েই সারা রাস্তা হাটবে। এজন্যই মালিকে এত ভালোবাসি 😘।
মালিকরা যখন breakfast করছিল তখন আমাদের সবাইকে বাইরে একসাথে রেখেছিল। ভোরের সূর্যের আলো কমলির মুখে এসে পরছে আর হাওয়াতে ওর সাইডের ফিতে দুটো মাঝে মাঝে পত পত করে উড়ছে। কি যে উথাল পাথাল হচ্ছে বুকের ভেতরটা তা আর কি বলি!!!
- আমি : কমলি, কাল রাতটা কেমন কাটলো?
- কমলি : উফ সে আর বলিস না! মালকিন খালি বলে যাচ্ছে, "আমি ঠান্ডায় মরে যাচ্ছি" আর ওর বর নিজে কাঁপতে কাঁপতে ওকে সমানে বলে যাচ্ছে, "সব তোর মনের ভুল, এসব তোর মনে হচ্ছে"। আমি শুধু দেখছি আর হাসছি। তবে মালকিনের একটা লাভ হয়েছে, ভিক্টর বলেছে তাকে আর কাল কষ্ট করে রুকস্যাক বইতে হবে না। ওটা খচ্চরের পিঠে চালান করে দেবে।
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি এরা বিয়ের আগের তুইতোকারি টা বিয়ের পরেও ছাড়তে পারেনি, অধিকাংশ বন্ধুত্ব থেকে বিয়েতে পরিনত হওয়া প্রেমের ক্ষেত্রে যা হয় আর কি! কিন্তু তুমির মজা তুমিতেই আছে বস!!!
- কমলি : আর তোমাদের কেমন কাটলো?
- হোৎকা : আমারতো সারা রাত কখনও কাহারবা কখনও দাদরা এই নাসিকা ছন্দের তাল গুনে গুনেই কেটে গেল।
- গোলু : last ট্রেকে একটা বিদিশি রুকস্যাকের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছিল। আমি ওর কথাই ভাবছিলাম, নাম ছিল 'পারপেল'। Venezuela তে থাকতো। আমাদের বেশ ভালো বন্ধুত্ব জমে উঠেছিল। হয়তো সম্পর্ক টা চাইলে আরেকটু আগেও যেতে পারতো। কিন্ত…
বলেই থেমে গেল
- কমলি : তাহলে গেলনা কেন?
- গোলু : ধুর গাঁজা খায়।
- কমলি : গাঁজা খায় তো কি হলো?
- গোলু : মা কে কি বলবো?
- কমলি : এর মধ্যে আবার মা এলো কোথা থেকে?
- গোলু : বাঃ বিয়ে করবো মা কে না জানিয়ে?
আমরা সবাই একঅসাথে বলে উঠলাম,
- বিয়ে!!! 😳
কমলি : তুই বিয়ে অবধি ভেবে নিয়েছিলি?
বলে ওর সাইডের ফিতে দুটো একসাথে সামনে এনে জড়ো করে নমষ্কারের ভঙ্গিতে বললো, "ধন্য তুমি 🙏"। তারপরেই আমার দিকে তাকিয়ে,
- কমলি : আর তুই?
- আমি : আমি আর কি? আমারও একই ভাবে কেটেছে সারাটা রাত দুশ্চিন্তায়।
- কমলি : ধুর, আমি girlfriend এর কথা জিজ্ঞেস করছি। তোরও কি এরকম কেউ আছে নাকি?
- আমি : আছে তো। অবশ্যই আছে। কিন্তু আমি মুখে এখনো বলিনি তাকে।
- কমলি : কিসের জন্য অপেক্ষা করছিস? মায়ের অনুমতি 🤣
এটা শুনে সবাই একচোট হো হো করে হেসে উঠলো (গোলু ছাড়া)। আমি কিছুটা আঁচ করতে পারলাম, "যো হাল দিল কা ইধার হো রাহা হ্যায়, হয়তো উও হাল দিল কা উধার ভি হো রাহা হ্যায়" একটু সাহস করেই বলে ফেললাম,
- আমি : বলা কি শুধুমাত্র মুখের ভাষাতেই বলতে হয়? আমি মনে করি প্রেমের প্রথম ভিত্তি বন্ধুত্ব। ভালো করে একে অপরকে জানি। তারপর প্রেম হবার হলে হয়ে যাবে।
- কমলি : আচ্ছা!!! আর অপর পক্ষের যদি তার মধ্যেই প্রেম হয়ে যায়? তখন কি হবে?
এটা শোনার পর আমার heart টা মনে হচ্ছিল নাচতে নাচতে পুরো বাইরেই বেরিয়ে আসবে। কি বলবো মনে মনে কথা সাজাতে লাগলাম।
আর সালা তখনই মালিকদের breakfast শেষ হবার ছিল। প্রেমের গাড়িটা সবে start নিয়েছিল, সেটা ওখানেই আবার আটকে গেল। মালিকেরা যে যার মতো আমাদের পিঠে চড়িয়ে নিলো। পরবর্তী গন্তব্য ফালুট। অদৃষ্টের পরিহাসে আমি উঠলাম মালিকের পিঠে আর কমলি উঠলো খচ্চরের পিঠে। গন্তব্য ফালুট।
ফালুট যাবার রাস্তাটা শুরুতে প্রায় সমতল তারপর একটা meadow মতো যায়গা পরে তারপর বেশ খানিকটা উঠে সবরগ্রাম বলে একটা যায়গা আসে। সেখান থেকে আবার কিছুটা নামা তারপর শেষ ২.৫ কিমি খাড়া ওঠা। মালিকরা সবাই একসাথেই রওনা দিল। মালিকের ইচ্ছা ছিল ঠিকই আগে আগে রওনা দেবার। কিন্তু গতকালের ঘটনা ভেবে আর বলার সাহস পেল না। শুরুতে যেহেতু প্রায় সমতল মালিকরা আর খচ্চর একই সাথে এগোচ্ছিল। মুশকিল টা হলো স্যাম ও ছিল একই খচ্চরে। আমি কমলির পাশে পাশেই চলছিলাম মালিকের পিঠে চড়ে। কানে এলো ওর আর স্যামের কথপোকথন।
- স্যাম
: girlfriend!
No way!!
আগে আমি আমার life টা enjoy করতে চাই, তারপর ওসব ঝামেলার মধ্যে যাব।
- কমলি : ঝামেলা! girlfriend মানে ঝামেলা? 😡
- স্যাম : হ্যাঁ আমার বন্ধুদের দেখে তো সেটাই মনে হয়। অবশ্য তোকে দেখে সেরকম মনে হয় না। তুই সেরকম টাইপ না।
- কমলি : আমি কিরকম টাইপ?
আমি ততক্ষনে ওদের পাশে চলে এসেছি।
- আমি : তুই chill টাইপ। judgemental নোস।
কমলি আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
- কমলি : আর তোর বলতে না পারা girlfriend? সে কি টাইপ?
এমন সময় খচ্চরের কি মনে হলো কে জানে। এতক্ষন টুক টুক করে চলছিল আমাদের সাথে সাথে, হঠাৎ করে সে তার speed বাড়িয়ে দিল। সাধে কি আর লোকে এদের খচ্চর বলে? আমি মালিককে বললাম
- মালিক, একটু জোরে চলো।
রাস্তাটা যাহেতু সমতল ছিল তাই মালিক যথাসম্ভব খচ্চরের সাথে তাল মিলিয়ে ছুটতে লাগলো। যখন আমরা আবার খচ্চরের কাছে পৌঁছলাম তখন কমলিকে বললাম,
- আমার girlfriend সম্পর্কে তোর এত interest কেন?
- কমলি : আরে বলে ফেল, কে বলতে পারে যদি কোনও সাহায্যে লেগে যাই 😉
লক্ষ করলাম ওর ঠোঁটের কোনে একটা দুষ্টুমির হাসি চিক চিক করছে।
আমার প্রেম কাহিনী তে ইন্ধন যোগাতে মালিকও হাঁপাতে হাঁপাতে খচ্চরের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছে। কিছুক্ষন পর সেই meadow বা বাংলায় যাকে বলে তৃণভূমি মতো যায়গাটাতে এলাম। এই যায়গাটা সত্যিই খুব সুন্দর। মালিকের সাথে অনেকবারই এসছি এখানে প্রতিবারই যায়গাটা দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই। তার ওপর এবার সাথে কমলি, ব্যাপারই আলাদা। অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত একটা ঢেউ খেলানো মাঠের মতো যায়গা৷। শুরুতে একটা ছোট জলাশয় মতো আছে। পাশেই একটা সীমা সুরক্ষা বল এর camp. মালিকরা কিছুক্ষন বসে জিরিয়ে নিল। তারপর আবার চলা শুরু।
এর পরের রাস্তাটা সবরগ্রাম পর্যন্ত পুরোটাই চড়াই। সান্তাজী একটা শর্টকাট রাস্তা ধরে যাবার কথা বললো। সেটা ধরে গেলে একটা ছোট পাহাড়কে সরাসরি ডিঙাতে হবে। একে চড়াই তার ওপর খাড়া চড়াই। মালিকের তো আত্মারাম খাঁচা। ইতিমধ্যে খচ্চর স্বাভাবিক ভাবেই খানিকটা এগিয়ে গেছে। আমি মালিক কে বললাম,
- মালিক, একটু জোরে
মালিক হাফাতে হাফাতে উঠতে লাগলো খচ্চরের কাছে পৌঁছাবার জন্য। কিন্তু ব্যাপারটা কি আর এত সোজা? মানুষের সাথেই যেখানে সবার শেষে থাকে ওঠার সময়, আর এতো সালা খচ্চর। তবু যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলো, দু চারবার হোঁচট ও খেল। ঘেমে নেয়ে একাকার। হৃদপিণ্ডটা মনে হচ্ছে খুলে বাইরে বেরিয়ে আসবে। খচ্চরের থেকে দূরত্বটা একটু কমেছে। আমি মালিক কে বললাম,
- মালিক আরেকটু জোরে।
এবার মালিক পাশে একটা পাথরের ওপর বসে পরলো। এখন ভাবলে খারাপই লাগে, কিন্তু ওই যে "পেয়ার অন্ধা হোতা হ্যায়"। মালিকের তখন কথা বলারও ক্ষমতা নেই। কিছুক্ষণ শ্বাস নেবার পর একটু স্বাভাবিক হয়ে জল টল খেয়ে। আমার দিকে পেছন ফিরে তাকিয়ে বললো,






No comments